Dhaka , Saturday, 13 June 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
জিয়াউর রহমান বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন:- অধ্যাপক নছরুল কদির সন্দ্বীপে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবলুসহ ২ জন গ্রেপ্তার শিশুদের ইউটিআইয়ের ঝুঁকি বাড়ায় যে টয়লেট অভ্যাসগুলো, জানালেন বিশেষজ্ঞ কিশোরীদের মধ্যে স্কিনকেয়ার আসক্তি, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা ‘হামলা হবে না’ শর্তে ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়ছে আমিরাত অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার মিশন, যা বলছেন সৌম্য হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু প্রেসক্লাব পাইকগাছার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রতিটি গোলের বিপরীতে গাছ রোপণ: লালমনিরহাটে ‘অদম্য যুব সংগঠন’ এর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ভোরের কাগজ সাংবাদিকের পরিবারকে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে তিন প্রতিমন্ত্রীর আকর্ষিক পরিদর্শন বাবার আদর্শকে ধারণ করে চট্টগ্রামবাসীর ভাগ্যবদলে সবসময় পাশে থাকব:- ডা. শাহাদাত হোসেন কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধসের ৮ বছর, এখনো ঝুঁকিতে বসবাস করছে শতাধিক পরিবার মাদক বিবাদে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, নোয়াখালীতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ রূপগঞ্জের সরকারি মুড়াপাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়  ১২৫তম বর্ষপূর্তিতে উৎসবমুখর নবীন-প্রবীণের মিলনমেলা আনন্দ-উল্লাস আর গান-গল্প-আড্ডায় মাতলেন সবাই পাইকগাছায় স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী ধারণার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবৈধ ঝুকিপূর্ণ সংযোগ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল মধুপুরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত কুড়ালিয়া ইউনিয়নের জনগণের কাছে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন খালিদুজ্জামান শামীম মরহুম আলহাজ্ব আহমেদুর রহমানের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খতমে কোরআন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত সিডিএ চেয়ারম্যান হলেন ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন রায়পুরে বেকার তরুণদের স্বাবলম্বী করতে ফ্রি ফ্রিল্যান্সিং কোর্স। বখাটের এআই ভিডিওর অপপ্রচারে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর, মানববন্ধনে ফাঁসির দাবি ফুলবাড়ীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অটো রিকশায় গাঁজা পাচারকালে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আটক  খাল দখলমুক্ত ও নাগরিক সচেতনতাই জলাবদ্ধতা নিরসনের মূল চাবিকাঠি:- মেয়র ডা. শাহাদাত জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত লালমনিরহাটে উজ্জ্বল হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে খুনি আনন্দের ফাঁসি চেয়েছেন স্বজনরা প্রান্তিক মানুষের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতে চসিক কাজ করছে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের কলম ব্যবহার করতে হবে তরবারীর মতো – খোন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক বিউবো বিতরণ দক্ষিণ’র সহকারী প্রকৌশলীকে লাঞ্চিত ও মারধরের নিন্দায় এ্যাব চট্টগ্রাম

জঙ্গল সলিমপুরে ‘ইয়াসিন-ফারুক সাম্রাজ্য’! পাহাড়ের গুহায় অস্ত্র কারখানা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:51:29 pm, Tuesday, 26 May 2026
  • 23 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল ও জঙ্গল সলিমপুরকে ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) তথা ইয়াসিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার ঘটনার পর পাহাড়ি অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্তি, নেটওয়ার্ক ও তৎপরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সময়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ইয়াসিন ও ফারুক বাহিনীকে ঘিরে বিস্ফোরক সব অভিযোগ সামনে আনছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র‍্যাব মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ পাহাড়ে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় র‍্যাবের কিছু অসাবধানতা ও গোয়েন্দা নজরদারির দুর্বলতার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “তারা অতর্কিতভাবে হামলা করেছে। আমাদেরও কিছু অসাবধানতা ছিল। হয়তো আমরা তাদের কার্যক্রম সেই মাত্রায় মনিটরিং করতে পারিনি।

র‍্যাব ডিজি আরও বলেন, পাহাড়ে নতুন একটি ক্যাম্প স্থাপন করে স্থায়ীভাবে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। সেই অপ্রস্তুত ক্যাম্পকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়। তবে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমাদের পরাস্ত করার মতো শক্তি তাদের নেই। তারা আমাদের অসাবধানতার সুযোগ নিয়েছে মাত্র। কিন্তু তারা আর পার পাবে না। পাহাড় থেকে তাদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হবে।”

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর থেকে যৌথবাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব প্রধান। পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার কাজও চলছে।

এদিকে রুমা-থানচির ঘটনায় যখন সারাদেশে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ইয়াসিন ও ফারুক বাহিনীর ভয়ঙ্কর কার্যক্রম নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়ি গুহাগুলোকে গোপন অস্ত্র কারখানায় রূপান্তর করা হয়েছে। সেখানে দেশীয় অস্ত্র তৈরি থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্র মজুদের কাজ চলছে প্রকাশ্যেই।

অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসী ফারুকের কাছে একে-৪৭সহ অত্যাধুনিক বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এছাড়া ইয়াসিন ও ফারুক বাহিনীর সদস্যরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কথায় কথায় তারা বলে, “প্রশাসন গুনার টাইম নেই।” এসব বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি তৈরি করেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সরকারি পাহাড় ও কেও প্লট অবৈধভাবে দখল ও বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র। সেই টাকায় গড়ে উঠেছে বিশাল অস্ত্র নেটওয়ার্ক, সন্ত্রাসী বাহিনী এবং পাহাড়জুড়ে প্রভাব বলয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহু বছর ধরে এই বাহিনী পাহাড়ি অঞ্চলে একপ্রকার সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা চালিয়ে যাচ্ছে।
৪২ মামলার আসামি ইয়াসিনকে ঘিরে এলাকায় রয়েছে চরম আতঙ্ক। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, ভূমিদখল, অস্ত্র ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। একইভাবে টপ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ফারুকের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, তাদের বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করলেও রহস্যজনক কারণে বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো, ফারুক বাহিনীর হয়ে কাজ করছে চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকজন কথিত ভুয়া সাংবাদিক। স্থানীয়দের দাবি, এসব ব্যক্তি বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের তথ্য সংগ্রহ করে সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছে দেয়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালানোর আগেই সন্ত্রাসীরা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, ইয়াসিন, ফারুক ও রিপন বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক মানুষকে হত্যা করে আলীনগরের বিভিন্ন স্থানে মাটি চাপা দিয়ে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রশাসনের কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ মানুষ বলছেন, পুরো এলাকাজুড়ে এক ধরনের অঘোষিত সন্ত্রাসী শাসন চলছে। দোকানপাট, পরিবহন, পাহাড়ি জমি, নির্মাণকাজ, সবকিছুতেই চাঁদাবাজি ও নিয়ন্ত্রণ করছে এই বাহিনী। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ দোকানদার কোনো না কোনোভাবে ইয়াসিন-ফারুক বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ অস্বীকার করলে তাকে মারধর, গুম কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারেন না। পাহাড়ি এলাকাগুলো রাতের বেলায় পরিণত হয় সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে। মাঝরাতে অস্ত্রের মহড়া, মোটরসাইকেল শোডাউন ও গোপন বৈঠক নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক দেখানো অভিযান আর কতদিন চলবে? পাহাড়ে একের পর এক সন্ত্রাসী বাহিনীর উত্থান, অস্ত্র কারখানা, গুম-খুন ও দখলবাজির অভিযোগের পরও কেন স্থায়ী সমাধান আসছে না? সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কঠোর, দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অর্থের উৎস, অস্ত্রের সরবরাহ ও গোপন নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। একইসঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়াউর রহমান বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন:- অধ্যাপক নছরুল কদির

জঙ্গল সলিমপুরে ‘ইয়াসিন-ফারুক সাম্রাজ্য’! পাহাড়ের গুহায় অস্ত্র কারখানা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতির অভিযোগ

আপডেট সময় : 06:51:29 pm, Tuesday, 26 May 2026

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল ও জঙ্গল সলিমপুরকে ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) তথা ইয়াসিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার ঘটনার পর পাহাড়ি অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্তি, নেটওয়ার্ক ও তৎপরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সময়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ইয়াসিন ও ফারুক বাহিনীকে ঘিরে বিস্ফোরক সব অভিযোগ সামনে আনছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র‍্যাব মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ পাহাড়ে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় র‍্যাবের কিছু অসাবধানতা ও গোয়েন্দা নজরদারির দুর্বলতার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “তারা অতর্কিতভাবে হামলা করেছে। আমাদেরও কিছু অসাবধানতা ছিল। হয়তো আমরা তাদের কার্যক্রম সেই মাত্রায় মনিটরিং করতে পারিনি।

র‍্যাব ডিজি আরও বলেন, পাহাড়ে নতুন একটি ক্যাম্প স্থাপন করে স্থায়ীভাবে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। সেই অপ্রস্তুত ক্যাম্পকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়। তবে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমাদের পরাস্ত করার মতো শক্তি তাদের নেই। তারা আমাদের অসাবধানতার সুযোগ নিয়েছে মাত্র। কিন্তু তারা আর পার পাবে না। পাহাড় থেকে তাদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হবে।”

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর থেকে যৌথবাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব প্রধান। পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার কাজও চলছে।

এদিকে রুমা-থানচির ঘটনায় যখন সারাদেশে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ইয়াসিন ও ফারুক বাহিনীর ভয়ঙ্কর কার্যক্রম নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়ি গুহাগুলোকে গোপন অস্ত্র কারখানায় রূপান্তর করা হয়েছে। সেখানে দেশীয় অস্ত্র তৈরি থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্র মজুদের কাজ চলছে প্রকাশ্যেই।

অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসী ফারুকের কাছে একে-৪৭সহ অত্যাধুনিক বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এছাড়া ইয়াসিন ও ফারুক বাহিনীর সদস্যরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কথায় কথায় তারা বলে, “প্রশাসন গুনার টাইম নেই।” এসব বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি তৈরি করেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সরকারি পাহাড় ও কেও প্লট অবৈধভাবে দখল ও বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র। সেই টাকায় গড়ে উঠেছে বিশাল অস্ত্র নেটওয়ার্ক, সন্ত্রাসী বাহিনী এবং পাহাড়জুড়ে প্রভাব বলয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহু বছর ধরে এই বাহিনী পাহাড়ি অঞ্চলে একপ্রকার সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা চালিয়ে যাচ্ছে।
৪২ মামলার আসামি ইয়াসিনকে ঘিরে এলাকায় রয়েছে চরম আতঙ্ক। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, ভূমিদখল, অস্ত্র ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। একইভাবে টপ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ফারুকের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, তাদের বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করলেও রহস্যজনক কারণে বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো, ফারুক বাহিনীর হয়ে কাজ করছে চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকজন কথিত ভুয়া সাংবাদিক। স্থানীয়দের দাবি, এসব ব্যক্তি বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের তথ্য সংগ্রহ করে সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছে দেয়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালানোর আগেই সন্ত্রাসীরা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, ইয়াসিন, ফারুক ও রিপন বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক মানুষকে হত্যা করে আলীনগরের বিভিন্ন স্থানে মাটি চাপা দিয়ে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রশাসনের কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ মানুষ বলছেন, পুরো এলাকাজুড়ে এক ধরনের অঘোষিত সন্ত্রাসী শাসন চলছে। দোকানপাট, পরিবহন, পাহাড়ি জমি, নির্মাণকাজ, সবকিছুতেই চাঁদাবাজি ও নিয়ন্ত্রণ করছে এই বাহিনী। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ দোকানদার কোনো না কোনোভাবে ইয়াসিন-ফারুক বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ অস্বীকার করলে তাকে মারধর, গুম কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারেন না। পাহাড়ি এলাকাগুলো রাতের বেলায় পরিণত হয় সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে। মাঝরাতে অস্ত্রের মহড়া, মোটরসাইকেল শোডাউন ও গোপন বৈঠক নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক দেখানো অভিযান আর কতদিন চলবে? পাহাড়ে একের পর এক সন্ত্রাসী বাহিনীর উত্থান, অস্ত্র কারখানা, গুম-খুন ও দখলবাজির অভিযোগের পরও কেন স্থায়ী সমাধান আসছে না? সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কঠোর, দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অর্থের উৎস, অস্ত্রের সরবরাহ ও গোপন নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। একইসঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।