স্পোর্টস ডেস্ক,
তিন সপ্তাহের রোমাঞ্চকর লড়াই পেরিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। এবার সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে টমাস টুখেলের দলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আরলিং হালান্ডের নরওয়ে।
শনিবার মায়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ড। জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই গোলমেশিন গত ১৪টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে করেছেন ২৭ গোল। চলতি বিশ্বকাপেও চার ম্যাচে চার গোল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালেও গোল করতে পারলে বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করার বিরল কীর্তি গড়বেন হালান্ড।
ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার মরগান রজার্সও স্বীকার করেছেন হালান্ডকে থামানো সহজ নয়। সংবাদ সম্মেলনে হাস্যরসের সুরে তিনি বলেন, "হালান্ডকে পুরোপুরি থামাতে পেরেছে—এমন দল কি আছে? তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।"
হালান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, পুরো ম্যাচে খুব বেশি বলের সংস্পর্শে না থেকেও মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। বিশ্বকাপে প্রতি ৯০ মিনিটে তার গড় টাচ মাত্র ২৪.৮ হলেও সাত গোল নিয়ে তিনি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা।
তবে নরওয়ের আক্রমণভাগ শুধু হালান্ডনির্ভর নয়। আর্সেনালের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডও দলের অন্যতম বড় অস্ত্র। প্রথম তিন ম্যাচেই অ্যাসিস্ট করা এই মিডফিল্ডারের নিখুঁত পাস ও আক্রমণ তৈরির দক্ষতা নরওয়েকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। তাই অনেকের মতে, হালান্ডের চেয়ে ওডেগার্ডকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই ইংল্যান্ডের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অবশ্য নরওয়ের দুর্বলতা রয়েছে রক্ষণভাগে। পাঁচ ম্যাচে ১২ গোল করলেও তারা হজম করেছে ৯টি। বিশেষ করে ডান প্রান্ত দিয়ে আসা আক্রমণ ঠেকাতে বেশ ভুগেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি। সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে ইংল্যান্ডের উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দিতে পারেন টমাস টুখেল।
ম্যাচে আবহাওয়াও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মায়ামিতে খেলা শুরুর সময় তাপমাত্রা প্রায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ফলে ইংল্যান্ডের উচ্চগতির প্রেসিং কৌশল কতটা কার্যকর হবে, সেটিও থাকবে আলোচনায়।
অন্যদিকে নরওয়ের কৌশল কিছুটা ভিন্ন। গোলরক্ষক ওরিয়ান নিয়ল্যান্ডের লম্বা পাস কিংবা আলেকজান্ডার সোরলথকে লক্ষ্য করে সরাসরি আক্রমণ গড়ে তোলার প্রবণতা তাদের বড় শক্তি। তাই আকাশে বল দখলের লড়াইয়ে জুড বেলিংহাম, ডেকলান রাইস ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনদের দায়িত্বও থাকবে গুরুত্বপূর্ণ।
অভিজ্ঞতার বিচারে অবশ্য ইংল্যান্ড অনেকটাই এগিয়ে। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, টানা দুটি ইউরো ফাইনাল এবং একাধিক নকআউট ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের বর্তমান স্কোয়াডে। বিপরীতে, নরওয়ে প্রথমবারের মতো কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে।
এদিকে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের জন্য ম্যাচটি হতে পারে ব্যক্তিগত এক মাইলফলক। মাঠে নামলেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার নতুন রেকর্ড গড়বেন তিনি।
ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াডের গভীরতায় এগিয়ে থাকলেও ইংল্যান্ড জানে, হালান্ড ও ওডেগার্ডের নেতৃত্বে নরওয়ে যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। তাই শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করতে টুখেলের দলকে নিজেদের সেরাটা উজাড় করেই খেলতে হবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮