চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
গত আওয়ামী সরকারের আমলে যুগান্তর পত্রিকা ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের প্রভাব খাটিয়ে ভাইয়ের যোগসাজসে ডাক বিভাগের কোটি কোটি টাকা আত্নসাৎকারী আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার এখনও আগের মত তাফালিং করে বেড়াচ্ছে। ডাক বিভাগের মত চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক থাকা অবস্থায় হলুদ সাংবাদিক শাহরিয়ার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের তহবিল থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জানতার তীব্র আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর বর্তমান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব অন্তবর্তীকালীন কমিটির তদন্তে এসব অর্থ আত্নসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দৈনিক যুগান্তরের চট্টগ্রাম ব্যুরোর এই সাংবাদিক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক থাকাকালে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর একদেনেই টিএ/ডিএ নিজের যাতায়ত খরচসহ প্রেসক্লাবের হিসাব বিভাগ থেকে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্লাবের ব্যাংকের একাউন্ট থেকে নগদ ৩ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা তুলে নিয়ে আত্নসাৎ করেন। অনুরুপভাবে প্রেস ক্লাবের একাউন্ট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাটের তথ্য বেরিয়ে আসছে।
সাংবাদিক শাহরিয়ার ২০২২ সালের দুদকের চাঞ্চল্যকর ৩০ কোটি টাকার মামলা থেকে দৈনিক যুগান্তরের পদ পদবীর প্রভাব খাটিয়ে নিজ ভাই ডাক বিভাগের আওয়ামীপন্থী শ্রমিক নেতা দুদকের মামলা থেকে অন্যতম মাস্টারমাইন্ড নিজ ভাই সাইফুলের নাম বাদ দেন অথচ ডাক বিভাগের নিরীহ কর্মচারীরা এখনও ঐ মামলায় জেল খাটছেন। এ সংক্রান্ত সংবাদ ঐ সময় জাতীয় পত্রপত্রিকা টেলিভিশনে প্রচার প্রকাশিত হলেও আওয়ামী লীগের তৎকালীন পটিয়ার সংসদ সদস্য পলাতক শামসুল হক চৌধুরী (যিনি সর্ববত্র বিচ্চু শামসু হিসেবে পরিচিত) এর মাধ্যমে দুদকে প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি হালকা করে সাংবাদিক শাহরিয়ার নিজের ভাই সাইফুলকে রক্ষা করেন। বর্তমানে ডাক বিভাগের নিরীহ ভুক্তভোগীরা দুদকের মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকার আত্নসাৎের মামলাটি পুন:তদন্তের দাবী জানাচ্ছেন । তারা যুগান্তরের এই সাংবাদিক শাহরিয়ার ও তার ভাই সাইফুলের শত কোটি টাকা সম্পদের তদন্তের জোর দাবী জানিয়েছেন। সাংবাদিক শাহরিয়ার তার ভাই সাইফুলের ডাক বিভাগের ষ্টিকার লাগানো গাড়ীতে করে কক্সবাজার-মায়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবার পাচারে জড়িত থেকে কোটি কোটি টাকা অর্জন করেন।
দৈনিক ইনকিলাবের ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত ‘ডাক বিভাগের ফ্রান্কেনস্টাইন’ শিরোনামে দুর্নীতিবাজ সাংবাদিক শাহরিয়ার ও তার ভাই সাইফুলের এসব কুকীর্তির এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, ”ডাকের স্টিকারে মাদক বহনের অভিযোগ: দুদক সূত্র জানায়, সংস্থাটি যে অভিযোগের ভিত্তিতে সাইফুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০৩.২৬.০৪০.২১-২০৮৪৭) চালাচ্ছে তাতে রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জিপিও’র পোস্টাল অপারেটর মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী পোস্টমাস্টার চট্টগ্রাম সার্কেলের সঙ্গে আঁতাত করে ডাক বিভাগের ৩টি ডাক চলাচলের লাইনের সরকারি গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখেন। ডাক বিভাগের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার লাইনে মেইল মটর সার্ভিস এখন সম্পূর্ণরূপে সাইফুলের মালিকানাধীন ‘ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’র ওপর নির্ভরশীল। নিজের প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে ডাক পরিবহন পরিচালনা করছেন। লাইনগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম টু কক্সবাজার, চট্টগ্রাম টু রাঙ্গামাটি এবং চট্টগ্রাম টু কাপ্তাই।
‘ডাক পরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’র ১১৮টি আধুনিক গাড়ি কেনা হয়। চট্টগ্রাম সার্কেলকে দেয়া হয় ২০টি অত্যাধুনিক গাড়ি। সাইফুল ইসলাম চৌধুরী নিজের প্রাইভেট গাড়িগুলোকে ডাক বিভাগের গাড়ির মতো রং করে দেন। স্টিকার লাগিয়ে নেন ডাক বিভাগের। আর এই স্টিকারের আড়ালে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা পরিবহন করেন। বিশেষত: ‘চট্ট-মেট্টো-০২-০১২৬’ নম্বরের গাড়িটিতে করে পাচার হয় ইয়াবা। ২০০৯ সালে চন্দনাইশে টহল পুলিশ ইয়াবাসহ সাইফুলের একটি গাড়ি আটক করে। পরে সাইফুলের ছোট ভাই সাংবাদিক পরিচয়ে যুগান্তরের ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পদ পদবী ব্যবহার করে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গাড়ি ছাড়িয়ে নেন। এছাড়া দোহাজারী ব্রিজ এলাকায় একাধিকবার টহল পুলিশ সাইফুলের ইয়াবা চালানসহ গাড়ি আটক করে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে একইভাবে এখান থেকেও গাড়ি ছাড়িয়ে নেয়া হয়।
ঐসময় জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুগান্তর পত্রিকায় নিজ ভাই শহীদুল্লাহ শাহরিয়ারের সহযোগিতা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ এমপির লোকজনের প্রভাবে তার ভাই সাইফুল সরকারি চাকরির পাশাপাশি করতেন বেনামী ব্যবসা। চাকরিটা নামমাত্র। কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চলছে তিনি যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই। নিজ ভাই সাংবাদিক শাহরিয়ারও এতে শেয়ার পেতেন। নিয়োগ-বাণিজ্য, ভবন নির্মাণ, সংস্কার, সরবরাহ, পরিবহন-সর্বক্ষেত্রে তার লোভের থাবা। হালে মিলছে তার সংশ্লিষ্টতায় ভুয়া সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডাক বিভাগের কোটি কোটি টাকা সরানোর মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও। মর্যাদায় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। গড়ে তুলেছেন নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড়। গাড়ি হাঁকাচ্ছেন একাধিক। উঠ-বস করেন চট্টগ্রাম এলাকার এমপি আর ভিআইপিদের সঙ্গে। ডাক বিভাগে শুধু একচ্ছত্র আধিপত্যই কায়েম করেননি, তার সর্বগ্রাসী তৎপরতার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ডাক বিভাগের দৈত্য’ বা ‘ফ্রাঙ্কেস্টাইন’ হিসেবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয় একটি তদন্ত চালাচ্ছে। তিনিসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েজনের বিরুদ্ধে একটি অনুসন্ধানও শুরু হয়েছে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে। আলোচিত এই ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ আর কেউ নন- ‘বাংলাদেশ পোস্টম্যান ও ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন কাউন্সিল’র সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। কে এই সাইফুল? : চট্টগ্রাম জিপিও’র পোস্টম্যান ওমর সুলতান চৌধুরীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম জিপিও থেকে অবসর নেন। তৎকালিন সিনিয়র পোস্ট মাস্টার আব্দুল মোমেন চৌধুরীর মাধ্যমে ১৯৮৯ সালে সাইফুল চাকরি নেন। এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়ে যোগদান করেন পোস্টাল অপারেটর হিসেবে। নিজে ‘ডাক পরিবারের সন্তান’ এই স্লোগান মুখে নিয়ে দ্রুতই কাছে টানেন অন্যান্য কর্মচারীদের। এভাবে তিনি চট্টগ্রাম জিপিও’র স্বঘোষিত নেতা বনে যান। এর মধ্যে তিনি নিজেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেন। সর্বশেষ তিনি ‘বাংলাদেশ পোস্টম্যান ও ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন’র সভাপতি। পদপদবি ব্যবহার করে তিনি ফুলে-ফেঁপে উঠতে থাকেন ২০১০ সাল থেকে। এখন তিনি অন্তত: দেড়শ’ কোটি টাকার মালিক বলে জানা যায়।তার ভাই সাংবাদিককেও তিনি এতে অংশীদার করেন।
জানা গেছে, চাকরিটিকে সাংবাদিক শাহরিয়ারের ভাই সাইফুল চাকরীকে ব্যবহার করতেন ইউনিয়ন করার স্বার্থে। সংগঠনের পদ-পদবি ব্যবহার করতেন ডাক বিভাগে প্রভাব বিস্তারের প্রয়োজনে। ডাক বিভাগের পূর্বাঞ্চলে ছিল সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর একচ্ছত্র আধিপত্য। পোস্ট অফিস ভবন নির্মাণ, সাব-পোস্ট অফিস ভবন নির্মাণ, মেরামত এবং ‘তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর গ্রামীণ ডাকঘর নির্মাণ প্রকল্প’র আওতায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের ডাক ভবনের সংস্কারের কার্যাদেশগুলো তিনি একাই পান। অনেক ক্ষেত্রে কাজ না করেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মেসার্স ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’। এটির লাইসেন্স (নং-১৬০৩১৪) স্ত্রী সৈয়দা আয়েশা ইয়াসমিনের নামে। এছাড়া ‘মেসার্স ছাবের এন্টারপ্রাইজ’ নামে তার আরেকটি বেনামী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
গতবছর ৯ জুন অনাবাসিক ভবন মেরামত খাতের আওতায় চট্টগ্রাম জিপিওস্থ ৬ষ্ঠ তলা ভবনের কমিটি রুম মেরামত ও সংস্কার বাবদ (সংশোধিত কার্যাদেশ) ‘ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’কে ৬ লাখ ৮০ হাজার ৬২৭ টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়। অতিরিক্ত পোস্ট মাস্টার জেনারেল কাজী মামুনুর রশিদের স্বাক্ষরে [নথি নং-বিজেড-১১১৬/জিপিও কমিটি রুম (২য় তলা)/৬ষ্ঠ তলা ভবন/২০২০)] সাইফুলের প্রতিষ্ঠান এই কাজ পায়। ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা ৬৮৭ টাকায় লামাবাজার টিএসও ডাকঘর মেরামতের কাজটি দেয়া হয় (নথি নং-বিজেড-মিস/নির্মাণ/ মেরামত/দরপত্র-১/২০১৮-২০১৯) ‘মেসার্স ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’কে। অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেল আল মাহবুব এ কার্যাদেশ দেন।
‘তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর গ্রামীণ ডাকঘর নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের জালালাবাদ ছালেহ বাজার টিএসও ডাকঘর ভবন সংস্কার কাজ করে সাইফুলের বেনামী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ছাবের এন্ট্রারপ্রাইজ’। এ কাজের গুণগত মান নিয়ে সিটি উপ-বিভাগ, চট্টগ্রামের পোস্ট অফিস পরিদর্শক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডারে উল্লেখিত কাজ না করেই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন সাইফুল। চট্টগ্রাম সার্কেল পোস্ট মাস্টারের সঙ্গে আঁতাত করে বিনা টেন্ডারে কার্যাদেশ বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগও আছে। কখনও বা কোনো কাজ না করেই ভুয়া পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সমুদয় বিল উঠিয়ে নেন।
এভাবে গত কয়েক বছরে সাইফুল ইসলাম চৌধুরী অন্তত: ২৫টি গ্রামীণ ডাকঘর নির্মাণের কার্যাদেশ পান। রাউজান উপজেলা ডাকঘর, হাটহাজারি উপজেলা ডাকঘর, বায়েজীদ উপজেলা এবং চকবাজার এলএসজি টিএসও ডাকঘরের সংস্কার কাজ করে সাইফুলের প্রতিষ্ঠান। চান্দগাঁও অফিসার্স কলোনি সংস্কার কাজ, চট্টগ্রাম জিপিওর গ্রাউন্ড ফ্লোর ঢালাই, একই ভবনের কারপার্কিং শেড নির্মাণ, অডিটরিয়াম পুনঃসংস্কার, লামাবাজার এসও সংস্কার কাজ করে তার প্রতিষ্ঠান। ইস্ট জোয়ারা উপজেলা ডাকঘর সংস্কার, বরমা এসও ডাকঘর সংস্কার, পোস্টাল অফিসার্স কলোনি গেইট নির্মাণ এবং লোহাগাড়া উপজেলা ডাকঘর সংস্কারের কার্যাদেশ পায় সাইফুলের ‘ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্প উপজেলাভিত্তিক ‘ই-পোস্ট সেন্টার প্রকল্প’। সরকারদলীয় এক এমপি’কে হাত করে সাইফুল এই প্রকল্পের আওতায় মহেশখালি, কুতুবদিয়া, উখিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, বরইতলি, বান্দরবান, চন্দনাইশ, হাটহাজারি, ফটিকছড়ি, পটিয়ার অন্তত: ৪৫টি পোস্ট ই-সেন্টারের নতুন ভবন যেনতেনভাবে নির্মাণ করে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।
‘ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’ তিনি শুধু নির্মাণ-সংস্কারের ঠিকাদারিই করেন না। করছেন পরিবহন ব্যবসাও। ডাক অধিদফতর, পূর্বাঞ্চলের ডাক পরিবহন (মেল সার্ভিস) ব্যবস্থাটি নিয়ে নিয়েছেন নিজ দখলে। শুধুমাত্র সাইফুলের পরিবহন ব্যবসার স্বার্থে ডাক অধিদফতর ওই অঞ্চলে নিজস্ব মেইল সার্ভিসটি বন্ধ করে রেখেছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাসহ নানা অজুহাতে ওই এলাকার মেইল পরিবহনের দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে সাইফুলের ‘ফ্রেন্ডস কমিউকেশন’ কে। ডাক অধিদফতরের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তির আওতায় সাইফুল মেইল সার্ভিস চালাচ্ছেন।
নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় : তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও নিজে হাঁকান দু’টি প্রাইভেটকার (নং-চট্ট-মেট্টো-গ-১২-৫৯৬২) এবং (চট্ট-মেট্টো-গ-১১৫৬৩২)। এ ছাড়া নোয়াহ গাড়ি চট্টমেট্টো-চ-৫১-০৭২৫, চট্ট-মেট্টো-অ-০২-০১২৬, ট্রাক চট্ট-মেট্টো-ট-১১-৯১৬৭, প্রাইভেটকার চট্ট-মেট্টো-চ-১১-২৭২২ নম্বরের গাড়িগুলো ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। তার বেনামী সম্পদের মধ্যে রয়েছে ২টি ব্রিক ফিল্ড। এর আনুমানিক মূল্য ৭ কোটি টাকা। তার বন্ধু বিদেশ-ফেরত মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানকে দিয়ে ব্রিকফিল্ড দু’টি পরিচালনা করেন। স্ত্রী সৈয়দা আয়েশা ইয়াসমিনের নামে রয়েছে ‘ফ্রেন্ডস ফিশ কর্ণার’। ১০ নং সমবায় মার্কেট, ইকবাল রোড, ফিশারী ঘাট চট্টগ্রামের ঠিকানায় অবিস্থত এই প্রতিষ্ঠানের আওতায় রয়েছে ৩টি ফিশিং ট্রলার। যার আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা। এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন দেশে মাছ রফতানি করা হয়। পাইরোল নিজ গ্রামে বাড়ির আশপাশে রয়েছে ৫টি পুকুর। এসবের মূল্য অন্তত ১০ কোটি টাকা।
৮০ কোটি টাকা আত্মসাৎ : প্রশ্ন হচ্ছে, সাধারণ একজন ডাক কর্মচারী কিভাবে হলেন এত অর্থ-বিত্তের মালিক?
চট্টগ্রাম জিপিও সঞ্চয় ব্যাংকে উদ্ঘাটিত ৩০ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনায় দুদক প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পোস্ট মাস্টার নূর মোহাম্মদ এবং পোস্টাল অপারেটর সারওয়ার আলমকে আসামি করে মামলা করে চট্টগ্রাম জিপিও। মামলাটি তদন্ত করেন দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম মোড়ল। এদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ সাইফুলের ফুফাতো ভাই। সারওয়ার আলমকেও চাকরি দিয়েছেন সাইফুল। তা অতিঘনিষ্ট দু’জন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট খুলে ভুয়া জমা দেখিয়ে সেটি কয়েকশত গুণ বাড়িয়ে উত্তোলন করছেন টাকা। এভাবে গত কয়েক বছরে চট্টগ্রাম জিপিও থেকে ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দুদক সূত্র জানায়, মামলার তদন্তে ১২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা চট্টগ্রাম জিপিওতে সাংবাদিক শাহরিয়ারের ভাই ‘সাইফুলের লোক’ হিসেবে পরিচিত। সাইফুল ইসলামের তদবিরে নূর মোহাম্মদকে সঞ্চয় শাখায় পোস্টিং দেয়া হয়। দায়িত্বে বসার এক বছরের মাথায় জালিয়াতির মাধ্যমে ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ধরা পড়ে। গ্রাহকদের মধ্যে রায়ফা হোসেনের ১৬ লাখ, লাকী আক্তারের ১৪ লাখ এবং সাকী আক্তারের ১৫ লাখ টাকা ডাক বিভাগের নথিতে না তুলে আত্মসাৎ করেন নূর মোহাম্মদ ও অপারেটর সরওয়ার আলম খান।
এর আগেও চট্টগ্রাম জিপিও’র সঞ্চয় শাখা থেকে আরো অন্তত: ৫০ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়। ওই সময় টিআই (টাউন ইন্সপেক্টর) ছিলেন সাইফুল। তার অধীনস্থ আকতার আলী (এসবি-৭০০২২৪), লাকি আকতার (এসবি-৬৮৬৬৩৫), নূর মোহাম্মদ (এসবি-৬৬৮৭৪৬), আয়েশা বেগম (এসবি-৬৪২৫৭৫), রিহাবউদ্দিন (এসবি-৬৯০৪০৬), মুক্তা বেগম (এসবি-৬৮৯৭৩১), মুক্তা বেগম (এসবি-৭০০২৪৭), আরবার সালেনূর (এসবি-৬৬৬০১৩), লাকি আকতার (এসবি-৬৯৬২৫১), রায়ফা হোসেন (এসবি-৬৯৯৩৫০) এবং মো. খোকনের (এসবি-২৫৪৭৪৭) অ্যাকাউন্টের বিপরীতে জালিয়াতির মাধ্যমে এই অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। সাইফুলের চাকরিচ্যুত ড্রাইভারের নাম খোকন। আগে তার নামে একটি ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি-২৫৪৭৪৭) করা হয়। ২০১২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এই অ্যাকাউন্টে জমা দেখানো হয় ১০০০ টাকা। ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ জমা দেখানো হয় ৫,০০,০০০ লাখ টাকা। ২০২০সালের ২৩ মার্চ এই অ্যাকাউন্ট থেকে মুনাফাসহ উত্তোলন করা হয় ৬ লাখ ৬৯ হাজার ২শ’ টাকা।
ড্রাইভারসহ বিভিন্ন জনের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে ভুয়া জমা দেখিয়ে তিনি এভাবে অর্থ তুলে নেন। ওই সময় অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি হলেও সাইফুল থেকে গেছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। সর্বশেষ ৩০ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়ার পরও একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি হয়। রহস্যজনক কারণে এ কমিটিও প্রতিবেদন দাখিলে কালক্ষেপণ করা হয়।
পরবর্তীতে দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে এর সত্যতা পায় ডাক অধিদফতরের তদন্ত কমিটি। আর এ বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরখাস্ত করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট আরো চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। এছাড়া ‘লগুদণ্ড’ হিসেবে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে ২২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে।
জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ওই তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলেও আত্মসাতের ঘটনায় ডাক বিভাগের ‘ফ্রাঙ্কেস্টাইনখ্যাত’ সাইফুল ইসলাম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়নি। বরং পোস্ট অফিস পরিদর্শক হামিদুল হকের তদন্ত প্রতিবেদনে সাইফুল ইসলাম গংদের সুরক্ষায় একটি দায়সারা প্রতিবেদন পেশ করা হয়। ফলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ওই প্রতিবেদন আমলে নেয়নি। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়। সেই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে পোস্টমাস্টার জেনারেল (পূর্বাঞ্চল) মো. জামাল পাশা গত ৪ ফেব্রুয়ারি তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এ ছাড়া আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত পোস্ট মাস্টার (সঞ্চয়) মো. ওহিদুজ্জামান, নিপূণ তাপস বড়ুয়া, পোস্ট মাস্টার (ট্রেজারি) আব্দুল মালেককেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর আগে একই ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয় সহকারী পোস্ট মাস্টার নূর মোহাম্মদ ও সরোয়ার আলমকে।
এ ছাড়া এ ঘটনায় অন্তত: ২২ জনকে বদলি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জিপিও’র পোস্ট মাস্টার জেনারেল ড. নিজাম উদ্দিন জানান, জিপিওতে নামে-বেনামে হিসাব খুলে গত ৫ বছরে গ্রাহকের অন্তত ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় সাইফুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন একটি চক্র। চক্রটি একজনের ছবির সঙ্গে আরেকজনের তথ্য দিয়ে জিপিওতে হিসাব খোলে। এ ধরনের ১০টি হিসাবে ২৯ কোটি ৫২ লাখ ৯২ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মেলে। এ ঘটনায় ২০২০ সালে জিপিও সহকারী পোস্ট মাস্টার নূর মোহাম্মদ ও সরোয়ার আলমকে আটকও করা হয়।
এর আগে গতবছর ২৪ নভেম্বর বেনামি অ্যাকাউন্ট খুলে জালজালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম জিপিও’র ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৫০ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ৬ জনের মামলা করা হয়। এ মামলায় চট্টগ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম, শামীম, ওয়াহিদুল আলম, মশহুদা বেগম, আহমেদ নূর ও তসলিমা বেগম নার্গিসকে আসামি করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের চট্টগ্রাম কার্যালয় এ মামলার তদন্ত করছে।
এদিকে দৈনিক ইনকিলাবে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ডাক অধিদফতর বিষয়টির তদন্ত করে। সেই তদন্তে ঘটনার সত্যতাও খুঁজে পায়। কিন্তু ওই তদন্তটি ছিল দায়সারা। কারণ প্রকাশিত প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম জিপিওতে চাকরির পাশাপাশি নিজ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঠিকাদারি ব্যবসা, কাজ সম্পাদন না করে বিল উত্তোলন এবং একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ তোলা হয় চট্টগ্রাম জিপিও’র তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ডাক বিভাগে নিয়োগ-বাণিজ্য, ভবন নির্মাণ, সংস্কার, সরবরাহ, পরিবহন-সর্বত্র বিস্তৃত হয় তার লোভের থাবা। ভুয়া সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট খুলে তিনি ডাক বিভাগ থেকে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি লাইসেন্সের বিপরীতে ডাক বিভাগের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে বাগিয়ে নেন ব্যবসা। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও হাঁকাচ্ছেন একাধিক গাড়ি। গড়ে তুলেছেন নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড়। প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্যের সূত্র ধরে তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ডাক অধিদফতর। তদন্ত শেষে গত ৩ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন চট্টগ্রাম জিপিও’র পোস্ট অফিস পরিদর্শক হামিদুল হক। প্রতিবেদনে (নথি নং-এল-২/বিবিধ-০৭/২০-২১) উল্লেখ করা হয়-৫০ কোটি নয়-আত্মসাৎ হয়েছে ২৯ কোটি ৫২ লাখ ৯২ হাজার ২০০ টাকা। সে সময় টাউন ইন্সপেক্টর ছিলেন (টিআই) সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। তার অধীনস্থ আকতার আলী (এসবি-৭০০২২৪), লাকি আকতার (এসবি-৬৮৬৬৩৫), নূর মোহাম্মদ (এসবি-৬৬৮৭৪৬), আয়েশা বেগম (এসবি-৬৪২৫৭৫), রিহাবউদ্দিন (এসবি-৬৯০৪০৬), মুক্তা বেগম (এসবি-৬৮৯৭৩১), মুক্তা বেগম (এসবি-৭০০২৪৭), আরবার সালেনূর (এসবি-৬৬৬০১৩), লাকি আকতার (এসবি-৬৯৬২৫১), রায়ফা হোসেন (এসবি-৬৯৯৩৫০) এবং মো. খোকনের (এসবি-২৫৪৭৪৭) অ্যাকাউন্টের বিপরীতে জালিয়াতির মাধ্যমে এই অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু প্রতিবেদনে সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়নি। বরং সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর বেনামি ব্যবসার পক্ষে সাফাই গাওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় পোস্টঅফিস ভবন নির্মাণ, সাব পোস্টঅফিস ভবন সংস্কারের কার্যাদেশ পেয়ে অনেক ক্ষেত্রে কাজ না করেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে এবং তার প্রতিষ্ঠানের নামে ‘মেসার্স ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’ উল্লেখ করা হয়েছে (লাইসেন্স নং-১৬০৩১৪) স্ত্রী সৈয়দ আয়েশা ইয়াসমিনের নামে। এছাড়া ‘মেসার্স ছাবের এন্টারপ্রাইজ’ নামে তার আরো একটি বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেন্ডার নিয়ে কাজ করার সুবাদে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলা হয়, আলোচ্য বিষয়ে তদন্তে অনাবাসিক ভবন মেরামত খাতের আওতায় চট্টগ্রাম জিপিও’র ষষ্ঠ তলা ভবনের কমিটি রুম (অডিটরিয়াম) মেরামত ও সংস্কার বাবদ (সংশোধিত কার্যাদেশ) ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশনকে কার্যাদেশ দেয়া হয় দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে চট্টগ্রাম জিপিও প্রান্তের নির্মাণ/মেরামত/সংস্কার সংক্রান্ত কার্যাদেশগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারি বিধি অনুসরণপূর্বক টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি চট্টগ্রাম জিপিও’র সংস্থাপক শাখায় নথি/রেকর্ডপত্র যাচাইয়ে প্রতীয়মান হয়। লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, এখানে কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়নি। যদিও ঢাকা জিপিওতে মাত্র ২ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান-র্যাব আসামিদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের ‘স্বীকারোক্তি’র ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় ডাক বিভাগের কর্মচারীদেরও। অথচ প্রায় ৩০ কোটি টাকার আত্মসাতের ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক মামলা করা হয়নি। গ্রেফতারও করা হয়নি কাউকে।
এদিকে গুরুতর এ অপরাধের পরও এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার না করায় ঐসময় বিস্ময় প্রকাশ করেন ডাক অধিদফতর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ‘বাংলাদেশ পোস্টম্যান ও ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজি নং-বি-২১২৯)’র এক সভায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলা হয়, ডাক অধিদফতরের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা চট্টগ্রামের যুগান্তর ব্যুরোর সাংবাদিক শাহরিয়ার ও তার ভাই সাইফুল ইসলাম চৌধুরীগংদের আলোচিত এই দুর্নীতির ঘটনা থেকে বাঁচানোর চেষ্টা চালান। তাদের ইন্ধনে আত্মসাৎকারীদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের শুধু সাময়িক বরখাস্ত করলে সেটি হবে গুরু অপরাধের লগুদণ্ড। এটি মূল দুর্নীতিকেই ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮