Dhaka , Saturday, 6 December 2025
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রামগঞ্জে বেগম জিয়ার মিলাদ মাহফিলে অঝোরে কাঁদলেন নেতাকর্মীরা কাজের বৈচিত্রতা দিয়েই বেগমগঞ্জে উন্নয়ন করবো ; সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে নতুন ইউএনও  মধুপুরে সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় গণ দোয়া মাহফিল। স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ততা ছাড়া বড় দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নগরীর কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়াম মার্কেটে দিনদুপুরে দুর্ধর্ষ চুরি রূপগঞ্জের হোড়গাঁওয়ে মাদক কারবারি ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর মানববন্ধন রূপগঞ্জে ভুয়া অনলাইন অ্যাপস VBSZ দেখিয়ে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রণক্ষেত্র রূপগঞ্জ! ছাত্রদল কার্যালয়ে হামলা, ভাঙলো জিয়ার ছবি; আহত ৮ খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় তৈমুর আলম খন্দকারের উদ্যোগে রূপগঞ্জে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত শ্রীপুরে নাকোল ইউনিয়নে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও রোগ মুক্তি কামনায় পবিত্র কোরআন ও খতম দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে পৌরসভা এবং ১৪ ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন জাগায় বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা নাভারণে ট্রেনে কাটা পড়ে বাবু নামে এক যুবকের মৃত্যু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারত করলেন নবাগত ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী রায়পুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু আদেশ সংযুক্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল নেতা মোশাররফ’র বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার পাইকগাছায় দাঁড়িপাল্লার গণসংযোগ: কালভার্ট নির্মাণে অনুদান দিলেন মাঃ আবুল কালাম আজাদ পাইকগাছার চাঁদখালীতে দুই বিএনপি নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার রূপগঞ্জে ছাত্রদলের কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, আহত ৮ পাইকগাছায় বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা পাইকগাছায় ইউএনও হিসেবে যোগদান করলেন ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী চবির অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. তোফায়েল আহমেদ ও প্রফেসর ড. এম. আব্দুল ওয়াহ্হাব এর শোকসভা অনুষ্ঠিত। রামগঞ্জ মার্চ ফর দাঁড়িপাল্লা অনুষ্ঠানে   সরকারি সকল অফিসে ঘুষ এবং হয়রানি বন্ধ করা হবে: নাজমুল হাসান পাটোয়ারী লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত, মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে ধোঁয়াশা রূপগঞ্জে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল সরাইলেপালিত হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কমপ্লিট শাটডাউন পাবনায় ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ১১ বছর পর জয়দেবপুরে গ্রেপ্তার শ্রীপুরে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও রোগ মুক্তি কামনায় পবিত্র কোরআন ও খতম দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ৭০কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক দুর্যোগ প্রতিরোধে সকলকে সচেতন হতে হবে -ডিসি সারওয়ার ৯.৫০ লাখ টাকার শাড়ি ও মাদক জব্দ: কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবি’র সফল সাড়াশি অভিযান

সংরক্ষণহীনতায় হারিয়ে যাচ্ছে হরিপুরের ঐতিহ্যবাহী রাজা গণেশের প্রাচীন নিদর্শন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:02:41 pm, Monday, 24 November 2025
  • 13 বার পড়া হয়েছে

নয়ন হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের গড়ভবানিপুর মৌজায় অবস্থিত চব্বিশ পরগনার ঐতিহাসিক ভাতুরিয়া রাজা গণেশের বসতভিটা, গড়, পুকুর ও দুইটি নদসহ সব নিদর্শনই এখন প্রায় বিলুপ্তপ্রায়। সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে দীর্ঘ ৬০০ বছরের ইতিহাস আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।
হরিপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজা গণেশের এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এখান থেকে ভারত সীমান্তের দূরত্ব মাত্র ১-২ কিলোমিটার। ১৪১৪ থেকে ১৪১৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজা গণেশ ভাতুরিয়া অঞ্চলের শাসনভার পরিচালনা করেন। পরে তার পুত্র যুদু মিঞা ওরফে জালালউদ্দিনের হাত ধরে ২৪ পরগনা অঞ্চলে ইসলাম প্রচার বিস্তার লাভ করে।
প্রায় ৫০ একর জমিজুড়ে ছিল রাজা গণেশের বসতি, নদ ও পুকুরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। কালের বিবর্তনে বাড়ির ভিটের অস্তিত্ব এখন প্রায় বিলীন। এলাকার একসময়ের বৃহৎ গড়টি আজও টিকে থাকলেও যথাযথ সংরক্ষণ না থাকায় তা দ্রুত ভেঙে পড়ছে। গড়ে রয়েছে বনজ, ফলজ ও নানা ঔষধি গাছসহ বহু প্রাচীন নিদর্শন।
রাজা গণেশের বসতভিটার দু’পাশে ছিল দুটি নদ, যেগুলোর উৎপত্তি কুলিক নদী থেকে। ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেসব নদ এখন চিহ্নমাত্র অবশিষ্ট। স্থানীয়রা বলছেন, নদ দু’টি পুনঃখনন ও সংস্কার করা হলে কৃষিখাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
গড়ের পাশে রয়েছে প্রায় ১০ একরজুড়ে তন্নীদিঘী নামে বিশাল পুকুর। একসময় পুকুরটি ৭৫ ফুট প্রস্তের মাটির প্রাচীর দ্বারা ঘেরা ছিল। এখানেই রাজার ঘোড়দৌড়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো বলে মনে করা হয়। পুকুরের ভেতর এখনো একটি বিশাল শাল কাঠের খুঁটি দেখা যায়, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা অলৌকিক কাহিনি।
পুকুরের পূর্বপাড়ে রয়েছে শাহাজালাল কুতুবে আলম পীরের মাজার ও বিশাল কবরস্থান, যা স্থানীয়ভাবে ‘তন্নীদিঘী পারিবারিক কবরস্থান’ নামে পরিচিত। এলাকার একাধিক গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের পূর্বপুরুষদের কবর এখানে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় প্রবীণদের। এর দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে শাহা তিসতিয়া পীরের মাজার ও দুইটি অজ্ঞাত প্রাচীন কবর।
১৯৯০ সালে পুকুরপাড়ে ৩৮টি পরিবারের জন্য একটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করে সরকার। সেই সময় থেকে পুকুরটি তাদের দখলেই আছে। সংরক্ষণের অভাবে শুষ্ক মৌসুমে এখন পুকুরেও পানি থাকে না।
ভাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজান সরকার বলেন—
“রাজা গণেশের ইতিহাস আমরা পাঠ্যবইতে পড়েছি। কিন্তু তার প্রাচীন নিদর্শনগুলো আজ অযত্নে হারিয়ে যাচ্ছে। এগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার। এগুলো রক্ষা করা গেলে এখানে বড় ধরনের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব, যা সরকারকে রাজস্ব আয়েও সহায়তা করবে।”
স্থানীয়দের দাবি—
সরকারি উদ্যোগে দ্রুত রাজা গণেশের সকল নিদর্শন সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হলে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস ফিরে পাবে নতুন প্রাণ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগঞ্জে বেগম জিয়ার মিলাদ মাহফিলে অঝোরে কাঁদলেন নেতাকর্মীরা

সংরক্ষণহীনতায় হারিয়ে যাচ্ছে হরিপুরের ঐতিহ্যবাহী রাজা গণেশের প্রাচীন নিদর্শন

আপডেট সময় : 06:02:41 pm, Monday, 24 November 2025

নয়ন হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের গড়ভবানিপুর মৌজায় অবস্থিত চব্বিশ পরগনার ঐতিহাসিক ভাতুরিয়া রাজা গণেশের বসতভিটা, গড়, পুকুর ও দুইটি নদসহ সব নিদর্শনই এখন প্রায় বিলুপ্তপ্রায়। সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে দীর্ঘ ৬০০ বছরের ইতিহাস আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।
হরিপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজা গণেশের এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এখান থেকে ভারত সীমান্তের দূরত্ব মাত্র ১-২ কিলোমিটার। ১৪১৪ থেকে ১৪১৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজা গণেশ ভাতুরিয়া অঞ্চলের শাসনভার পরিচালনা করেন। পরে তার পুত্র যুদু মিঞা ওরফে জালালউদ্দিনের হাত ধরে ২৪ পরগনা অঞ্চলে ইসলাম প্রচার বিস্তার লাভ করে।
প্রায় ৫০ একর জমিজুড়ে ছিল রাজা গণেশের বসতি, নদ ও পুকুরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। কালের বিবর্তনে বাড়ির ভিটের অস্তিত্ব এখন প্রায় বিলীন। এলাকার একসময়ের বৃহৎ গড়টি আজও টিকে থাকলেও যথাযথ সংরক্ষণ না থাকায় তা দ্রুত ভেঙে পড়ছে। গড়ে রয়েছে বনজ, ফলজ ও নানা ঔষধি গাছসহ বহু প্রাচীন নিদর্শন।
রাজা গণেশের বসতভিটার দু’পাশে ছিল দুটি নদ, যেগুলোর উৎপত্তি কুলিক নদী থেকে। ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেসব নদ এখন চিহ্নমাত্র অবশিষ্ট। স্থানীয়রা বলছেন, নদ দু’টি পুনঃখনন ও সংস্কার করা হলে কৃষিখাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
গড়ের পাশে রয়েছে প্রায় ১০ একরজুড়ে তন্নীদিঘী নামে বিশাল পুকুর। একসময় পুকুরটি ৭৫ ফুট প্রস্তের মাটির প্রাচীর দ্বারা ঘেরা ছিল। এখানেই রাজার ঘোড়দৌড়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো বলে মনে করা হয়। পুকুরের ভেতর এখনো একটি বিশাল শাল কাঠের খুঁটি দেখা যায়, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা অলৌকিক কাহিনি।
পুকুরের পূর্বপাড়ে রয়েছে শাহাজালাল কুতুবে আলম পীরের মাজার ও বিশাল কবরস্থান, যা স্থানীয়ভাবে ‘তন্নীদিঘী পারিবারিক কবরস্থান’ নামে পরিচিত। এলাকার একাধিক গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের পূর্বপুরুষদের কবর এখানে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় প্রবীণদের। এর দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে শাহা তিসতিয়া পীরের মাজার ও দুইটি অজ্ঞাত প্রাচীন কবর।
১৯৯০ সালে পুকুরপাড়ে ৩৮টি পরিবারের জন্য একটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করে সরকার। সেই সময় থেকে পুকুরটি তাদের দখলেই আছে। সংরক্ষণের অভাবে শুষ্ক মৌসুমে এখন পুকুরেও পানি থাকে না।
ভাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজান সরকার বলেন—
“রাজা গণেশের ইতিহাস আমরা পাঠ্যবইতে পড়েছি। কিন্তু তার প্রাচীন নিদর্শনগুলো আজ অযত্নে হারিয়ে যাচ্ছে। এগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার। এগুলো রক্ষা করা গেলে এখানে বড় ধরনের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব, যা সরকারকে রাজস্ব আয়েও সহায়তা করবে।”
স্থানীয়দের দাবি—
সরকারি উদ্যোগে দ্রুত রাজা গণেশের সকল নিদর্শন সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হলে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস ফিরে পাবে নতুন প্রাণ।