নিজস্ব প্রতিবেদক,
জাতীয় বৃক্ষমেলায় অংশ নিয়ে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ বন্ধু ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটি গ্রামাঞ্চলে মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করছে এবং গাছের পরিচর্যা থেকে ফলন পর্যন্ত ২০ বছর ধরে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তবে এর বিনিময়ে তারা গাছের মালিকানা নয়, বরং গাছ যে কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করবে, সেই কার্বন ক্রেডিটের মালিকানা নিজেদের কাছে রাখছে।
প্রতিষ্ঠানটির এজিএম মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া জানান, বাংলাদেশ বন্ধু ফাউন্ডেশন ২০৩০ সালের মধ্যে সারাদেশে ৬ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যে ‘সোশ্যাল ফরেস্ট্রি’ বা জলবায়ুবান্ধব বৃক্ষরোপণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান।
তিনি বলেন, গ্রামের যেসব বাড়ির আশপাশে পতিত বা অনাবাদি জমি রয়েছে, সেসব জায়গায় দেশীয় ও পরিবেশ উপযোগী গাছ লাগাতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গাছ রোপণ, পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং ফলন বৃদ্ধির কৌশল সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় অংশগ্রহণকারী জমির মালিকদের সঙ্গে ২০ বছরের একটি চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে গাছ কাটা যাবে না। গাছের মালিকানা ও ফলের অধিকার সম্পূর্ণভাবে জমির মালিকের কাছেই থাকবে। তবে গাছ যে কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করবে, সেই কার্বন ক্রেডিটের মালিকানা থাকবে বাংলাদেশ বন্ধু ফাউন্ডেশনের।
মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বলেন, “আমরা গাছের মালিকানা নিচ্ছি না। আমাদের দেওয়া কারিগরি সহায়তার বিনিময়ে শুধুমাত্র গাছের কার্বন শোষণের অধিকার বা কার্বন ক্রেডিটের মালিকানা বন্ধু ফাউন্ডেশনের থাকবে।”
এদিকে, উপকূলীয় অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে ম্যানগ্রোভ বনায়নের উদ্যোগও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি জানান, বন অধিদপ্তরের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে বরগুনা, পিরোজপুর ও ভোলা জেলার তিনটি উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোভ বন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) শুরু হয়েছে এবং তিন জেলার ১৮টি চরকে বনায়নের জন্য উপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের অক্টোবর থেকে উপকূলীয় বনায়নের কাজ শুরু হবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮