সাগর আহমেদ জজ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি,
নেত্রকোনার পূর্বধলায় আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সেলিম উদ্দিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ এবং থানায় দায়ের করা অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় পূর্বধলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সেলিম উদ্দিন। এ সময় তিনি অভিযোগের পেছনের ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যা করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
লিখিত বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন জানান, গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় কালডোয়ার কুমারখালী বাজার মসজিদে মাগরিবের নামাজ শেষে তিনি তাঁর আল্লমান অটো রাইস মিলের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বধলার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হন।
উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুজ্জামান, পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী মামুন, দেওটকোন আবদুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন চন্দ্র সরকার, আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশিক মাহমুদ এবং হোগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম।
সেলিম উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার একপর্যায়ে আমিনুল ইসলাম জানান, তাঁকে আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। তবে অন্য একটি বিদ্যালয়ের তুলনামূলক জুনিয়র সহকারী শিক্ষক হওয়ায় এ দায়িত্ব পালনে তিনি বিব্রত বোধ করছেন। এ কারণে পরদিন (২ নভেম্বর) শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে পদত্যাগ করার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। পরে উপস্থিত সবাই চা ও কোমল পানীয় পান শেষে সেখান থেকে চলে যান।
সেলিম উদ্দিন আরও দাবি করেন, ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁকে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। একই ঘটনায় মধ্যরাতে সেলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম উদ্দিন অভিযোগের পক্ষে উত্থাপিত ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার তারিখের অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা বোর্ড থেকে সংগ্রহ করা পদত্যাগপত্রে দেখা যায়, আমিনুল ইসলাম ২ নভেম্বর স্বাক্ষর করে ৩ নভেম্বর সেটি বোর্ডে জমা দিয়েছেন। এ বিষয়টিকে সামনে এনে তিনি অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পুরো ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেন।
এ ধরনের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ফলে তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন সেলিম উদ্দিন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদেরও সম্মানহানি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক ফকির সাইয়েদ আল মামুন শহীদ, আব্দুল হাসনাত বেপারী, সালাউদ্দিন আহম্মদ নওয়াব, উপজেলা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম তালুকদারসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে সেলিম উদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বক্তব্য দিলেও অভিযোগকারী আমিনুল ইসলামের বক্তব্য এখানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। অভিযোগের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে তাঁর বক্তব্যও প্রকাশ করা প্রয়োজন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮