প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ৩:১৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ১২:১৭ পি.এম
ইয়াবা জব্দের ঘটনায় লুকোচুরি, র্যাব-১৫’র তিন শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলি

তৌহিদ বেলাল,
ইয়াবা জব্দের ঘটনায় কক্সবাজার–বান্দরবানের র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানসহ তিন শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। পৃথক দুটি ইয়াবা জব্দের ঘটনায় উদ্ধার কম দেখানো এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল ইউনিটটির বিরুদ্ধে। র্যাব বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিয়মিত বদলি’ বললেও সূত্র জানায়, সদর দপ্তরের অনুসন্ধানকেই ভিত্তি করে এই নজিরবিহীন গণবদলি করা হয়েছে।
র্যাব সদর দপ্তরের প্রশাসন–অর্থ শাখার অনুমোদনের ভিত্তিতে ১৯ নভেম্বর দুটি প্রজ্ঞাপনে ১৯৮ ও ২০০ জন সদস্যকে বদলি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার আরও ৭৪ জনকে বদলি করা হয়। তিন দফায় বদলিকৃতদের বড় একটি অংশই র্যাব–১৫–এ কর্মরত ছিলেন।
র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, এক বছর চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় র্যাব–১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি নিয়মিত বদলির অংশ।
নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান, যিনি করোনাকালে যশোর সেনানিবাসে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩৭ বীর-এর অধিনায়ক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং পশ্চিম পাড়ায় র্যাব অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে ৮৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ আটক দেখায়। নগদ ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৮৩০ টাকা উদ্ধারের কথাও বলা হয়। মামলায় যুবদল নেতা হেলাল উদ্দিনসহ আটজনকে পলাতক দেখানো হয়।
এজাহারে তথ্যবিভ্রাটের অভিযোগ উঠে, যার মধ্যে স্থানীয় সংবাদকর্মী সেলিম উদ্দিনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সেলিমের দাবি, এক মাদককারবারিকে রক্ষার জন্য ‘নামের মিল’কে কাজে লাগানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চলতি মাসের শুরুতে র্যাব সদর দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে বলেও জানা যায়।
সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে র্যাবের কয়েকজন সদস্য তদন্তে এসেছিলেন। তারা সেলিম ও হেলালের খোঁজ নিয়েছিলেন। স্থানীয়দের মতে, সেলিম নামে দুইজন আছেন- একজন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত এবং এলাকায় তার সুনাম আছে, অপরজন সাংবাদিক, যাদের বিরুদ্ধে কখনও কোনো খারাপ অভিযোগ শোনা যায়নি।
তথ্য বলছে, আরেক বিতর্কিত অভিযানটি হয় ২৬ সেপ্টেম্বর টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকায়। ডজন মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার দেখায় র্যাব–১৫। তবে জব্দ তালিকায় মাত্র ৭টি ইটের টুকরা ও ২টি কাঠের লাঠি দেখানো হয়- যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
দুই অভিযানেরই নেতৃত্বে ছিলেন তখনকার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান। তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত টেকনাফ এফএস কমান্ডার কর্পোরাল ইমামকেও এসব অভিযানের নেপথ্যের ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন র্যাবের একাধিক সূত্র।
র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ঘটনায় জড়িত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রসঙ্গে মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেকাব চৌধুরী বলেন গণমাধ্যমে বলেন, যদি কেউ অপরাধে জড়িত থাকে, অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র্যাব তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও দায়ীদের শাস্তি পেতে হবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, কোড নাম্বারঃ ৯২