ডা. ঋভুরাজ চক্রবর্তী,
হঠাৎ পেট ব্যথা অনেকেই সাধারণ গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু এই ব্যথা হতে পারে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ, যা চিকিৎসার অভাবে জীবনঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রতি ১ লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় ২০০–২৩০ জন অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হন।
অ্যাপেন্ডিক্স হলো লার্জ ইন্টেস্টাইন বা সাধারণ ভাষায় পায়খানার নালীর (যেখানে হজম শেষে বর্জ্য তৈরি হয়) সাথে যুক্ত একটি ছোট থলি, যেখানে সংক্রমণ হলে শরীরে নানা সমস্যা তৈরি হয়। সাধারণত ১০ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়, তবে হতে পারে যেকোন বয়সেই। সব ক্ষেত্রে এর সঠিক কারণ জানা না গেলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অ্যাপেন্ডিক্সের ভেতরে ব্লকেজ বা সংক্রমণের কারণে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হয়।
এই রোগের লক্ষণগুলো ধাপে ধাপে প্রকাশ পায়। প্রথমে নাভির আশেপাশে হালকা ব্যথা শুরু হয়, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পেটের ডান পাশের নিচের অংশে চলে যায় ও তীব্র হয়ে ওঠে। এর সাথে বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা, হালকা জ্বর এবং কখনো কখনো ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা দিতে পারে। অনেক রোগী এই লক্ষণগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে অবস্থা জটিল হলে ডাক্তারের কাছে যান, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।
তবে এই সমস্যা অবহেলা করে চিকিৎসায় দেরি করলে অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে মারাত্মক অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে, যাকে র্যাপচার্ড অ্যাপেন্ডিক্স বলা হয়। এক্ষেত্রে পেটের ভেতরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে (পেরিটোনাইটিস) জীবননাশের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, সময়মতো সার্জারি করলে এই সমস্যায় মৃত্যুহার ১% এর নিচে থাকে, কিন্তু জটিল অবস্থায় তা কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে।
অ্যাপেন্ডিসাইটিস নির্ণয়ের জন্য রোগীর শারীরিক অবস্থা ও পূর্বে রোগের ইতিহাস যাচাই-বাছাই করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম বা সিটি স্ক্যান করানো লাগতে পারে। সঠিকভাবে ও দ্রুত নির্ণয় করা গেলে এর জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ। বর্তমানে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে ছোট ছিদ্র দিয়ে এই অপারেশন করা হয়, ফলে ব্যথা কম হয়, সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকে এবং অধিকাংশ রোগী ২/৩ দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের মতো জরুরি সার্জারির জন্য ২৪/৭ ঘণ্টা আলাদা মেডিকেল টিম, আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেবা ও সার্জারির সুবিধা রয়েছে।
পেটের ব্যথাকে কখনোই অবহেলা করা উচিৎ নয়। বিশেষ করে, ব্যথা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় স্থির হয় বা জ্বর-বমির মতো লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। কারণ অ্যাপেন্ডিসাইটিসে সময়মতো চিকিৎসাই হলো ঝুঁকি নির্মূলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮