Dhaka , Wednesday, 11 February 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছায় ৮৮ ভোট কেন্দ্র, ৪৮৮ বুথ; ৭৭ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন রামগঞ্জে এসএইচটিসি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সেলাই মেশিন বিতরণ রাজাপুরে বিএনপির বিরুদ্ধে জামায়াতের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন ভোটের ছুটিতে সাভার-আশুলিয়া ছাড়ছেন পোশাক শ্রমিকরা, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাস, কাবিখা টাকা ভাগ করে খাওয়ার জন্য নির্বাচনে আসি নাই: রফিকুল ইসলাম জামাল মধুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর  সংবাদ সম্মেলন নির্বাচনের নিরাপত্তা জোরদারে ঢাকায় যৌথবাহিনীর ফুট পেট্রোল মহড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা মৌলভীবাজারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং নিরাপত্তার অঙ্গীকার: লালমনিরহাটে ৫ সহস্রাধিক আনসার-ভিডিপি সদস্যের নির্বাচনী প্রস্তুতি সমাবেশ শ্রীপুরে উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতির বিএনপিতে যোগদান ৬ মাসেই অক্সিজেনের ভাঙা সেতু পুননির্মাণ করেছে চসিক:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম–৯ আসনে আবু সুফিয়ান’র সমর্থনে সনাতনী র‍্যালি রংপুর বিভাগে নির্বাচন ঘিরে র‍্যাব ও যৌথ বাহিনীর বিশেষ মহড়া কিশোরগঞ্জে উপজেলা পর্যায়ে কড়া নিরাপত্তায় ব্যালট পেপার পাঠানো শুরু করেছে এনসিটি ইস্যুতে শ্রমিকদের গ্রেফতার-নিপীড়নে উদ্বেগ পেশাজীবি পরিষদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কালিগঞ্জে জাতীয় পার্টির বিশাল জনসভা ঝালকাঠি-১ আসনে হাতপাখার ইব্রাহিম আল হাদীর নির্বাচনী গণমিছিল বেগমগঞ্জে র‍্যাবের রোবাস্ট পেট্রোল মহড়া ও চেকপোস্ট স্থাপন এবং আকস্মিক তল্লাশি অভিযান জোরদার ঢাকা-১৯ আসনে জমজমাট লড়াই, ভোটের অপেক্ষায় ভোটাররা বিএনপি প্রার্থী মেয়র মজিবর রহমানের সহধর্মিণী মুন্নীর  উঠান বৈঠকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি  ঝালকাঠি-১ আসনের রাজাপুরে জামায়াত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের নির্বাচনী গণমিছিল  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জাতীয় পার্টির জিয়াউল হক মৃধা জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে চন্দনাইশ উপজেলা মাদ্রাসা “শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান” নির্বাচিত হয়েছেন মোজাহেরুল কাদের। রূপগঞ্জে বিএনপির ৩০ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান নরসিংদীর ৫টি আসনের ৬৬৩ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৯৩টি ঝুঁকিপূর্ণ দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে দুর্নীতির জায়গা থাকবে না; মাওঃ আবুল কালাম আজাদ পাইকগাছায় গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ রূপগঞ্জ পূর্বাচলে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবদল নেতা নিহত ॥ আহত এক রূপগঞ্জে নির্বাচনের হালচাল ভোটাররাই পাল্টে দিবেন নির্বাচনী সমীকরণ 

নগরীর বায়েজিদের বাংলাবাজার সন্ত্রাস,চাঁদাবাজির অভয়ারণ্য, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 01:49:40 pm, Monday, 2 February 2026
  • 17 বার পড়া হয়েছে

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন বাংলাবাজার মোড়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নালা অবৈধভাবে দখল করে দোকানঘর নির্মাণের পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবি,চিহ্নিত কয়েকজন দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা ও নালা দখল করে টং দোকান স্থাপন করে ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে আসছে।এতে একদিকে যেমন নগর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে তীব্র জলাবদ্ধতা ও জনভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাবাজার এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়রের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।আবেদনে অবিলম্বে দখল চেষ্টার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুষ্কৃতকারীদের কার্যক্রম বন্ধে সিটি কর্পোরেশনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়,বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন বাংলাবাজার মোড়ের উইলসন বিল্ডিংয়ের সম্মুখে সিটি কর্পোরেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নালা রয়েছে।সম্প্রতি ওই নালার ওপর অবৈধভাবে টং দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এলাকাবাসীর অভিযোগ,এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি,রাস্তা ও নালা দখল করে দোকান নির্মাণ এবং ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে আসছে।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন,অভিযুক্তরা কোনো বৈধ পেশায় জড়িত নয়।তারা সন্ত্রাস,ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয়।ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি,সিটি কর্পোরেশনের নালার ওপর দোকান নির্মাণ করা হলে ওই এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে।বর্ষা মৌসুমে নালার পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হলে দোকান,বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাট ডুবে যাবে।এতে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে।

আবেদনে আরও বলা হয়,অভিযুক্তরা ইতোমধ্যে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।স্থানীয় প্রশাসন একাধিকবার মৌখিকভাবে অবগত হলেও দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।এতে দুষ্কৃতকারীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে, সাইফুল,সাদ্দাম ও রাজু নামের তিন ব্যক্তি এই দখল ও চাঁদাবাজি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। স্থানীয়দের দাবি সাদ্দামের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি,দখলবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী,অভিযুক্ত সাদ্দাম পূর্বে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ছিল।বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তন ঘটিয়ে আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি,তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছে সাইফুল ও রাজু।

অভিযোগে বলা হয়, এই চক্রটি সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা ও নালা দখল করে একের পর এক দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিচ্ছে।প্রতিদিন এসব দোকান থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।অথচ এসব স্থাপনার কোনো বৈধ অনুমোদন নেই।ফলে নগর পরিকল্পনা ভেঙে পড়ছে এবং জনসাধারণের চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

বিশেষ করে বাংলাবাজার এলাকায় যে সীমিত পরিসরের রাস্তাটি রয়েছে,সেটি জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র পথ।ওই রাস্তার ওপর দোকান বসানোয় মানুষ বাধ্য হয়ে যানবাহন চলাচলের রাস্তা ব্যবহার করছে।এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচল মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ,অভিযুক্ত সাদ্দামের নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে।এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যবহার করেই দখলবাজি, চাঁদাবাজি,মারামারি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন চালানো হয়। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় সামাজিক অবক্ষয়ও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা ছোট ব্যবসা করে কোনোমতে পরিবার চালাই। কিন্তু এই সন্ত্রাসীরা নিয়মিত চাঁদা দাবি করে।না দিলে দোকান ভাঙচুর ও মারধরের হুমকি দেয়।প্রশাসনের কাছে গেলে আরও বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন,সিটি কর্পোরেশনের নালার ওপর দোকান বানানো মানে পুরো এলাকার সর্বনাশ। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়।যদি নালাই বন্ধ হয়ে যায়,তাহলে দোকান তো দূরের কথা,বসবাসই করা যাবে না।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা,অবিলম্বে এই চক্রকে আইনের আওতায় না আনা হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের অঘটন বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে।তারা বলেন, সাধারণ মানুষ এখন ক্ষোভে ফুঁসছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়রের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তারা অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ,নালা ও রাস্তা দখলমুক্ত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে,নগরের সৌন্দর্য,পরিবেশ ও নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দখলবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা জরুরি।একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কেউ সিটি কর্পোরেশনের নালা ও রাস্তা দখলের সাহস না পায়,সে জন্য কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানান তারা।

এলাকাবাসী বলেন,আমরা উন্নয়ন চাই,শান্তিতে বসবাস করতে চাই।কিন্তু দখলদার ও সন্ত্রাসীদের কারণে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপই পারে বাংলাবাজার এলাকাকে জনভোগান্তি ও অরাজকতা থেকে রক্ষা করতে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন,দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে বাংলাবাজার মোড়ের নালা,রাস্তা ও জনস্বার্থ রক্ষা পাবে এবং নগরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এই মুহূর্তে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা,রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা,দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি স্থানীয় এলাকাবাসীর।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় ৮৮ ভোট কেন্দ্র, ৪৮৮ বুথ; ৭৭ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন

নগরীর বায়েজিদের বাংলাবাজার সন্ত্রাস,চাঁদাবাজির অভয়ারণ্য, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

আপডেট সময় : 01:49:40 pm, Monday, 2 February 2026

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন বাংলাবাজার মোড়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নালা অবৈধভাবে দখল করে দোকানঘর নির্মাণের পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবি,চিহ্নিত কয়েকজন দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা ও নালা দখল করে টং দোকান স্থাপন করে ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে আসছে।এতে একদিকে যেমন নগর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে তীব্র জলাবদ্ধতা ও জনভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাবাজার এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়রের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।আবেদনে অবিলম্বে দখল চেষ্টার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুষ্কৃতকারীদের কার্যক্রম বন্ধে সিটি কর্পোরেশনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়,বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন বাংলাবাজার মোড়ের উইলসন বিল্ডিংয়ের সম্মুখে সিটি কর্পোরেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নালা রয়েছে।সম্প্রতি ওই নালার ওপর অবৈধভাবে টং দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এলাকাবাসীর অভিযোগ,এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি,রাস্তা ও নালা দখল করে দোকান নির্মাণ এবং ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে আসছে।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন,অভিযুক্তরা কোনো বৈধ পেশায় জড়িত নয়।তারা সন্ত্রাস,ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয়।ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি,সিটি কর্পোরেশনের নালার ওপর দোকান নির্মাণ করা হলে ওই এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে।বর্ষা মৌসুমে নালার পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হলে দোকান,বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাট ডুবে যাবে।এতে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে।

আবেদনে আরও বলা হয়,অভিযুক্তরা ইতোমধ্যে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।স্থানীয় প্রশাসন একাধিকবার মৌখিকভাবে অবগত হলেও দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।এতে দুষ্কৃতকারীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে, সাইফুল,সাদ্দাম ও রাজু নামের তিন ব্যক্তি এই দখল ও চাঁদাবাজি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। স্থানীয়দের দাবি সাদ্দামের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি,দখলবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী,অভিযুক্ত সাদ্দাম পূর্বে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ছিল।বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তন ঘটিয়ে আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি,তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছে সাইফুল ও রাজু।

অভিযোগে বলা হয়, এই চক্রটি সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা ও নালা দখল করে একের পর এক দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিচ্ছে।প্রতিদিন এসব দোকান থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।অথচ এসব স্থাপনার কোনো বৈধ অনুমোদন নেই।ফলে নগর পরিকল্পনা ভেঙে পড়ছে এবং জনসাধারণের চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

বিশেষ করে বাংলাবাজার এলাকায় যে সীমিত পরিসরের রাস্তাটি রয়েছে,সেটি জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র পথ।ওই রাস্তার ওপর দোকান বসানোয় মানুষ বাধ্য হয়ে যানবাহন চলাচলের রাস্তা ব্যবহার করছে।এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচল মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ,অভিযুক্ত সাদ্দামের নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে।এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যবহার করেই দখলবাজি, চাঁদাবাজি,মারামারি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন চালানো হয়। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় সামাজিক অবক্ষয়ও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা ছোট ব্যবসা করে কোনোমতে পরিবার চালাই। কিন্তু এই সন্ত্রাসীরা নিয়মিত চাঁদা দাবি করে।না দিলে দোকান ভাঙচুর ও মারধরের হুমকি দেয়।প্রশাসনের কাছে গেলে আরও বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন,সিটি কর্পোরেশনের নালার ওপর দোকান বানানো মানে পুরো এলাকার সর্বনাশ। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়।যদি নালাই বন্ধ হয়ে যায়,তাহলে দোকান তো দূরের কথা,বসবাসই করা যাবে না।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা,অবিলম্বে এই চক্রকে আইনের আওতায় না আনা হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের অঘটন বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে।তারা বলেন, সাধারণ মানুষ এখন ক্ষোভে ফুঁসছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়রের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তারা অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ,নালা ও রাস্তা দখলমুক্ত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে,নগরের সৌন্দর্য,পরিবেশ ও নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দখলবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা জরুরি।একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কেউ সিটি কর্পোরেশনের নালা ও রাস্তা দখলের সাহস না পায়,সে জন্য কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানান তারা।

এলাকাবাসী বলেন,আমরা উন্নয়ন চাই,শান্তিতে বসবাস করতে চাই।কিন্তু দখলদার ও সন্ত্রাসীদের কারণে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপই পারে বাংলাবাজার এলাকাকে জনভোগান্তি ও অরাজকতা থেকে রক্ষা করতে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন,দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে বাংলাবাজার মোড়ের নালা,রাস্তা ও জনস্বার্থ রক্ষা পাবে এবং নগরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এই মুহূর্তে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা,রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা,দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি স্থানীয় এলাকাবাসীর।