উৎপল রক্ষিত,
ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও প্রাচীন মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ভক্তি, আস্থা ও পূণ্যলাভের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে আগত পূণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পবিত্র তীর্থক্ষেত্রগুলো। সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, ধর্মীয় আবেগে উদ্বেলিত হয়ে ভক্তরা স্নান, পূজা ও মানসিক কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে ভিড় জমাচ্ছেন এসব স্থানে।
মহাপীঠ ভবানী মন্দিরে ভক্তদের অগাধ সমাগম
বগুড়ার শেরপুরে অবস্থিত মহাপীঠ ভবানী মন্দিরে ঈদের ছুটিতে হাজারো পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। হিন্দু শাস্ত্রমতে, এই স্থানটি একান্ন পীঠের অন্যতম বলে বিবেচিত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রাজা দক্ষের যজ্ঞসভায় মহাদেবের নিন্দা সহ্য করতে না পেরে তাঁর কন্যা সতী দেহত্যাগ করেন। শোকাহত মহাদেব সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করলে সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষায় ভগবান বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দ্বারা সতীর দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করেন। সেই অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যে সকল স্থানে পতিত হয়, সেগুলোই ‘মহাপীঠ’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ভবানী মন্দিরকে তেমনই এক পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে মানা হয়। এখানে ভক্তরা পূণ্যস্নান করে এবং নিজ নিজ মানস কামনা পূরণের আশায় পূজা অর্চনা করেন।
করতোয়া পাড়ের জয় মা কালী মন্দিরে প্রাচীন ঐতিহ্যের টান
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর করতোয়া পাড়ে অবস্থিত শ্রী শ্রী জয় মা কালী মন্দিরেও ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। বহু প্রাচীন এই মন্দিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এসে সমবেত হন। শাস্ত্রীয় মতে, নদী তীরবর্তী তীর্থস্থানে স্নান ও পূজা অর্চনা বিশেষ পূণ্যদায়ক বলে বিবেচিত। করতোয়া নদীকে ঘিরে এই তীর্থস্থানের ঐতিহ্য বহু পুরোনো, যা ভক্তদের কাছে গভীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে।
নবনির্মিত রাধা-গোবিন্দ ও কালী মন্দিরে নতুন আকর্ষণ
একই উপজেলার কোমরপুরে নবনির্মিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরেও ব্যাপক সংখ্যক পূণ্যার্থীর আগমন লক্ষ্য করা গেছে। নতুন হলেও মন্দিরটির নান্দনিক স্থাপত্য ও ধর্মীয় পরিবেশ ইতোমধ্যে ভক্তদের আকৃষ্ট করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শনার্থীরা এখানে এসে পূজা অর্চনার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক প্রশান্তি লাভ করছেন।
রাজশাহী থেকে আগত এক পূণ্যার্থী স্বপন সরকার জানান, “এটি বর্তমানে দেশের একটি ভাইরাল মন্দিরে পরিণত হয়েছে। আমরা এই সফরে ভবানী মন্দির ও করতোয়া মন্দিরও দর্শন করেছি। ঈদের ছুটির সময়টিই বেছে নিয়েছি, কারণ এই সময়ে সড়কে যানজট তুলনামূলক কম থাকে।”
সব মিলিয়ে, ঈদের ছুটিতে এসব তীর্থস্থানে ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে ধর্মীয় চেতনা ও বিশ্বাস এখনও মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত। পূণ্যলাভ, মানসিক শান্তি ও ঐতিহ্যের টানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই মিলনমেলা যেন এক অনন্য আধ্যাত্মিক উৎসবে রূপ নিয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮