Dhaka , Sunday, 12 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় স্বাক্ষী দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তিকরণ সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রূপগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে গৃহবধূ ও শিশুর ওপর হামলার অভিযোগ, ঘরে আগুন গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি তেলের সংকট সমাধানের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বাংলায় যাত্রা শুরু করল আইওআই ওশান একাডেমি পার্বত্য উৎসবের বৈচিত্র্যই আসল বাংলাদেশ, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গড়ব রংধনু জাতি: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন এমপি মধুপুরে ৫ বছর বয়সী ফাতেমা নিখোঁজের একদিন পর ভুট্টা খেতে মিললো লাশ সাশ্রয়ী বাজার ব্যবস্থাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে আশ বাজারের ১৪তম আউটলেট উদ্বোধন ঝালকাঠিতে সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর সাগর নিহত, আহত ১ কোম্পানীগঞ্জে ১৯ মামলার আসামি ডাকাত মাইস্যা গ্রেপ্তার   হামের প্রাদুর্ভাব রোধে রাজনীতিবিদদের ঘরে ঘরে গিয়ে টিকার তথ্য দেয়ার আহ্বান : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কোন উন্নয়ন হয়নি, বিগত সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে নজর না দেয়ায় এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করে কেউ বিশ্ববিদ্যালযে চান্স পাওয়ায় লটারী পদ্ধতি চাল করেছিল: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ৯ নং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় অন্তর চৌধুরী। সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি’র সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এর সৌজন্য সাক্ষাৎ কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৫ বিজিবির বড় সাফল্য: মাদকসহ ৩ পাচারকারী গ্রেপ্তার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে আইএলও-এর কান্ট্রি ডিরেক্টরের সৌজন্য সাক্ষাৎ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত H.E. Dr. Abdulllah Zafer H. Bin Abiyah এঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিরাপদ করতে ৩৮ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে:- চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় স্বাক্ষী দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পে পুরস্কারের ঘোষণা : প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের রাজধানী কাঁপালো লালমনিরহাটের আসিফ: জাতীয় কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় দেশসেরা রংপুর মেডিকেলে হার মানলেন সুমন: বোন ও চাচার হামলায় প্রাণ গেল তরুণের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পে ফুটে উঠেছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চিত্র:- ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পাইকগাছায় খাস জমি দখলমুক্ত: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান সাতকানিয়ার কৃতি সন্তান মোঃ ইছহাক বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নির্বাচিত জিয়া সরণি খাল পুনরুদ্ধার ও আধুনিকায়নে ডিএসসিসি’র ব্যাপক উদ্যোগ: দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প ওয়াসার সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হবে: পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী ইসরাইলি বোমা হামলায় লেবাননে নিহত বাংলাদেশী নারী দিপালীর পরিবারে শোকের মাতম- শোকার্ত পরিবারের পাশে ইউএনও। নগরীতে আলোচিত হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় প্রধান আসামী কুখ্যাত সন্ত্রাসী সবুজ রক্তমাখা ধামাসহ গ্রেফতার

আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঢুকে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 10:32:55 am, Sunday, 10 March 2024
  • 582 বার পড়া হয়েছে

আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঢুকে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা।।

জামালপুর প্রতিনিধি।।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীর সিমান্তবর্তী চরগিরিশ ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঢুকে এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নৈশ্যপ্রহরী দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত দুলাল মিয়া চরগিরিশ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নৈশ্যপ্রহরী ও সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার দুবলাই এলাকার মৃত খুববর মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় স্থানীয় নাটুয়াপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ দিতে গেলে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা হওয়ার কথা বলে তাদের ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। এদিকে ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে আশ্রয়ন প্রকল্প ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগী ঐ কিশোরী। 
ভুক্তভোগীর পরিবার ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, চরগিরিশ ইউনিয়নের সিন্দুর আটা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৪০ নং কক্ষে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন শ্রী কুকিল চন্দ্র। স্থানীয় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধ নিতে গেলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নৈশ্যপ্রহরী দুলাল মিয়া প্রায় সময় কুকিলে মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিতো। ঐ কিশোরী কুপ্রস্তাব প্রত্যাখান করলে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে দুলাল মিয়া। এ ঘটনার জেরে গত মাসের ১৮ তারিখ রাত ১০ টার দিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঢুকে উৎপেতে বসে থাকে দুলাল মিয়া। কুকিলে মেয়ে মধ্য রাতে টয়লেট করার জন্য বের হয়ে ঘরে ফেরার সময় পিছন থেকে দুলাল মিয়ার ঐ কিশোরীর চোখ-মুখ গামছা পেঁচিয়ে চেপে ধরে। জোর করে কিশোরী শয়ন ঘরে নিয়ে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় ওই কিশোরীর চিৎকারে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা এগিয়ে এসে কিশোরীকে উদ্ধার করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কিশোরীর পরিবারকে টাকার লোভ ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবার।
এ ঘটনায় স্থানীয় নাটুয়াপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ দিতে গেলে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা হওয়ার কথা বলে তাদের ফিরিয়ে দেয় তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিজানুর রহমান। এদিকে ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে আশ্রয়ন প্রকল্প ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগী ঐ কিশোরী।
 ভুক্তভোগী কিশোরী বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধ নিতে গেলে দুলাল আমাকে একা পেয়ে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিতো। আমি না করলে আমার উপর রেগে যেতো সে। তার ভয়ে ঢাকা গেলে যাই আমি। বাড়ীতে বেড়াতে আসলে খবর পেয়ে সে আশ্রয়ণ  প্রকল্পে এসে উৎ পেতে থাকে। রাতে টয়লেটের জন বের হলে পিছন থেকে এসে মুখ চেপে ধরে আমার ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। চিৎকার দিলে সবাই এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে। এর পর থেকে শফিকুল মেম্বার ও দুলাল আমাকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। তাদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি আমি। আমার হিন্দু পরিবার অসহায়ের মতো সবার কাছে বিচার দাবি করে ঘুরছি। 
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দুলাল মিয়া আমার মেয়েকে প্রায় সময় খারাপ কাজ করতে প্রস্তাব দিতো। এর পরে মেয়েকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেই বাসাবাড়ী কাজে। মেয়ে বাড়ীতে আসার খবর শুনে রাতে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঢুকে আমার মেয়ের মুখেচোখে গামছা পেচিয়ে  কাপড়চোপড় খোলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে যায়। চিৎকার শুনে আমরা সবাই গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করি।
তিনি আরো বলেন,  ঘটনার পর থেকেই শফিকুল ইসলাম মেম্বার টাকার লোভ দেখাচ্ছে। নেয়নি বলে ভয়ভীতি দেখায়। পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দিতে গেলেও আমাকে মিমাংসা হওয়ার কথা বলে ফিরিয়ে দিছে। এই ভয়ে মেয়েকে ঘরে আনতে পারছিনা। আমরা হিন্দু মানুষ বড় সহায়তা হয়ে পড়েছি। এ ঘটনার বিচার দাবি জানান তিনি।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কাশেম ফকির, রহিমা বেগম, আন্জুয়ারা বেগমসহ আরো অনেকেই বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে একের পর এক ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। হিন্দু মেয়েটাকে জোর করে চোখ-মুখ পেচিয়ে ঘরে তুলে ধর্ষণের চেষ্টা করে দুলাল মিয়া। চিৎকার করলে দৌড়ে এগিয়ে গিয়ে মেয়েটাকে আমরা উদ্ধার করি। আর শফিকুল মেম্বার এসে ছেলেটাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। আমরা এর বিচার দাবি করি।
অভিযুক্ত দুলাল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেয়েটি ঢাকা থেকে বাড়ীতে আসছে বলে তাকে দেখতে যায়। যাওয়া মাত্রই আমাকে ঘরে তুলে আটকিয়ে রাখে। ঘটনা যাতে ছড়াছড়ি না হয় তাই স্থানীয় শফিকুল মেম্বারকে দিয়ে ২৫ হাজার টাকা মেযেটার পরিবারকে দিতে বলেছি। 
স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এই ওয়াড়ের মেম্বার কোনো ঘটনা হলে আমাকে যেতেই হবে। আমিই দুলালকে ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে এসেছি। স্থানীয় মাতাবর ও পুলিশ এসে তদন্ত করে গেছে কোনো ঘটনাই হয়নি। আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে সে কখনো জোরজবরি করে না বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে নাটুয়াপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, মেয়েটির পরিবার বিষয়টি আমাকে বলতে এসেছিল। স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি মিমাংসা করে দিবে বলে তারা অভিযোগ না দিয়ে চলে যায়। পূনরায় অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় স্বাক্ষী দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঢুকে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা।।

আপডেট সময় : 10:32:55 am, Sunday, 10 March 2024
জামালপুর প্রতিনিধি।।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীর সিমান্তবর্তী চরগিরিশ ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঢুকে এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নৈশ্যপ্রহরী দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত দুলাল মিয়া চরগিরিশ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নৈশ্যপ্রহরী ও সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার দুবলাই এলাকার মৃত খুববর মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় স্থানীয় নাটুয়াপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ দিতে গেলে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা হওয়ার কথা বলে তাদের ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। এদিকে ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে আশ্রয়ন প্রকল্প ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগী ঐ কিশোরী। 
ভুক্তভোগীর পরিবার ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, চরগিরিশ ইউনিয়নের সিন্দুর আটা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৪০ নং কক্ষে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন শ্রী কুকিল চন্দ্র। স্থানীয় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধ নিতে গেলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নৈশ্যপ্রহরী দুলাল মিয়া প্রায় সময় কুকিলে মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিতো। ঐ কিশোরী কুপ্রস্তাব প্রত্যাখান করলে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে দুলাল মিয়া। এ ঘটনার জেরে গত মাসের ১৮ তারিখ রাত ১০ টার দিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঢুকে উৎপেতে বসে থাকে দুলাল মিয়া। কুকিলে মেয়ে মধ্য রাতে টয়লেট করার জন্য বের হয়ে ঘরে ফেরার সময় পিছন থেকে দুলাল মিয়ার ঐ কিশোরীর চোখ-মুখ গামছা পেঁচিয়ে চেপে ধরে। জোর করে কিশোরী শয়ন ঘরে নিয়ে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় ওই কিশোরীর চিৎকারে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা এগিয়ে এসে কিশোরীকে উদ্ধার করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কিশোরীর পরিবারকে টাকার লোভ ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবার।
এ ঘটনায় স্থানীয় নাটুয়াপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ দিতে গেলে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা হওয়ার কথা বলে তাদের ফিরিয়ে দেয় তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিজানুর রহমান। এদিকে ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে আশ্রয়ন প্রকল্প ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগী ঐ কিশোরী।
 ভুক্তভোগী কিশোরী বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধ নিতে গেলে দুলাল আমাকে একা পেয়ে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিতো। আমি না করলে আমার উপর রেগে যেতো সে। তার ভয়ে ঢাকা গেলে যাই আমি। বাড়ীতে বেড়াতে আসলে খবর পেয়ে সে আশ্রয়ণ  প্রকল্পে এসে উৎ পেতে থাকে। রাতে টয়লেটের জন বের হলে পিছন থেকে এসে মুখ চেপে ধরে আমার ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। চিৎকার দিলে সবাই এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে। এর পর থেকে শফিকুল মেম্বার ও দুলাল আমাকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। তাদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি আমি। আমার হিন্দু পরিবার অসহায়ের মতো সবার কাছে বিচার দাবি করে ঘুরছি। 
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দুলাল মিয়া আমার মেয়েকে প্রায় সময় খারাপ কাজ করতে প্রস্তাব দিতো। এর পরে মেয়েকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেই বাসাবাড়ী কাজে। মেয়ে বাড়ীতে আসার খবর শুনে রাতে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঢুকে আমার মেয়ের মুখেচোখে গামছা পেচিয়ে  কাপড়চোপড় খোলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে যায়। চিৎকার শুনে আমরা সবাই গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করি।
তিনি আরো বলেন,  ঘটনার পর থেকেই শফিকুল ইসলাম মেম্বার টাকার লোভ দেখাচ্ছে। নেয়নি বলে ভয়ভীতি দেখায়। পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দিতে গেলেও আমাকে মিমাংসা হওয়ার কথা বলে ফিরিয়ে দিছে। এই ভয়ে মেয়েকে ঘরে আনতে পারছিনা। আমরা হিন্দু মানুষ বড় সহায়তা হয়ে পড়েছি। এ ঘটনার বিচার দাবি জানান তিনি।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কাশেম ফকির, রহিমা বেগম, আন্জুয়ারা বেগমসহ আরো অনেকেই বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে একের পর এক ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। হিন্দু মেয়েটাকে জোর করে চোখ-মুখ পেচিয়ে ঘরে তুলে ধর্ষণের চেষ্টা করে দুলাল মিয়া। চিৎকার করলে দৌড়ে এগিয়ে গিয়ে মেয়েটাকে আমরা উদ্ধার করি। আর শফিকুল মেম্বার এসে ছেলেটাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। আমরা এর বিচার দাবি করি।
অভিযুক্ত দুলাল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেয়েটি ঢাকা থেকে বাড়ীতে আসছে বলে তাকে দেখতে যায়। যাওয়া মাত্রই আমাকে ঘরে তুলে আটকিয়ে রাখে। ঘটনা যাতে ছড়াছড়ি না হয় তাই স্থানীয় শফিকুল মেম্বারকে দিয়ে ২৫ হাজার টাকা মেযেটার পরিবারকে দিতে বলেছি। 
স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এই ওয়াড়ের মেম্বার কোনো ঘটনা হলে আমাকে যেতেই হবে। আমিই দুলালকে ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে এসেছি। স্থানীয় মাতাবর ও পুলিশ এসে তদন্ত করে গেছে কোনো ঘটনাই হয়নি। আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে সে কখনো জোরজবরি করে না বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে নাটুয়াপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, মেয়েটির পরিবার বিষয়টি আমাকে বলতে এসেছিল। স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি মিমাংসা করে দিবে বলে তারা অভিযোগ না দিয়ে চলে যায়। পূনরায় অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।