Dhaka , Saturday, 11 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাঁচবিবিতে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন, উপকৃত হবেন স্থানীয় কৃষকরা পাইকগাছায় বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত বাকলিয়ায় গুলিবর্ষণকারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী শ্যুটার ফারুক গ্রেফতার গণভোটের অধিকার ফেরানোর দাবি: লালমনিরহাটে ১১ দলীয় জোটের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ রূপগঞ্জে অনুমতি ছাড়াই ভোজ্যতেল ব্র্যান্ডিং দুই প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা সীমান্তে ১৫ বিজিবির অ্যাকশন: মাদক ও বিপুল পরিমাণ ডিজেলসহ কারবারি গ্রেপ্তার ফতুল্লায় ঝুট দখল নিয়ে যুবদলের দুই গ্রুপে বন্দুকযুদ্ধ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০ টাঙ্গাইলের মধুপুরে খাল খনন উদ্বোধন ঢাকায় সাবেক এমপি সফুরা বেগম রুমী গ্রেফতার: কড়া নিরাপত্তায় আনা হলো লালমনিরহাটে ‘বৈসাবি’ নয়, প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয়তায় উৎসব পালনের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর… ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে আশ ফাউন্ডেশনের ত্রাণ বিতরণ নোয়াখালীতে ৩ হাজার লিটার অবৈধ জ্বালানি ডিজেল জব্দ মোংলায় জাতীয় গোয়েন্ধা সংস্থার সংবাদে অবৈধ তেলের গোডাউনে র‌্যাবের অভিযান বিজিবির হস্তক্ষেপে দেশে ফিরল লাশ: পাটগ্রামে আলী হোসেনের মরদেহ বুঝে নিল পরিবার রূপগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও একটি চুনা কারখানা গুড়িয়ে দেয় তিতাস কর্তৃপক্ষরা। সাতকানিয়ায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের বর্ণাঢ্য আয়োজন সাতকানিয়ায় অবৈধ জ্বালানি মজুদ: মধ্যরাতে অভিযানে ৪০০ লিটার অকটেন-ডিজেল জব্দ ফুটবল উন্মাদনায় পাইকগাছা; চ্যাম্পিয়ন মডেল-শিববাটী রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ভোজ্য তেলের মজুদ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও র‍্যাব-১১ তদারকি ; অবৈধ মজুদে কোন ছাড় নেই ইউএন সিএমপি’র পাঁচলাইশ মডেল থানা এলাকায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা’র শুভ উদ্বোধন কাউখালীতে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমেলা শুরু সায়েদাবাদে বাস টার্মিনাল এলাকায় ডিএসসিসির বড় অভিযান: ২৪০টি অবৈধ বাস কাউন্টার উচ্ছেদ শুরু ফেনীতে ভোজ্যতেলের মজুদ এবং অনুমোদন বিহীন লেভেলিং’র বিরুদ্ধে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম’র উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও  নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান ১১ এপ্রিল ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচন লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে বিজিবির বিশেষ অভিযান: মাদক ও মালামাল জব্দ পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তে ইটিসি রেজিষ্ট্রেশন শুরু; দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতে উন্মোচিত হচ্ছে নতুন দিগন্ত রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা থেকে অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার পুষ্টিকর খাবারের নামে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে নষ্ট কলা লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত: পতাকা বৈঠকে বিজিবির তীব্র প্রতিবাদ

ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রস্তুত হচ্ছে ১১০টি কোচ।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:00:52 pm, Monday, 1 April 2024
  • 105 বার পড়া হয়েছে

ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রস্তুত হচ্ছে ১১০টি কোচ।।

নীলফামারী থেকে
সাদ্দাম আলী।।
ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র করে নিয়মিত ট্রেনের সঙ্গে ঈদের বিশেষ ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের জন্য প্রয়োজন হবে বাড়তি দুই শতাধিক কোচ। বাড়তি কোচের জোগান দিতে নির্ধারিত সময়ের বাইরেও অতিরিক্ত সময় কাজ করে পুরাতন কোচ মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা। প্রয়োজনের মাত্র ২৫ শতাংশ জনবল, বাজেট স্বল্পতা, উপকরণ সরবরাহসহ নানা সমস্যা নিয়েও এবারের ঈদযাত্রায় ১১০টি কোচ সংযুক্ত করতে যাচ্ছে কারখানাটি। এর মধ্যে রয়েছে ৮০টি ব্রডগেজ ও ৩০টি মিটারগেজ কোচ।
নানা সংকটের মধ্যেও চরম কর্মব্যস্ততায় সময় কাটছে কারখানাটির শ্রমিক-কর্মচারীদের। মেরামতকৃত এসব কোচ ঈদের বিশেষ ট্রেনগুলোতে সংযুক্ত করা হবে। রেলবহরে বাড়তি কোচগুলো যুক্ত হলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রাপথের ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার জিওএইচ, উৎপাদন মেশিন শপ, ফাউন্ডি শপ, ক্যারেজ শপ, হুইল শপ, সিএমডব্লিউ শপ, ক্যারেজ শপ ও সিএইচআর শপ ঘুরে দেখা গেছে, ফাউন্ডি শপে ফানেস থেকে গলিত লোহা ডাবুতে ঢালা হচ্ছে। আর গলিত লোহা ছাঁচে ঢেলে তৈরী হচ্ছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ। এই যন্ত্রাংশগুলো চলে যাচ্ছে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন শপে। বড় বড় কামড়াগুলো লাইনে যার কাঁধে ভর করে চলে সেই চাকা মেরামতের সিএমডব্লিউ শপে একেকজন ব্যস্ত একেক কাজে। কেউ চাকা পরিস্কার করছে কেই ফিটিং করছে, কেউবা আবার টার্নি করে নির্দিষ্ট সেইপে আনছে চাকাগুলো। মানুষের কাজ সহজ করছে দৈত্যাকার সব মেশিন। কোথাও আবার মেরামত করা বগিকে নতুন করে রং লাগিয়ে চকচকে করে তোলা হচ্ছে। আবার কেউ ওয়েল্ডিং ও কোচের সিট মেরামতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। যেন দম ফেলার সময় নেই তাদের।
যদিও এ কারখানায় জনবল ও উপকরণ সংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে, তবুও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতায় সব সময় কাজে গতি মেলে। জনবল সংকটের কারণে অতিরিক্ত সময়ও কাজ করতে হচ্ছে। তবুও মানুষের নিরাপদ ঈদযাত্রায় এই বাড়তি শ্রমেই আনন্দ খুঁজছেন তারা। কেউ কেউ আবার অতিরিক্ত কাজের মজুরি না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
 কারখানার কর্মরত শ্রমিক আব্দুল আউয়াল বলেন, ঈদের আগে প্রতিবারই আমাদের কাজের চাপ বেশি থাকে। কিন্তু প্রতিবছর যেমন টিএলআর(অস্থায়ী শ্রমিক) থাকে এবছর তেমন টিএলআর নাই। তাছাড়া আমাদের ওভারটাইম বন্ধ হয়ে গেছে যার কারনে সবার মন মানসিকতা তেমন একটা ভাল না। কারণ ওভারটাইম থাকলে অতিরিক্ত সময় দিয়ে গাড়িগুলো মেরামত করা যায়।
জয়নাব আলী নামে আরেক শ্রমিক  বলেন, জনগনের সেবা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। প্রতি ঈদে যেন ঘরমুখী মানুষ যাতে ঠিকমত যাতায়ত করতে পারে সেই হিসেবে আমরা কাজ করি। কিন্তু বর্তমানে লোক সংখ্যা খুব কম। আর আমাদের ওভারটাইম নাই, আগে টিএলআর ছিল এবার তাও নাই।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পুরোনো ট্রেনকে নতুন করার কাজ চলে আসছে ব্রিটিশ আমল থেকে। ব্রিটিশ সরকার ১৮৭০ সালে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি স্থাপন করে। সেই সময় সৈয়দপুর কারখানায় কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ হাজার। ধীরে ধীরে জনবল কমে যাওয়ার পরও এ কারখানায় প্রতিদিন একটি কোচ ও একটি ওয়াগন মেরামত করা হয়। এছাড়া রেলওয়ের নানা ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয় এখানে। কারখানাটির যান্ত্রিক শাখায় ২ হাজার ৮৫৯ জনবলের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৮৬০ জন। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে শুরু করে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ চলছে কারখানার ২৯টি বিভাগে। ইতোমধ্যে প্রস্তুত হওয়া ৮৫টি বগি চলে গেছে পাকশী ও লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কাছে। আরও ২৫টি মেরামতের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের।
কারখানার ক্যারেজ শপের ইনচার্জ মোমিনুল ইসলাম বলে, এবারেও আমাদের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ১১০টি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা আমাদের উপর দেওয়া আছে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমারদের শ্রমিক সংকট আছে। শ্রমিক নিয়োগ একটা চলমান প্রক্রিয়া। যে শ্রমিক আছে এগুলো দিয়ে কাজ এগিয়ে যাচ্ছি। কষ্ট হচ্ছে আবার ভালো লাগাও আছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক -ডিএস-সাদেকুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, ১১০টি কোচ মেরামতের কাজ আমরা হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে ৮৫টি কোচ মেরামত শেষে রেলের ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি কোচগুলো মেরামত করা হচ্ছে। কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্তরিকতায় এসব কোচ মেরামত কাজ চলছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় স্বাভাবিক সময় প্রতিমাসে গড়ে ৩০ কোচটি মেরামত করা হয়। কিন্তু সারাদেশে ঈদের আগে ও পরের পাঁচদিন বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। এছাড়াও নিয়মিত ট্রেনেও লাগানো হবে অতিরিক্ত কোচ। একারনে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় এবার ৫১ কর্মদিবসের মধ্যে ১১০টি যাত্রী কোচ ও ১৬টি পাওয়ার কোচ মেরামতের সিদ্ধান্ত হয়। ঈদযাত্রায় ১৬টি স্পেশাল ট্রেনে প্রতিদিন কমপক্ষে ২২ হাজার অতিরিক্ত মানুষ যাত্রা করতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচবিবিতে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন, উপকৃত হবেন স্থানীয় কৃষকরা

ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রস্তুত হচ্ছে ১১০টি কোচ।।

আপডেট সময় : 04:00:52 pm, Monday, 1 April 2024
নীলফামারী থেকে
সাদ্দাম আলী।।
ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র করে নিয়মিত ট্রেনের সঙ্গে ঈদের বিশেষ ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের জন্য প্রয়োজন হবে বাড়তি দুই শতাধিক কোচ। বাড়তি কোচের জোগান দিতে নির্ধারিত সময়ের বাইরেও অতিরিক্ত সময় কাজ করে পুরাতন কোচ মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা। প্রয়োজনের মাত্র ২৫ শতাংশ জনবল, বাজেট স্বল্পতা, উপকরণ সরবরাহসহ নানা সমস্যা নিয়েও এবারের ঈদযাত্রায় ১১০টি কোচ সংযুক্ত করতে যাচ্ছে কারখানাটি। এর মধ্যে রয়েছে ৮০টি ব্রডগেজ ও ৩০টি মিটারগেজ কোচ।
নানা সংকটের মধ্যেও চরম কর্মব্যস্ততায় সময় কাটছে কারখানাটির শ্রমিক-কর্মচারীদের। মেরামতকৃত এসব কোচ ঈদের বিশেষ ট্রেনগুলোতে সংযুক্ত করা হবে। রেলবহরে বাড়তি কোচগুলো যুক্ত হলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রাপথের ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার জিওএইচ, উৎপাদন মেশিন শপ, ফাউন্ডি শপ, ক্যারেজ শপ, হুইল শপ, সিএমডব্লিউ শপ, ক্যারেজ শপ ও সিএইচআর শপ ঘুরে দেখা গেছে, ফাউন্ডি শপে ফানেস থেকে গলিত লোহা ডাবুতে ঢালা হচ্ছে। আর গলিত লোহা ছাঁচে ঢেলে তৈরী হচ্ছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ। এই যন্ত্রাংশগুলো চলে যাচ্ছে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন শপে। বড় বড় কামড়াগুলো লাইনে যার কাঁধে ভর করে চলে সেই চাকা মেরামতের সিএমডব্লিউ শপে একেকজন ব্যস্ত একেক কাজে। কেউ চাকা পরিস্কার করছে কেই ফিটিং করছে, কেউবা আবার টার্নি করে নির্দিষ্ট সেইপে আনছে চাকাগুলো। মানুষের কাজ সহজ করছে দৈত্যাকার সব মেশিন। কোথাও আবার মেরামত করা বগিকে নতুন করে রং লাগিয়ে চকচকে করে তোলা হচ্ছে। আবার কেউ ওয়েল্ডিং ও কোচের সিট মেরামতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। যেন দম ফেলার সময় নেই তাদের।
যদিও এ কারখানায় জনবল ও উপকরণ সংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে, তবুও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতায় সব সময় কাজে গতি মেলে। জনবল সংকটের কারণে অতিরিক্ত সময়ও কাজ করতে হচ্ছে। তবুও মানুষের নিরাপদ ঈদযাত্রায় এই বাড়তি শ্রমেই আনন্দ খুঁজছেন তারা। কেউ কেউ আবার অতিরিক্ত কাজের মজুরি না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
 কারখানার কর্মরত শ্রমিক আব্দুল আউয়াল বলেন, ঈদের আগে প্রতিবারই আমাদের কাজের চাপ বেশি থাকে। কিন্তু প্রতিবছর যেমন টিএলআর(অস্থায়ী শ্রমিক) থাকে এবছর তেমন টিএলআর নাই। তাছাড়া আমাদের ওভারটাইম বন্ধ হয়ে গেছে যার কারনে সবার মন মানসিকতা তেমন একটা ভাল না। কারণ ওভারটাইম থাকলে অতিরিক্ত সময় দিয়ে গাড়িগুলো মেরামত করা যায়।
জয়নাব আলী নামে আরেক শ্রমিক  বলেন, জনগনের সেবা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। প্রতি ঈদে যেন ঘরমুখী মানুষ যাতে ঠিকমত যাতায়ত করতে পারে সেই হিসেবে আমরা কাজ করি। কিন্তু বর্তমানে লোক সংখ্যা খুব কম। আর আমাদের ওভারটাইম নাই, আগে টিএলআর ছিল এবার তাও নাই।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পুরোনো ট্রেনকে নতুন করার কাজ চলে আসছে ব্রিটিশ আমল থেকে। ব্রিটিশ সরকার ১৮৭০ সালে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি স্থাপন করে। সেই সময় সৈয়দপুর কারখানায় কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ হাজার। ধীরে ধীরে জনবল কমে যাওয়ার পরও এ কারখানায় প্রতিদিন একটি কোচ ও একটি ওয়াগন মেরামত করা হয়। এছাড়া রেলওয়ের নানা ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয় এখানে। কারখানাটির যান্ত্রিক শাখায় ২ হাজার ৮৫৯ জনবলের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৮৬০ জন। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে শুরু করে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ চলছে কারখানার ২৯টি বিভাগে। ইতোমধ্যে প্রস্তুত হওয়া ৮৫টি বগি চলে গেছে পাকশী ও লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কাছে। আরও ২৫টি মেরামতের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের।
কারখানার ক্যারেজ শপের ইনচার্জ মোমিনুল ইসলাম বলে, এবারেও আমাদের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ১১০টি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা আমাদের উপর দেওয়া আছে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমারদের শ্রমিক সংকট আছে। শ্রমিক নিয়োগ একটা চলমান প্রক্রিয়া। যে শ্রমিক আছে এগুলো দিয়ে কাজ এগিয়ে যাচ্ছি। কষ্ট হচ্ছে আবার ভালো লাগাও আছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক -ডিএস-সাদেকুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, ১১০টি কোচ মেরামতের কাজ আমরা হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে ৮৫টি কোচ মেরামত শেষে রেলের ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি কোচগুলো মেরামত করা হচ্ছে। কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্তরিকতায় এসব কোচ মেরামত কাজ চলছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় স্বাভাবিক সময় প্রতিমাসে গড়ে ৩০ কোচটি মেরামত করা হয়। কিন্তু সারাদেশে ঈদের আগে ও পরের পাঁচদিন বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। এছাড়াও নিয়মিত ট্রেনেও লাগানো হবে অতিরিক্ত কোচ। একারনে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় এবার ৫১ কর্মদিবসের মধ্যে ১১০টি যাত্রী কোচ ও ১৬টি পাওয়ার কোচ মেরামতের সিদ্ধান্ত হয়। ঈদযাত্রায় ১৬টি স্পেশাল ট্রেনে প্রতিদিন কমপক্ষে ২২ হাজার অতিরিক্ত মানুষ যাত্রা করতে পারবে।