মাহবুবুর রহমান (শান্ত),
ঢাকাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ এবং আহত ও নির্যাতনের শিকার ছাত্র-জনতার প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গণতন্ত্র মা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।
বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র অধিকার গণতন্ত্র পরিষদ—‘The Mother of Democracy’-এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৪-এর ঘটনায় প্রায় ১,৫০০ জন শহীদ, ২,০০০ জন আহত এবং প্রায় এক লাখ ছাত্র-জনতা মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ ও ত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির অনুপস্থিতিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য ও প্রতিনিধিত্ব করেন নাদিম চৌধুরী, প্রধান-মুখ্য সমন্বয়ক, মৎস্যজীবীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬ পার্টি সংগঠন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সভাপতি পদপ্রার্থী; তিনি বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাদিম চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেঘনা আলম, কেন্দ্রীয় নেতা ও মুখপাত্র, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল। তিনি বলেন, গণতন্ত্র কোনো ব্যক্তির একক বিষয় নয়; এটি জনগণের অধিকার। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ তাঁর বক্তব্যে জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এম.এ মজনু মিয়া। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র মা দিবস’ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও ত্যাগকে স্মরণ করার একটি উদ্যোগ। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
এ সময় মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জাতীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের মাঝে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮