আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সংঘাতের কোনো স্পষ্ট সমাধান দেখা যাচ্ছে না। ইরান আত্মসমর্পণ করেনি, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় যুদ্ধটি চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ছয় মাস পরও সংঘাত বন্ধের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নতুন হামলার পরিবর্তে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
দীর্ঘ এই সংঘাতের ছয়টি বড় প্রভাব হলো—
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও। রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে। মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সংঘাতকে সমর্থন করছেন।
এর পাশাপাশি জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের ওপরও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ও পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে। তবে প্রাথমিক আশঙ্কার তুলনায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষতির মাত্রা কিছুটা কম রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি বছরের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করেছে।
সংঘাতে ইরানের সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে দেশটির হাতে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে হামলা চালানোর সক্ষমতাও রয়েছে।
দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে ইরানে প্রাণহানি, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক সংকট আরও বেড়েছে। তবে এসব ক্ষতির পরও ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের পাল্টা হামলার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পাশাপাশি জাহাজ চলাচল, বিমান পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায়ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর ফলে অঞ্চলটিতে বীমা ও পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও চাপ তৈরি হয়েছে।
ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলেও দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা পুরোপুরি জানা যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ২০২৫ সালের হামলার পর থেকে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যাচাই করতে পারেনি। ফলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
দীর্ঘ সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করায় বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সব মিলিয়ে, ছয় মাস পরও সংঘাতের কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় এর প্রভাব শুধু ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮