Dhaka , Tuesday, 10 February 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছায় ৮৮ ভোট কেন্দ্র, ৪৮৮ বুথ; ৭৭ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন রামগঞ্জে এসএইচটিসি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সেলাই মেশিন বিতরণ রাজাপুরে বিএনপির বিরুদ্ধে জামায়াতের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন ভোটের ছুটিতে সাভার-আশুলিয়া ছাড়ছেন পোশাক শ্রমিকরা, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাস, কাবিখা টাকা ভাগ করে খাওয়ার জন্য নির্বাচনে আসি নাই: রফিকুল ইসলাম জামাল মধুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর  সংবাদ সম্মেলন নির্বাচনের নিরাপত্তা জোরদারে ঢাকায় যৌথবাহিনীর ফুট পেট্রোল মহড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা মৌলভীবাজারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং নিরাপত্তার অঙ্গীকার: লালমনিরহাটে ৫ সহস্রাধিক আনসার-ভিডিপি সদস্যের নির্বাচনী প্রস্তুতি সমাবেশ শ্রীপুরে উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতির বিএনপিতে যোগদান ৬ মাসেই অক্সিজেনের ভাঙা সেতু পুননির্মাণ করেছে চসিক:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম–৯ আসনে আবু সুফিয়ান’র সমর্থনে সনাতনী র‍্যালি রংপুর বিভাগে নির্বাচন ঘিরে র‍্যাব ও যৌথ বাহিনীর বিশেষ মহড়া কিশোরগঞ্জে উপজেলা পর্যায়ে কড়া নিরাপত্তায় ব্যালট পেপার পাঠানো শুরু করেছে এনসিটি ইস্যুতে শ্রমিকদের গ্রেফতার-নিপীড়নে উদ্বেগ পেশাজীবি পরিষদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কালিগঞ্জে জাতীয় পার্টির বিশাল জনসভা ঝালকাঠি-১ আসনে হাতপাখার ইব্রাহিম আল হাদীর নির্বাচনী গণমিছিল বেগমগঞ্জে র‍্যাবের রোবাস্ট পেট্রোল মহড়া ও চেকপোস্ট স্থাপন এবং আকস্মিক তল্লাশি অভিযান জোরদার ঢাকা-১৯ আসনে জমজমাট লড়াই, ভোটের অপেক্ষায় ভোটাররা বিএনপি প্রার্থী মেয়র মজিবর রহমানের সহধর্মিণী মুন্নীর  উঠান বৈঠকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি  ঝালকাঠি-১ আসনের রাজাপুরে জামায়াত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের নির্বাচনী গণমিছিল  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জাতীয় পার্টির জিয়াউল হক মৃধা জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে চন্দনাইশ উপজেলা মাদ্রাসা “শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান” নির্বাচিত হয়েছেন মোজাহেরুল কাদের। রূপগঞ্জে বিএনপির ৩০ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান নরসিংদীর ৫টি আসনের ৬৬৩ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৯৩টি ঝুঁকিপূর্ণ দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে দুর্নীতির জায়গা থাকবে না; মাওঃ আবুল কালাম আজাদ পাইকগাছায় গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ রূপগঞ্জ পূর্বাচলে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবদল নেতা নিহত ॥ আহত এক রূপগঞ্জে নির্বাচনের হালচাল ভোটাররাই পাল্টে দিবেন নির্বাচনী সমীকরণ 

শরীয়তপুরে উজ্জ্বল-আনোয়ারের নিয়ন্ত্রণে পিআইও অফিস, কোটি টাকার হরিলুট

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:52:03 pm, Saturday, 31 January 2026
  • 50 বার পড়া হয়েছে

মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ের নামে প্রতিটি প্রকল্প থেকে ৫ শতাংশ অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) অফিসের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সহকারী উজ্জ্বল মন্ডল ও অফিস সহকারী আনোয়ারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত এই অর্থ না দিলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ফাইল আটকে রাখা হয় এবং বিল ছাড়ে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করা হয়।

ভুক্তভোগী একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরও তারা সময়মতো বিল পাচ্ছেন না। অফিসের উপ-সহকারী উজ্জ্বল মন্ডল ও অফিস সহকারী আনোয়ার প্রতিটি প্রকল্পে ৫ শতাংশ অর্থ দেওয়ার জন্য চাপ দেন। টাকা না দিলে কখনো কাগজে ত্রুটি, কখনো স্বাক্ষরের অজুহাত দেখিয়ে ফাইল আটকে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। কমিশনের টাকা দিলে প্রকল্পের সভাপতি কিংবা সংশ্লিষ্ট কাউকে প্রয়োজন হয় না।

সরেজমিন,স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারের কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। কিন্তুু সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি বা আংশিক সমাপ্ত না করেই পুরো বিল প্রদান করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা( পিআইও) অফিস । এবছর ভেদরগঞ্জের সব ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৮৩ দশমিক ৫৩ টন গম যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৫০ টাকা, কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৮৩ দশমিক ৫৩ টন চাল যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৫০ টাকা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৩৯ টাকা বরাদ্ধ দেয় সরকার। কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অফিসের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সহকারী উজ্জ্বল মন্ডল ও অফিস সহকারী আনোয়ার সহ দপ্তরের ব্যক্তিবর্গের
যোগসাজসে কাবিখা ও কাবিটার কাজ আংশিক বা পুরো সম্পন্ন না করেই বিল প্রদান করেছেন পিআইও। যেসব সড়কে প্রকল্পের আওতায় সংস্কার হওয়ার কথা তার আশেপাশের স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউই জানেন না যে সড়কগুলো সংস্কার হয়েছে। অথচ কাগজপত্রে সড়ক হয়ে গেছে। সব ইউনিয়নের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সড়কে ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও কাজ হয়েছে আংশিক আর কোথায় হয়নি কোন কাজই। শুধু ২০২৫-২৬ অর্থবছরই নয় যেকোনো ধরনের কাজেই কমিশন না দিলে ফাইল আটকে দেন তারা। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রকল্পের মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকারের অর্থ অপচয় হচ্ছে। স্থানীয়রা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তারাবুনিয়া এলাকার মানিক গায়েন বলেন, গত ৩-৪ বছরে এই সড়কে কোনো কাজ হয়নি। এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি। আমি সব সময় এই সড়কের কাছে থাকি, আমার দুই চোখে আমি দেখিনি যে এই সড়কে কাজ হয়েছে। এখন আপনারা বলতেছেন, কাজ হয়ে গেছে। কাজটা হলো কখন? গত ৩-৪ বছর ধরে একই চিত্র সড়কের। বৃষ্টি বাদলে আমাদের নৌকা দিয়ে চলাফেরা করা লাগে। এবছরও নৌকা লাগবে। অনেকে ইতোমধ্যে বর্ষার জন্য নৌকা বানাতে দিয়েছেন। সড়ক হলে তো আর নৌকা বানাতে দিত না।

আফা মোল্লা বাজার এলাকার আব্দুস সালাম বলেম, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করি। যদি কেউ সড়কে কাজ করত, তাহলে আমি দেখতে পেতাম। যদি গভীর রাতেও কেউ কাজ করে থাকেন, তাহলে তারও কোনো প্রমাণ সড়কে দেখা যায়নি। কাগজপত্রে অনেক কিছুই হয়, বাস্তবতা ভিন্ন জিনিস।

জানতে চাইলে এক ঠিকাদার বলেন, “কাজ শেষ করেও মাসের পর মাস বিল পাওয়া যায় না। পার্সেন্ট না দিলে ফাইল নড়ে না—এটাই বাস্তবতা।”
ঠিকাদারদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অর্থ আদায় করা হলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। কারণ, পিআইও অফিসের মাধ্যমেই প্রকল্পের বিল ছাড় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল মন্ডলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিল প্রদান করার নিয়ম আছে বিধায় আমরা বিল প্রদান করেছি। যদি কেউ বিল নিয়ে কাজ না করেন, তাহলে লাল তালিকা করে টাকা ফেরত আনবে সরকার। কাজ না করে বিল দেওয়া যায়, এমন প্রমাণপত্র চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন উজ্জল মন্ডল। তিনি পুরো বিষয়টির বক্তব্য না দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে অফিস থেকে চলে যান। এসময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের ছবি তুলে রাখেন। তবে আরেক অভিযুক্ত অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হয় নি।

ভেদরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হাসান আহমেদ বলেন, কাজ না করে বিল উত্তলন করার সুযোগ নেই। যদি কাজ না করে কেউ বিল নিয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমার অফিসের কেউ অনিয়মের সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে ভেদরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) হাফিজুল হক বলেন, কিছু অভিযোগের বিষয়গুলো আমি শুনেছি। যারা কাজ না করে বিল নিয়ে গেছে, তাদের বিষয়ে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় ৮৮ ভোট কেন্দ্র, ৪৮৮ বুথ; ৭৭ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন

শরীয়তপুরে উজ্জ্বল-আনোয়ারের নিয়ন্ত্রণে পিআইও অফিস, কোটি টাকার হরিলুট

আপডেট সময় : 08:52:03 pm, Saturday, 31 January 2026

মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ের নামে প্রতিটি প্রকল্প থেকে ৫ শতাংশ অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) অফিসের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সহকারী উজ্জ্বল মন্ডল ও অফিস সহকারী আনোয়ারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত এই অর্থ না দিলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ফাইল আটকে রাখা হয় এবং বিল ছাড়ে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করা হয়।

ভুক্তভোগী একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরও তারা সময়মতো বিল পাচ্ছেন না। অফিসের উপ-সহকারী উজ্জ্বল মন্ডল ও অফিস সহকারী আনোয়ার প্রতিটি প্রকল্পে ৫ শতাংশ অর্থ দেওয়ার জন্য চাপ দেন। টাকা না দিলে কখনো কাগজে ত্রুটি, কখনো স্বাক্ষরের অজুহাত দেখিয়ে ফাইল আটকে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। কমিশনের টাকা দিলে প্রকল্পের সভাপতি কিংবা সংশ্লিষ্ট কাউকে প্রয়োজন হয় না।

সরেজমিন,স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারের কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। কিন্তুু সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি বা আংশিক সমাপ্ত না করেই পুরো বিল প্রদান করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা( পিআইও) অফিস । এবছর ভেদরগঞ্জের সব ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৮৩ দশমিক ৫৩ টন গম যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৫০ টাকা, কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৮৩ দশমিক ৫৩ টন চাল যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৫০ টাকা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৩৯ টাকা বরাদ্ধ দেয় সরকার। কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অফিসের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সহকারী উজ্জ্বল মন্ডল ও অফিস সহকারী আনোয়ার সহ দপ্তরের ব্যক্তিবর্গের
যোগসাজসে কাবিখা ও কাবিটার কাজ আংশিক বা পুরো সম্পন্ন না করেই বিল প্রদান করেছেন পিআইও। যেসব সড়কে প্রকল্পের আওতায় সংস্কার হওয়ার কথা তার আশেপাশের স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউই জানেন না যে সড়কগুলো সংস্কার হয়েছে। অথচ কাগজপত্রে সড়ক হয়ে গেছে। সব ইউনিয়নের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সড়কে ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও কাজ হয়েছে আংশিক আর কোথায় হয়নি কোন কাজই। শুধু ২০২৫-২৬ অর্থবছরই নয় যেকোনো ধরনের কাজেই কমিশন না দিলে ফাইল আটকে দেন তারা। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রকল্পের মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকারের অর্থ অপচয় হচ্ছে। স্থানীয়রা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তারাবুনিয়া এলাকার মানিক গায়েন বলেন, গত ৩-৪ বছরে এই সড়কে কোনো কাজ হয়নি। এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি। আমি সব সময় এই সড়কের কাছে থাকি, আমার দুই চোখে আমি দেখিনি যে এই সড়কে কাজ হয়েছে। এখন আপনারা বলতেছেন, কাজ হয়ে গেছে। কাজটা হলো কখন? গত ৩-৪ বছর ধরে একই চিত্র সড়কের। বৃষ্টি বাদলে আমাদের নৌকা দিয়ে চলাফেরা করা লাগে। এবছরও নৌকা লাগবে। অনেকে ইতোমধ্যে বর্ষার জন্য নৌকা বানাতে দিয়েছেন। সড়ক হলে তো আর নৌকা বানাতে দিত না।

আফা মোল্লা বাজার এলাকার আব্দুস সালাম বলেম, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করি। যদি কেউ সড়কে কাজ করত, তাহলে আমি দেখতে পেতাম। যদি গভীর রাতেও কেউ কাজ করে থাকেন, তাহলে তারও কোনো প্রমাণ সড়কে দেখা যায়নি। কাগজপত্রে অনেক কিছুই হয়, বাস্তবতা ভিন্ন জিনিস।

জানতে চাইলে এক ঠিকাদার বলেন, “কাজ শেষ করেও মাসের পর মাস বিল পাওয়া যায় না। পার্সেন্ট না দিলে ফাইল নড়ে না—এটাই বাস্তবতা।”
ঠিকাদারদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অর্থ আদায় করা হলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। কারণ, পিআইও অফিসের মাধ্যমেই প্রকল্পের বিল ছাড় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল মন্ডলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিল প্রদান করার নিয়ম আছে বিধায় আমরা বিল প্রদান করেছি। যদি কেউ বিল নিয়ে কাজ না করেন, তাহলে লাল তালিকা করে টাকা ফেরত আনবে সরকার। কাজ না করে বিল দেওয়া যায়, এমন প্রমাণপত্র চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন উজ্জল মন্ডল। তিনি পুরো বিষয়টির বক্তব্য না দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে অফিস থেকে চলে যান। এসময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের ছবি তুলে রাখেন। তবে আরেক অভিযুক্ত অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হয় নি।

ভেদরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হাসান আহমেদ বলেন, কাজ না করে বিল উত্তলন করার সুযোগ নেই। যদি কাজ না করে কেউ বিল নিয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমার অফিসের কেউ অনিয়মের সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে ভেদরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) হাফিজুল হক বলেন, কিছু অভিযোগের বিষয়গুলো আমি শুনেছি। যারা কাজ না করে বিল নিয়ে গেছে, তাদের বিষয়ে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।