Dhaka , Saturday, 6 June 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
বিক্ষোভ করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, দেশে ফিরলেন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার যানজট নেইমারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে যা জানালেন আনচেলত্তি দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কুয়েত-বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্য আটক নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ জুয়া খেলা নিয়ে বাকবিতন্ডা ভাতিজাকে বাঁচাতে গিয়ে চাচার মৃত্যু: কিশোর গ্যাং নেতা গ্রেপ্তার নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যতের ভিত্তি বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদেরপথসভা অনুষ্ঠিত বিএনপি সকল ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করবে : মজিবুর রহমান এমপি পাইকগাছায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও চারা বিতারণ পাইকগাছায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত; র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ​রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ওপর হামলা, দোকানে লুটপাট ও হত্যার হুমকি মাদারীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক রেলি শহীদ জিয়ার আদর্শে দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাতের চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে খালে ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে :- ডা. শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী জি-মেইল হ্যাক, ব্যাংক হিসাব থেকে বিকাশ/নগদে মানি ট্রান্সফার, পরে অনলাইন জুয়া ও গরু ব্যবসায় বিনিয়োগ, প্রতারক চক্রের মূলহোতা ইকবালসহ গ্রেপ্তার ২ রংপুর সেক্টরের সকল সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি: ১৫ ও ৬১ ব্যাটালিয়নের তৎপরতায় অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ কালীগঞ্জে ৫ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বরাত হাতীবান্ধায় গ্রেফতার: র‍্যাব-১৩ এর অভিযান যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন মাইনুল ইসলাম ফরাজী মধুপুরে ডেঙ্গু রোধে জন সচেতনতা বিষয়ক র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের মধুপুরে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ডাকে কলম বিরতি পালিত রূপগঞ্জের গণমানুষের নেতা জননেতা মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু-কে জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পাহাড়তলীতে হামলা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় আদালতে জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে মাদক কারবারি আলমগীর স্থানীয় এমপির নির্দেশনায় রুপগঞ্জের গোলাকান্দাইল এশিয়ান হাইওয়ের ময়লার ভাগাড় পরিষ্কার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন এজমল হোসেন পাইলট নানার বাড়ি থেকে ফেরার পর নিখোঁজ, খালে মিলল যুবকের লাশ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও বৈশ্বিক শক্তির টানাপোড়েন—নতুন বিশ্বব্যবস্থার আলোচনা জোরদার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:19:57 pm, Tuesday, 14 April 2026
  • 36 বার পড়া হয়েছে

জহিরুল ইসলাম খান, কলামিস্ট:

ইসলামাবাদ!

ইরান আমেরিকার এই আলোচনায় আগামী বিশ্ব ব্যবস্থার নীতিনির্ধারণ হবে। আমেরিকার ডলারের পরিবর্তে নতুন অর্থ ব্যবস্থার পদধ্বনি ইতোমধ্যে শুনা যাচ্ছে। ইজরায়েল হঠকারিতার সর্বশেষ প্রমান লেবাননের সাধারন জনগনের উপর হামলা মার্কনীরা তাদের দরকষাকষির রসদ হারিয়েছে। তার উপর ইরানের হাতে বন্দি ৬০০ মার্কিন মেরিন সেনা দরকষাকষির টেবিলে হয়ে উঠতে পারে মার্কিনীদের জন্য হারের অন্যতম কারন।

লেবাননের ৭০ ভাগ খ্রিস্টান বসতিতে হামলা করে মূলত ইজরায়েল পশ্চিমাদের আস্থা হারিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ইজরায়েলের সাথে চুক্তি বাতিল এবং ইরানে তাদের দূতাবাস খোলার কথা জানিয়েছেন। এটা মার্কিন মুলুকে বিরাট ধাক্কা। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী লেবাননে হামলার সময় হামলার স্থান থেকে মাত্র ১০০ মি দূরে বেলজিয়াম দূতাবাসে অবস্থান করছিলেন।

যুদ্ধে যখন বিপক্ষ দেশ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা করে তখন বুঝতে হবে তারা দিগভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া বিষন্নতার সর্বশেষ রুপান্তর হলো যখন শত্রু প্রলাপ বকতে শুরু করে। যা গত দুই সপ্তাহ যাবত ট্রাম্প বিরতিহীন ভাবে করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ন্যাটোর সুতোয় টান পড়ায় ট্রাম্প আরো বেসামাল আচরন করছিলেন।

আগামী মধ্যবর্তি নির্বাচনে রিপাবলিকানদের মুখ রক্ষার জন্য প্রানান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছেন উপ রাষ্ট্রপতি জে ডি ভান্স। তাছাড়া আগামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার খায়েশও জিইয়ে রাখছেন একই সাথে। মার্কিন মুলুকে সাধারণ জনগনের ট্রাম্প বিরোধিতা চরমে পৌছেছে।

অন্যদিকে ইজরায়েলের পার্লামেন্টে নেতা নিয়াহুর মার খাওয়ার ভিডিও বিশ্ব মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে তাদের বেহাল দশা সারা পৃথিবীর মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। গ্রেটার ইজরায়েলের রণেভঙ্গ হওয়ায় এর জন্য তাদের অপেক্ষা আরো দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে।

সারা পৃথিবীর মুসলিমরা যখন ফিলিস্তিনের ইস্যুতে নীরব ইরান সেখানে তাদের স্বাধীনতার শর্ত জুড়ে দিয়েছে। লেবাননের জনগনকে ইরান ছেড়ে যায়নি। একই হুথিদের জন্য রয়েছে আলাদা শর্ত। ইরান সারা পৃথিবীর মুসলিমদের চোখে আাঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো তারাই সাচ্চা মুসলিম। যে শেষ পর্যন্ত লড়ে যায় মাথানত করে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ইতোমধ্যে আলাদাভাবে ইরানের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। তারা ইউরোতে ক্রুড অয়েল কেনার জন্য মরিয়া চেষ্টা করছেন। এতে অন্তত ডলার না থাকলেও নিজেদের অর্থনীতির বেহাল দশা থেকে বাচার প্রানান্তকর প্রচেষ্টার অংশ।

সৌদি আরবের মুসলিম বিশ্বের নেতাগিরী তলিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। যার জন্য শেষ চেষ্টা হিসেবে ইজরায়েল কে দিয়ে লেবাননে হামলা চালিয়ে আমেরিকারকে যুদ্ধের ময়দানে রাখার জন্য যে ষড়যন্ত্র করেছিলো তাও শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে ফিরেছে। ধারনা করা যাচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সকল ব্যয়ও শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবেকেই পরিশোধ করতে হবে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে তিন ট্রিলিয়ন ডলার চেয়ে রেখেছেন আরব দেশগুলোর কাছে। যা সৌদি, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন কে জরিমানা স্বরুপ মার্কিনীদের হাতে তুলে দিতে হবে।

ইরান এই যুদ্ধে রণনীতি এবং কূটনীতি তে সৌদি, আমেরিকা এবং ইজরাইলকে বিপর্যস্ত করেছে। কিন্তু ইরান জিতে গেলেই সব শেষ হয়ে যাবে না। এখান থেকে শুরু হবে এক নতুন মহা যুদ্ধের পায়তারা। কারন সৌদি জোট কখনো চাইবে না ইরান অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হোক। ইরানের মুসলিম বিশ্বে ত্রাতা হয়ে উঠা সৌদি জোট কখনো মেনে নিবে না।

মার্কিনীদের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবসার ব্যয় পেষাতে ইয়েমেনের উপর টানা চার বছর বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি। ইয়েমেনের সাধারণ জনগনের মানবেতর জীবন সারা পৃথিবীর মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে স্বচক্ষে। ফিলিস্তিনের উপর ইজরায়েলের উপুর্যুপরি হামলা, হামাসকে নিঃশেষ করে দেয়ার মানবতা বিরুধী হামলায় মদদ দিয়েছে সৌদি তুর্কী সমর্থিত সুন্নী জোট।

এই যুদ্ধে ইরানের বিজয় সুন্নীদের শ্রেষ্ঠত্ব কমিয়ে দিবে অনেকাংশে। রাজনৈতিক এই ভিন্নতাকে ধর্মীয় প্রচারের অংশ হিসেবে সারা পৃথিবীর মানুষকে বিভক্ত করার যুগের পর যুগের প্রানান্তকর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হচ্ছে। সৌদি কখনো চাইবে না মার্কিনীরা ভূমধ্যসাগর ছেড়ে চলে যাক। কারন অন্যথায় ওদের রাজবংশের টিকি নড়বড়ে হয়ে যাবে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে।

আজ এই যুদ্ধ থেমে গেছে ভাবলে ভুল করবে মুসলিমরা। কারন এরপর গোপন ষড়যন্ত্র শুরু হবে ইরানকে আবার একঘরে করার পায়তারায়। আমেরিকা ইজরায়েল ততদিন পর্যন্ত পরবর্তী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিবে যতদিন না বুঝতে পারবে ইরানকে পর্যুদস্ত করার জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। আর সামনের যুদ্ধের সকল ব্যবভার গোপনে বহন করবে সৌদি আর তুর্কী সুন্নী জোট।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

বিক্ষোভ করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, দেশে ফিরলেন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও বৈশ্বিক শক্তির টানাপোড়েন—নতুন বিশ্বব্যবস্থার আলোচনা জোরদার

আপডেট সময় : 04:19:57 pm, Tuesday, 14 April 2026

জহিরুল ইসলাম খান, কলামিস্ট:

ইসলামাবাদ!

ইরান আমেরিকার এই আলোচনায় আগামী বিশ্ব ব্যবস্থার নীতিনির্ধারণ হবে। আমেরিকার ডলারের পরিবর্তে নতুন অর্থ ব্যবস্থার পদধ্বনি ইতোমধ্যে শুনা যাচ্ছে। ইজরায়েল হঠকারিতার সর্বশেষ প্রমান লেবাননের সাধারন জনগনের উপর হামলা মার্কনীরা তাদের দরকষাকষির রসদ হারিয়েছে। তার উপর ইরানের হাতে বন্দি ৬০০ মার্কিন মেরিন সেনা দরকষাকষির টেবিলে হয়ে উঠতে পারে মার্কিনীদের জন্য হারের অন্যতম কারন।

লেবাননের ৭০ ভাগ খ্রিস্টান বসতিতে হামলা করে মূলত ইজরায়েল পশ্চিমাদের আস্থা হারিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ইজরায়েলের সাথে চুক্তি বাতিল এবং ইরানে তাদের দূতাবাস খোলার কথা জানিয়েছেন। এটা মার্কিন মুলুকে বিরাট ধাক্কা। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী লেবাননে হামলার সময় হামলার স্থান থেকে মাত্র ১০০ মি দূরে বেলজিয়াম দূতাবাসে অবস্থান করছিলেন।

যুদ্ধে যখন বিপক্ষ দেশ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা করে তখন বুঝতে হবে তারা দিগভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া বিষন্নতার সর্বশেষ রুপান্তর হলো যখন শত্রু প্রলাপ বকতে শুরু করে। যা গত দুই সপ্তাহ যাবত ট্রাম্প বিরতিহীন ভাবে করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ন্যাটোর সুতোয় টান পড়ায় ট্রাম্প আরো বেসামাল আচরন করছিলেন।

আগামী মধ্যবর্তি নির্বাচনে রিপাবলিকানদের মুখ রক্ষার জন্য প্রানান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছেন উপ রাষ্ট্রপতি জে ডি ভান্স। তাছাড়া আগামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার খায়েশও জিইয়ে রাখছেন একই সাথে। মার্কিন মুলুকে সাধারণ জনগনের ট্রাম্প বিরোধিতা চরমে পৌছেছে।

অন্যদিকে ইজরায়েলের পার্লামেন্টে নেতা নিয়াহুর মার খাওয়ার ভিডিও বিশ্ব মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে তাদের বেহাল দশা সারা পৃথিবীর মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। গ্রেটার ইজরায়েলের রণেভঙ্গ হওয়ায় এর জন্য তাদের অপেক্ষা আরো দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে।

সারা পৃথিবীর মুসলিমরা যখন ফিলিস্তিনের ইস্যুতে নীরব ইরান সেখানে তাদের স্বাধীনতার শর্ত জুড়ে দিয়েছে। লেবাননের জনগনকে ইরান ছেড়ে যায়নি। একই হুথিদের জন্য রয়েছে আলাদা শর্ত। ইরান সারা পৃথিবীর মুসলিমদের চোখে আাঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো তারাই সাচ্চা মুসলিম। যে শেষ পর্যন্ত লড়ে যায় মাথানত করে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ইতোমধ্যে আলাদাভাবে ইরানের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। তারা ইউরোতে ক্রুড অয়েল কেনার জন্য মরিয়া চেষ্টা করছেন। এতে অন্তত ডলার না থাকলেও নিজেদের অর্থনীতির বেহাল দশা থেকে বাচার প্রানান্তকর প্রচেষ্টার অংশ।

সৌদি আরবের মুসলিম বিশ্বের নেতাগিরী তলিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। যার জন্য শেষ চেষ্টা হিসেবে ইজরায়েল কে দিয়ে লেবাননে হামলা চালিয়ে আমেরিকারকে যুদ্ধের ময়দানে রাখার জন্য যে ষড়যন্ত্র করেছিলো তাও শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে ফিরেছে। ধারনা করা যাচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সকল ব্যয়ও শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবেকেই পরিশোধ করতে হবে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে তিন ট্রিলিয়ন ডলার চেয়ে রেখেছেন আরব দেশগুলোর কাছে। যা সৌদি, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন কে জরিমানা স্বরুপ মার্কিনীদের হাতে তুলে দিতে হবে।

ইরান এই যুদ্ধে রণনীতি এবং কূটনীতি তে সৌদি, আমেরিকা এবং ইজরাইলকে বিপর্যস্ত করেছে। কিন্তু ইরান জিতে গেলেই সব শেষ হয়ে যাবে না। এখান থেকে শুরু হবে এক নতুন মহা যুদ্ধের পায়তারা। কারন সৌদি জোট কখনো চাইবে না ইরান অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হোক। ইরানের মুসলিম বিশ্বে ত্রাতা হয়ে উঠা সৌদি জোট কখনো মেনে নিবে না।

মার্কিনীদের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবসার ব্যয় পেষাতে ইয়েমেনের উপর টানা চার বছর বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি। ইয়েমেনের সাধারণ জনগনের মানবেতর জীবন সারা পৃথিবীর মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে স্বচক্ষে। ফিলিস্তিনের উপর ইজরায়েলের উপুর্যুপরি হামলা, হামাসকে নিঃশেষ করে দেয়ার মানবতা বিরুধী হামলায় মদদ দিয়েছে সৌদি তুর্কী সমর্থিত সুন্নী জোট।

এই যুদ্ধে ইরানের বিজয় সুন্নীদের শ্রেষ্ঠত্ব কমিয়ে দিবে অনেকাংশে। রাজনৈতিক এই ভিন্নতাকে ধর্মীয় প্রচারের অংশ হিসেবে সারা পৃথিবীর মানুষকে বিভক্ত করার যুগের পর যুগের প্রানান্তকর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হচ্ছে। সৌদি কখনো চাইবে না মার্কিনীরা ভূমধ্যসাগর ছেড়ে চলে যাক। কারন অন্যথায় ওদের রাজবংশের টিকি নড়বড়ে হয়ে যাবে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে।

আজ এই যুদ্ধ থেমে গেছে ভাবলে ভুল করবে মুসলিমরা। কারন এরপর গোপন ষড়যন্ত্র শুরু হবে ইরানকে আবার একঘরে করার পায়তারায়। আমেরিকা ইজরায়েল ততদিন পর্যন্ত পরবর্তী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিবে যতদিন না বুঝতে পারবে ইরানকে পর্যুদস্ত করার জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। আর সামনের যুদ্ধের সকল ব্যবভার গোপনে বহন করবে সৌদি আর তুর্কী সুন্নী জোট।