অরবিন্দ রায়,
আধুনিক প্রযুক্তি, কারখানায় তৈরি পণ্যের সহজলভ্যতা ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারনে ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময়
পার করছেন কামাররা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে দা, ছুরি, চাপাতি,বটি সহ বিভিন্ন লোহা দিয়ে তৈরির কাজ। বছরের অন্য বছরের তুলনায় কোরবানির ঈদ মৌসুমে কামারদের কাজের চাপ কয়েকগুন বেড়ে যায়।
কোরবানীর উপকরণ তৈরি করা নিয়ে কামারশালাগুলো ব্যস্ত হয়ে হয়ে পড়েছে।
ঘামছে কামার, পুড়ছে লোহা, তৈরি হ চ্ছে ছুরি-বঁটি-দা, চাপাতি । এসব তৈরিতে পুরোদমে কামারশালাগুলো সরব হয়ে উঠেছে। হাফরের ফাঁসফুস আর হাতুড়ি পেটার ঠুকঠাক ও টুং টাং শব্দে মুখরিত কামারশালাগুলো। ঈদকে সামনে রেখে এমন ব্যস্ততা দেখা গেছে নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ সহ বিভিন্ন স্হানে।
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম ঈদুল আযহা। এই ঈদের অন্যতম কাজ হচ্ছে পশু কোরবানি। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা। বিভিন্ন বাজারসহ রাস্তার আনাচে কানাচে প্রায়ই শত শত কামারশালা রয়েছে। একইভাবে প্রতিটি বাজারে রয়েছে কামারদের সুসজ্জিত দোকান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করছেন সব ধারালো সামগ্রী। তবে এসব তৈরিতে এখনো আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া লাগেনি। পুরানো সেকালের নিয়মেই চলছে আগুনে পুড়ে লোহা হতে ধারালো সামগ্রী তৈরির কাজ। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এরই মধ্যে জমে উঠেছে দা, কাচি, হাসুয়া, কোপা, ছুরি-চাপাতির বেচাকেনা। ফলে এই মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা। কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজের ব্যস্ততায় নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। তারা পুরোদমে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবেন।তবে কামাররা দুঃখ করে বলে স্টিলের দাপটে আমাদের কাজের কদর আগের মত নেই।
নরসিংদীর পলাশের ডাংগা বাজারের বিমল চন্দ্র কর্মকার বলেন, আমি প্রায় ২০ বছর ধরে এ পেশায় কাজ করছি । ঘোড়াশালের কর্মকার সহদেব জানায়, এখন আর আগের মতো বেচাকেনা নাই। অর্ডারও কম পাই। তাছাড়া হেল্পারের মুজুরি অনেক বেশি, কাঠকয়লার দাম বেশি। তবে দুটি ঈদে কাজের চাপ বাড়ে। তখন সকাল ৯টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করি।
দেশি চাপাতিগুলো কেজি হিসেবে বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতি কেজি ওজনের চাপাতির দাম ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া বিদেশি চাপাতির দাম ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা ।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের শ্রীবাস সরকার জানান, সারাবছর কাজ খুব কম থাকে, কোরবানি এলে কাজ বাড়ে। অনেক গ্রাহক সঠিক মূল্য দেন না। অনেক সময় ওইসব সরঞ্জাম বিক্রি কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকৃত পুঁজি উঠানো নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন বলেও জানান এই কারিগর।
ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্পীরা নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। লোহা ও কয়লাসহ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অনেক কামার পরিবার আজ পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সুযোগ সুবিধা পেলে কামার শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। গ্রামীন অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে কামার শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮