ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম:
রাঙ্গুনিয়ায় বালু ব্যবসা বন্ধে নিজের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।
তিনি বলেন, 'আমি ওয়াদা করেছিলাম রাঙ্গুনিয়ায় বালু ব্যবসা বন্ধ করে দেব। এখন থেকে রাঙ্গুনিয়ার নদী থেকে বালু উত্তোলন পুরোপুরি অবৈধ। যদি কোনো ট্রাক বালু নিয়ে যেতে দেখেন, তবে তাদের থামিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিন। ড্রেজারের আওয়াজ পেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানান।' এসময় তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তার সময়ে রাঙ্গুনিয়ার মাটি ও নদী রক্ষায় আর কোনো নতুন টেন্ডার দেওয়া হবে না।'
তিনি আরও বলেন, ' বালুর ইজারার মেয়াদ শেষ, নতুন কোনো টেন্ডার হবে না। আমি যতদিন আছি, আমি কোনো টেন্ডার হতে দেবো না।'

সোমবার বিকালে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়ির দোকান সংলগ্ন সম্প্রতি চুরি হওয়া মা মগদ্বেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনের সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি।
মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও চুরির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, 'ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলাকারী ও মাদকাসক্ত অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পোমরার মতো জায়গায় এই ধরনের জঘন্য ঘটনা ঘটবে, আমি কখনো ভাবিনি। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। মন্দিরে যে আঘাত করা হয়েছে, তা মেনে নেওয়ার মতো নয়।'
তিনি আরও বলেন, 'মসজিদে হামলা হলে যে ধরনের শাস্তি দেওয়া হতো, এই মন্দিরে হামলার ক্ষেত্রেও একই শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে মন্দিরের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দায়িত্ব আমরা নিচ্ছি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ফান্ড থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মন্দিরকে অনুদান দেওয়া হবে।'
এলাকায় অপরাধ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে মাদকের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'মাদকের নেশা না করলে কেউ এই ধরনের জঘন্য কাজ করতে পারে না। আমরা যদি মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তবে এই ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা আর ঘটবে না।'
এদিকে দুপুরে মন্দির পরিদর্শনে হুমাম কাদের চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌছালে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন তাঁকে বরণ করে নেন। তাঁকে ঘটনাস্থল ঘুরে ঘুরে দেখান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন দেসহ মন্দির কর্তৃপক্ষ। পরে সনাতনী নেতৃবৃন্দদের বক্তব্য শুনেন তিনি৷ এরপর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দুষ্কৃতিকারী যেই হোক তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা মা মগদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রবেশ করে প্রতিমার হাত-পা ও জিহ্বা ভাঙচুর করে। এ সময় প্রতিমার গায়ে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, দানবাক্স ভেঙে নগদ অর্থ এবং মন্দিরের বৈদ্যুতিক মোটর ও তার লুট করা হয়। একই রাতে পাশের শিব মন্দিরেও তান্ডব চালিয়ে ধর্মীয় ছবিগুলো পাশের বিলে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার সকালে পুরোহিত বিমল চক্রবর্ত্তী মন্দিরে পূজা দিতে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মাঝে বিরাজমান ক্ষোভ নিরসনে সাংসদ নিজে তদারকি করার আশ্বাস দেওয়ায় বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮