ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম,
দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে বিভিন্ন সময়ে আত্মসমর্পণ করা ১২৭ জন ‘আলোর পথের অভিযাত্রী’র মাঝে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা-২০২৬ উপলক্ষে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ ও বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম। রবিবার (২৪ মে) সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণকারী সাবেক জলদস্যুদের বর্তমান জীবনযাপন, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। র্যাব সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাহিনীটি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুতা, ডাকাতি, অস্ত্র ব্যবসা ও অপহরণের মতো অপরাধ দমনে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, দুর্ধর্ষ ডাকাত, চাঁদাবাজ, খুনি, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করায় সাধারণ মানুষের মাঝে বাহিনীটির প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হয়েছে। র্যাব-৭, চট্টগ্রামের বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে ২০১৮ এবং ২০২০ সালে মোট ৭৭ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব জলদস্যুরা দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় অঞ্চলে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও র্যাবের উদ্যোগে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পান। আত্মসমর্পণের পর তাদের পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা, সামাজিকভাবে পুনঃএকীভূতকরণ এবং বিভিন্ন সময়ে মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে র্যাব। পরবর্তীতে উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুতা ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে আরও ৫০ জন জলদস্যুকে আত্মসমর্পণে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয় র্যাব-৭, চট্টগ্রাম। এ নিয়ে মোট ১২৭ জন সাবেক জলদস্যু বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করছেন বলে জানায় র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় মহাপরিচালক, র্যাব ফোর্সেসের পক্ষ থেকে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী ও পেকুয়া উপকূলীয় অঞ্চলের আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের মাঝে ঈদ শুভেচ্ছা ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। চট্টগ্রামের পতেঙ্গাস্থ এলিট হল পতেঙ্গা-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে এক আন্তরিক মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেঃ কর্ণেল মোঃ হাফিজুর রহমান। এছাড়াও র্যাব-৭, চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সদস্যবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় আত্মসমর্পণকারী সাবেক জলদস্যুরা র্যাবের বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা জানান, অপরাধের অন্ধকার পথ থেকে ফিরে এসে স্বাভাবিক জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে র্যাবের সহযোগিতা ও মানবিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা আরও বলেন, সমাজে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। র্যাব কর্মকর্তারা জানান, আত্মসমর্পণকারী এসব ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুতা, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের অভিযান এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮