মামুন মিঞা, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি,
‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’—এমন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মোল্লার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একটি সভায় দেওয়া তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে অস্ত্র তৈরির কথা বলতে শোনা যায়। একই ভিডিওতে ভবিষ্যতে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটলে তিনি তা দেখবেন—এমন বক্তব্যও শোনা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এ ধরনের বক্তব্যের সমালোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গতা, সম্পাদনার বিষয় এবং বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামের মেসের খানের ছেলে। তাঁর বয়স ৫৫ বছর। দীর্ঘ ২২ বছর বিদেশে থাকার পর ২০২০ সালে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রব মোল্লাকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হত্যা মামলাসহ ১৭টি মামলা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে দুটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে এসব মামলার নম্বর, ধারা ও বর্তমান অবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত বা পুলিশের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
চেয়ারম্যানের দাবি, ‘ভিডিও এডিট করা’
অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দিইনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে, সেটি এডিট করা। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
তিনি বলেন, তাঁর দলের একজন ভ্যানচালককে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে ভ্যানটি রেখে দিয়েছে। চাইলে দলীয় লোকজন নিয়ে ভ্যানটি উদ্ধার করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে পুলিশের সহায়তা নিচ্ছেন। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন।
খতিয়ে দেখার কথা পুলিশের
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। চেয়ারম্যান সম্প্রতি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, ‘ভিডিওটি দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও আলোচনা করা হবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও বক্তব্যটি কোন প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছিল এবং ভিডিওটি সম্পাদিত কি না—তা যাচাই করে দেখা এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮