এম জালাল, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:
উপকূলীয় অঞ্চল খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে আঙ্গুর চাষে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কপিলমুনি ইউনিয়নের বিরাশি গ্রামের উদ্যোক্তা তৈয়েবুর রহমান। সীমিত জমিতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে লাভজনক কৃষি যে সম্ভব-তার বাস্তব প্রমাণ মিলেছে তার এই উদ্যোগে।
জানা যায়, প্রায় তিন শতক জমিতে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে আঙ্গুর গাছ লাগিয়েছেন তিনি। গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র দুটি গাছ রোপণ করেন। সেই গাছে আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় উৎসাহিত হয়ে প্রায় আট মাস আগে আরও ২০টি জিও ব্যাগে আঙ্গুর চাষ শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় প্রায় এক কেজি বা তারও বেশি আঙ্গুর ধরেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
জিও ব্যাগে লাগানো গাছগুলো মাচার মাধ্যমে উপরের দিকে ছড়িয়ে দেওয়ায় গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দুটোই ভালো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তৈয়েবুর রহমান বলেন, অনলাইনে বিভিন্ন তথ্য দেখে আমি আঙ্গুর চাষ শুরু করি। আগে স্কোয়াশ চাষ করে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কৃষকের স্বীকৃতি পেয়েছি। এখন আঙ্গুর চাষে সফলতা পেয়ে আরও বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা করছি। কেউ আগ্রহী হলে আমি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এদিকে উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের তহিদুল ইসলামও আঙ্গুর চাষে সফল হয়েছেন। তিনি ইতোমধ্যে তিনটি জাতের আঙ্গুর চাষ করছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. একরামুল হোসেন বলেন, উপকূলীয় এলাকায় আঙ্গুর চাষ একটি ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। তৈয়েবুর রহমান ও তহিদুল ইসলামের সফলতা অন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করবে। ভবিষ্যতে এ চাষ আরও বিস্তৃত আকারে ছড়িয়ে পড়বে বলে আমরা আশাবাদী।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮