মির্জা গোলাম হাফিজ, গাইবান্ধা,
গাইবান্ধার সাঘাটায় অবৈধভাবে নৌপথে জ্বালানি তেল পাচারে বাধা প্রদান করায় সাঘাটা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মো. সোহেল রানার ওপর হামলা, মারাত্মক জখম ও জীবননাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও কৃষক লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী যুবদল নেতা।
রবিবার ১৮ই অক্টোবর সকাল ১১টায় সাঘাটায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাঘাটা ইউনিয়নের বাঁশহাটা গ্রামের শফিউল ইসলামের ছেলে মো. সোহেল রানা জানান, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮:৩০ ঘটিকার সময় সাঘাটা থানাধীন হাট ভরতখালী নৌকাঘাটে অবৈধভাবে ৪০ ব্যারেল ডিজেল ও ১০ ব্যারেল অকটেন নৌ-পথে পাচার করা হচ্ছিল। উক্ত পাচার কাজে বাধা দিলে পাচারকারী চক্রের সাথে তার বাকবিতণ্ডা হয়।
এরই একপর্যায়ে সাঘাটা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি মো. সুজ্জা উদ-দৌলা সুজা, সাঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন সুইট, মো. প্রান্ত মিঞা, মো. দুলু মিঞা, মো. মেহেদী হাসান বাবলু, মো. শাহিন প্রামাণিক ও মো. রকি সহ অন্যান্য আসামিরা তার পথরোধ করে।
সংবাদ সম্মেলনে সোহেল রানা অভিযোগ করে বলেন, "সুজ্জা উদ-দৌলা সুজার হুকুমে অপরাপর আসামিরা লাঠি, সোডা ও লোহার রড দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি মারধর করে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে এবং গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে ভীতি প্রদর্শন ও জীবননাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর তার এক বন্ধুর মুঠোফোনে ফোন দিয়ে সুজ্জা উদ-দৌলা সুজা তাকে পা ধরে মাপ চাইতে বলে, অন্যথায় ভরতখালীতে ঢুকতে না দেওয়ার হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় সাঘাটা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। ভুক্তভোগী সোহেল রানা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক ন্যায়বিচারের জোর দাবি জানান।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮