প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৩১, ২০২৬, ১১:৪৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৪, ১০:০৯ এ.এম
অবৈধ যানবাহনের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়কের বিশৃঙ্খলা- নিস্তেজ বরিশালের ট্রাফিক পুলিশ।।

আরিফ আহমেদ
বিশেষ প্রতিবেদক।।
বরিশালের সড়কে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ইজিবাইক ও অটোরিকশা। এগুলোর বেশিরভাগ চালকই অপেশাদার। ফলে যত্রতত্র পার্কিং- নিয়মনীতিহীন ছুটে চলা ছাড়াও নির্দ্বিধায় প্রবেশ করছে নিষিদ্ধ সড়কেও। পাশাপাশি বিকট শব্দের মোটরসাইকেল ও মহেন্দ্রর দৌরাত্মে আতঙ্কিত নগরবাসী। অথচ এগুলোর নিয়ন্ত্রক ট্রাফিক পুলিশের খুব একটা ভূমিকা এখন আর চোখে পড়ে না। বলা যায় অনেকটা নিস্তেজ বরিশালের ট্রাফিক পুলিশ। লোকবল এবং নিরাপত্তা সংকট বলে দাবী পুলিশের। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য এই মুহূর্তে নিবন্ধন রয়েছে মাত্র ২৬১০টি সিএনজি- ইজিবাইক ও অটোরিকশা। অথচ মেয়াদোত্তীর্ণ হাজার হাজার যানবাহন বিকট শব্দ ও ধোঁয়ার কুন্ডলি পাকিয়ে ছুটে চলছে নগরীর ভিতর ও বাহিরে। এ নিয়ে পরিবেশ দপ্তরেরও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। আর নিরব বিআরটিএ প্রশাসন বলছেন- মাঝেমধ্যেই মোবাইল কোট পরিচালনা করছেন তারা।
সরেজমিনে ৮ সেপ্টেম্বর রবিবার বরিশালের কাকলী মোড়- জেলখানা মোড়- বাংলা বাজার- ফলপট্টি ও গোরাচাঁদ দাস লেনে দেখা গেছে যানজটে অস্থির নগরীর চিত্র। বাংলা বাজার মোড় থেকে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতাল ছাড়িয়ে এই যানজট এখন প্রতি মুহুর্তের ঘটনা। একেতো সরু সড়কের দুপাশের একপাশে বাজার- অন্যপাশে দোকানপাট থাকায় ইচ্ছেমতো মোটরসাইকেল- রিকশা- প্রাইভেট কার- পিকাপ পার্কিং চোখে পড়ে। তারউপর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রোগীবাহী গাড়ির দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে এখানে হিমশিম একজন ট্রাফিক পুলিশ। জেলখানা মোড় ও বটতলা মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের সামনেই যে যেভাবে পারছে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় আটকে দিয়েছে সড়ক। নগরীর গোরাচাঁদ দাস লেন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক সড়কের প্রবেশপথে কোনো ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় এখানে সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। অটোরিকশা ও ইজিবাইকসহ মোটরসাইকেল জটে প্রায় আধাঘন্টা আটকে থাকতে হয় যাত্রীদের। এসময় একজন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী নিজ উদ্যোগে এখানের যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখেন এবং পাঁচ মিনিটে লেনের যানজট দূর হয়ে যায়। তা দেখে কয়েকজন যাত্রী বলেন- ৬ আগস্ট থেকে শিক্ষার্থীরা যে কদিন সড়কের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করেছে, সে কদিন আমরা খুব ভালো ছিলাম। ট্রাফিক পুলিশ এখন আর ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন না বলে জানান একাধিক যাত্রী। তাদের কথার প্রমাণ পাওয়া যায় কাকলী মোড়ে দাঁড়িয়ে। এখানে তিন-চার জন ট্রাফিক পুলিশ ও একজন সার্জেন্ট থাকার পরও ইজিবাইক ও অটোরিকশাগুলোকে তাদের সামনেই সদর রোডে চলাচল করতে দেখা যায়। বিকট শব্দে ছুটে যায় বখাটেদের মোটরসাইকেল। আবার নীল সিএনজিগুলোর ভটভট শব্দের সাথে কালো ধুয়ো দেখেও না দেখার ভান করেন ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্ট সবাই। এ বিষয় জানতে চাইলে একজন ট্রাফিক কনস্টেবল বলেন, কিছু বললে উল্টো তর্ক করে, মারমুখী আচরণ করে। সময়টা ভালো না বোঝেনইতো। আমরা এখনো স্বাভাবিক নই বলে জানান তিনি।
আর সার্জেন্ট শওগাতুল ইসলাম বলেন- আমরাতো সড়কে দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু আমাদের লোকবল কম থাকায় সমস্যা হচ্ছে। আসলে সিটি করপোরেশন এলাকায় ট্রাফিক সুশৃঙ্খল রাখতে যানবাহনের নিবন্ধন তালিকা জরুরী বলে জানান তিনি।
বেশিরভাগ অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়- তারা করোনাকালীন সময়ে চাকুরীচ্যুত হয়ে গ্রামে এসে এই অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালানো শুরু করেছেন। কেউ কেউ আবার মাত্র দু-তিন মাস ধরে গাড়ি চালাচ্ছেন সড়কে। তবে এদের কারোই নাই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং সড়কের নিয়মনীতি নিয়ে কোনো প্রশিক্ষণওবনেই কারো। বলেন- পেটের টানে রিকশা চালাই। এটাও যদি করতে না দেন- কি খেয়ে বাঁচবো- চালাতে চালাতে রাস্তার সব নিয়ম শিখে গেছি বলে দাবী বেশিরভাগ চালকদের।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল বিআরটিএ বরিশাল জেলা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন- আমাদের কাছে আসলে অটোরিকশা ও ইজিবাইক নিয়ে কোনো পৃথক নির্দেশনা নেই। থ্রী-হুইলার হিসেবে হালকা যানবাহনের লাইসেন্স যারা পাচ্ছে তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। অটোরিকশা ও ইজিবাইকগুলো আসলে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন। তাই এ বিষয়ের সিদ্ধান্ত বরিশাল সিটি করপোরেশনকে নিতে হবে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে আমরা মোবাইল কোট পরিচালনা করছি বলে জানান তিনি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিবহন শাখার ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম টিপু- নিবন্ধন শাখার মানিক এর সাথে কথা বলে জানা যায়- সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত বরিশাল নগরীকে চলাচলের জন্য ২৬১০টি সিএনজি- অটোরিকশা ও ইজিবাইক নিবন্ধন দিয়েছেন। এগুলোই নগরীতে চলাচল উপযোগী ছিলো। পটপরিবর্তন গত কারণে এখন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিভাগীয় কমিশনার শওকত আলী সাহেব এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। মানিক বলেন- বিষয়টি আমরা প্রশাসক মহোদয়কে জানিয়েছি। ট্রাফিক বিভাগের সাথে বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন বলেছেন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, কোড নাম্বারঃ ৯২