অরবিন্দ রায়,
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ধর্মাবলম্বীদের শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মন্দিরে ও বাড়িতে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পূজা- অর্চনা, কীর্তন,
গীতাপাঠ, আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও প্রসাদ বিতরনের আয়োজন করা হয়।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিকেলে বিভিন্ন এলাকায় বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার সাজে শিশু -কিশোর সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশ নেন। ঢাক - ঢোল, কীর্তন ও ধর্মীয় গানে শোভাযাত্রা উৎসব৷ মুখর হয়ে ওঠে।
শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ভোর ২ টা ২৫ মিনিটে
অষ্টমী তিথি শুরু হবে, ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২ টা ১০ মিনিটে অষ্টমী তিথি শেষ হবে। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর রাতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টীর মূল নিশীথ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ অষ্টমী তিথিতে মথুরায় কংসের কারাগারে শ্রীকৃষ্ণ জন্ম নিয়েছিলেন। সেই জন্মতিথি স্মরণে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন করে থাকেন। শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সারা দেশে ও জাতির মঙ্গল কামনায় মন্দিরে মন্দিরে গীতা পাঠ ও বিকেলে ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমীর মিছিল ও রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সনাতন ধর্ম অনুযায়ী, পৃথিবীতে যখনই অধর্ম বেড়ে গিয়ে ধার্মিক ও সাধারন মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের মাধ্যমে ধর্মের রক্ষার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অবতার রুপে পৃথিবীতে নেমে আসে।
জানা যায়, দ্বাপর যুগে অত্যাচারী রাজা কংসের নৃশংসতায় মথুরাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। কংসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা শুরু করে। ভক্তের ডাকে সাড়া দেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
রাজা কংস একদিন তার ছোট বোনকে দেবকী ও তার স্বামী বাসুদেব কে নিয়ে রথে চড়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ এমন সময় দৈববাণী হলো, " বোন দেবকীর অষ্টম সন্তানই হবে তার মৃত্যুর কারন। "
রাজা কংস দৈববাণী শুনে সাথে সাথে তার
বোনকে হত্যা করতে উদ্যত হলেন। বাসুদেব নিভৃত করলেন। বাসুদেব বললেন আমাদের দুজনকে কারাগারে আটকে রাখুন। আমাদের সন্তান হলে আপনার হাতে তুলে দিব। আপনি আমাদের সন্তানকে হত্যা করে নিজের সংশয় কাটাবেন ।
বাসুদেবের যুক্তি রাজা কংসের ভালো লাগলো। কংস তাদের কারাবন্দি করে রাখলেন। কারাগারে থাকার সময় দেবকি ও বাসুদেবের একে একে ছয়টি সন্তান কংসের হাতে তুলে দেন। সপ্তম সন্তান হাতে নেবার পরই সে হাসতে হাসতে শূন্যে ভেসে যায়। কংসকে তার মৃত্যু অবধারিত বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে শূন্যে ভেসে যেতে থাকে।
দেবকির অষ্টম সন্তানের জন্ম নেয় ভ্রাদ্র মাসের শুক্লা পক্ষের অষ্টমী তিথির রাতে। সেই রাত ছিল প্রচন্ড ঝড় -বৃষ্টি। বৈরী আবহাওয়ার কারনে কারাগারের ফটকে কোন রক্ষী পাহারায় ছিল না।
এমন সময় এক দৈববাণীতে সদ্যোজাত ছেলে সন্তানকে নিরাপদে গোকুলে নন্দ - যশোদা দম্পতির কাছে রেখে আসতে বলা হয়। এ সময় কারাগারের দরজাও খুলে যায়। বাসুদেব ঝড় - বৃষ্টির উপেক্ষা করে ছেলেকে নিয়ে গোকুলে যায়। গোকুলে যশোদার পাশে ছেলেকে রেখে যশোদার মেয়ে সন্তানকে নিয়ে আবার কারাগারে ফিরে আসেন।
গোকুলেই যশোদার কাছে বড় হতে থাকেন শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণ যুদ্ধে মথুরারাজ কংসকে পরাজিত ও হত্যা করে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, পাশবিক শক্তি যখন সত্য, সুন্দর ও পবিত্রতাকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়। ধর্ম সংস্হাপনের জন্য ভক্তের প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে ঈশ্বর অবতার রুপে পৃথিবীতে আসেন। পৃথিবীতে যখনই পাপাচার শুরু হয় তখনই শ্রীকৃষ্ণ দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ, সাধুর রক্ষা, ধর্ম সংস্হাপনের অবতার রুপে পৃথিবীতে আসেন।
শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদূর হবে - এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
নতুন প্রজন্মকে শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও আর্দশের সাথে পরিচিত করে তুলতে হবে। সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা, বড়দের সম্মান করা,অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার শিক্ষা শিশু - কিশোরদের দিতে হবে। সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হোক এ বছরের শুভ জন্মাষ্টমী।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮