Dhaka , Saturday, 7 February 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ভোটকেন্দ্র দখলের যেকোনো অপচেষ্টায় শক্ত হাতে প্রতিরোধের আহ্বান জামায়াত আমিরের ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলায় চৌরঙ্গী বাজারে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে  রামগঞ্জে পুলিশের দাপট, বেড়া দিয়ে একমাস যাবত অবরুদ্ধ করে রেখেছে একটি পরিবার সকলকে সম্পৃক্ত করে  হাটহাজারীর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই:- মীর হেলাল। আলেম সমাজ বিএনপির পাশে, ব্যালেটেই মিলবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রমাণ: সালাহউদ্দিন আহমদ শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে যমুনার সামনে ছাত্র-জনতার অবস্থান উপকূলীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালিত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ফলক উদ্ধার ঈদগাঁওতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী আটক শ্রীপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রবাসী যুবকের মৃত্যু কলোনি’ নয় এখন থেকে ‘শহীদ শাহজাহান নিবাস’; ভাড়াটিয়া প্রার্থী দিয়ে লালমনিরহাটকে অপমান করা হয়েছে: আসাদুল হাবিব দুলু ইবিতে বর্ণাঢ্য সাইকেল র‍্যালি ও সমাবেশ ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারণ হবে আগামীর বাংলাদেশ ইনসাফ নাকি জুলুমের পথে চলবে: আল্লামা মামুনুল হক রূপগঞ্জে ধানের শীষের পক্ষে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ চন্দনাইশে দোহাজারীতে অবৈধ রোহিঙ্গা কলোনীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৩৪৫ জন নারী পুরুষ আটক বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে দেশ দুর্নীতিতে ৫বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে: সৈয়দ রেজাউল করীম আগামীকাল শুক্রবার ঝালকাঠি আসছেন জামায়াত আমির, অর্ধলক্ষাধিক মানুষের জনসমাগমের প্রস্তুতি আশুলিয়ায় ৭ হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল রায়: ৬ মৃত্যুদণ্ড, ৮ সাজা তুরাগ নদে শিল্পবর্জ্যের আগ্রাসন: বিষাক্ত পানিতে দুর্বল মাছ, সহজ শিকারে জেলেদের হিড়িক মধুপুরে বিএনপির এমপি প্রার্থী স্বপন ফকিরের গণমিছিল নবীগঞ্জে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইয়াবাসহ চারজন আটক নারায়ণগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় গণজোয়ার। কেউ ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে—মাও: আবুল কালাম আজাদ পাইকগাছা-কয়রায় জেলা ওলামা দলের ধানের শীষের জনসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ ফ্রান্স দূতাবাসের রাজনৈতিক কাউন্সিলরের সাথে মতবিনিময়কালে ডা. শাহাদাত হোসেন মধুপুরে গারোদের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতি দিলেন ডা. কাফি বরকল ইউনিয়নের কানাইমাদারী’র ছালেহ্ আহমেদ এর শেষ বিদায়” নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান:- বেতার–টেলিভিশন ও সংস্কৃতির কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সন্দ্বীপে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ২ দুস্কৃতিকারী আটক

চট্টগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার নাগরিক শোক সভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:44:26 pm, Saturday, 31 January 2026
  • 19 বার পড়া হয়েছে

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম ১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। মাত্র ১০-১১ বছর ক্ষমতায় থাকলেও প্রায় ৩০ বছর তিনি আপসহীনভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যখন অনেকেই আপস করেছেন কিংবা চাপ নিতে না পেরে সরে দাঁড়িয়েছেন, তখন বেগম খালেদা জিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও আপস করেননি। এই জায়গাতেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা।

তিনি শনিবার (৩১ জানুয়ারী) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউরী আলমাস সিনেমা সংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বেগম খালেদা জিয়ার কর্মময় রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি চারণ করে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, ড. সুকোমল বড়ুয়া, এস এম ফজলুল হক, একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, ইন্ডিয়ান সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজিব রন্জন।

বিশ্ব নেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা টেনে আমীর খসরু বলেন, মার্টিন লুথার কিং ও নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতারা যেভাবে জীবনের শেষ পর্যন্ত আপসহীন ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগও সেই উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা তাঁর জীবদ্দশায় সেই ত্যাগের গভীরতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে না পারলেও তাঁর মৃত্যুর পর বুঝতে পেরেছি—তিনি কতটা গভীরভাবে বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে জায়গা করে নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সারাজীবনের ত্যাগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যে মশাল জ্বালিয়ে গেছেন, সেই মশাল এখন তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন। এই মশাল অত্যন্ত মূল্যবান, যা আমাদের সবাইকে বহন করতে হবে।

আগামীর রাজনীতির পথ সহজ হবে না উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াই শেষ হয়নি। আমাদের শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে। সামনে ১২ তারিখ নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র চর্চার লড়াই আরও কঠিন হতে পারে। আমরা ভাবতে পারি—নির্বাচনের পর জীবন সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু জীবন সহজ হবে না, মোটেও সহজ হবে না। গণতন্ত্রের লড়াই এখানেই শেষ নয়। নির্বাচন পরবর্তী সময় আরও কঠিন হতে পারে। তাই গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে।

গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, প্রকৃত অর্থে তিনি দেশের জনগণের নেতা ছিলেন। বেগম জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেওয়া সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিই এটি প্রমাণ করে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে স্বৈরশাসকের মিথ্যা মামলায় জুলুম নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি ছিলেন আপোষহীন। গণতন্ত্র রক্ষায় তার সংগ্রামী মনোভাবের জন্যই তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

এস এম ফজলুল হক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মানবতার প্রতীক। তিনি দেশের মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করতেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দেশের বাইরে না গিয়ে এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি আজীবন অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন এবং দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল প্রশ্নাতীত।

ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কোনো নির্দিষ্ট দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সম্পদ। তিনি রাজনৈতিক জীবনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সবসময় মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ১৮ কোটি জনগণের নেত্রী।

আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এমন একজন নেত্রী, যাঁর জীবন ও আপসহীন সংগ্রাম কোটি মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে, অধিকার নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। ক্ষমতার মোহ, ভয় কিংবা চাপ কোনো কিছুর কাছেই তিনি নীতির প্রশ্নে আপস করেননি। বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী নন তিনি এদেশের নেতৃত্বের প্রতীক। প্রখ্যাত চিন্তাবিদ জন সি. ম্যাক্সওয়েল বলেছিলেন-নেতা বা নেত্রী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি পথ জানেন, নিজে সেই পথে চলেন এবং অন্যদেরও সেই পথ দেখান। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ঠিক এই কথারই যেন প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি শুধু গণতন্ত্রের কথা বলেননি গণতন্ত্রের পথেই নিজে হেঁটেছেন। তিনি শুধু সংগ্রামের ডাক দেননি -নিজেই সেই সংগ্রামের অগ্রভাগে দাঁড়িয়েছেন। বারবার নির্যাতন, কারাবরণ ও অসুস্থতার মধ্যেও তিনি মাথা নত করেননি। দেশ, দেশের মাটি, দেশের আপামর মানুষের মর্যাদার প্রশ্নে, স্বার্থের প্রশ্নে অটল, অবিচল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই চলতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ যে অপরিহার্য তিনি তা কর্ম ও উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন।

মেয়র বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। তিনি বাংলাদেশকে শুধু ভালোবাসেননি, বাংলাদেশকে নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছিলেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশ ত্যাগ না করে তিনি বলেছিলেন, ‘বাঁচতে হলে বাংলাদেশে বাঁচবো, মরতেও হলে বাংলাদেশেই। এই কথাটাই প্রমাণ করে তাঁর দেশপ্রেম কতটা গভীর ও আন্তরিক ছিল।

ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ় সংকল্প ও অটল বিশ্বাসের এক বিরল নেতৃত্বের প্রতীক। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিহাসে এক অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, প্রগতিশীল আদর্শ এবং জাতির সেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যদিও তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা অপূরণীয়, তবে তাঁর দর্শন চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি যে মূল্যবোধ ও কৌশলগত ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন, তা ভবিষ্যতেও ভারত ও বাংলাদেশের গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে যৌথ প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।

ডা. শাহনাজ মাবুদ শিলভীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন তুরুস্কের কনসাল জেনারেল সালাউদ্দীন কাশেম খান, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, ইস্ট ডেলটা ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দীন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম ৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও চট্টগ্রাম ৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম ৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম ১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাইদ আল নোমান, চট্টগ্রাম ক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক এস এম তারেক, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ড. জিন বোদি ভিক্ষু, চট্টগ্রাম নাগরিক ঐক্যের সভাপতি স্বপন মজুমদার, চমেক ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, বিএমএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, মহানগর পিপি এড. মফিজুল হক ভূইয়া, মা ও শিশু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. কামরুন্নাহার দস্তগীর, চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাজহারুল হক শাহ, থিয়েটার ইন্সটিটিউটের পরিচালক কবি অভীক ওসমান, সিজেকেএস সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মাওলানা এম এ কাশেম ইসলামাবাদী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, ডিসি সাউথ কবির আহমেদ, ইয়ুথ ভয়েস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার, এমইবি গ্রুপের পরিচালক শোয়েব রিয়াদ, উইমেন চেম্বারের পরিচালক বেবি হাসান, দক্ষিণ জেলা জন্মাষ্টমী পরিষদের সভাপতি দেবব্রত পাল দেবু, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার উছমান চৌধুরী, মহানগর এনসিপির সদস্য সাদিয়া আফরিন, কোরান তেলোয়াত করেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদর ইমাম মাওলানা আহমেদুল হক।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটকেন্দ্র দখলের যেকোনো অপচেষ্টায় শক্ত হাতে প্রতিরোধের আহ্বান জামায়াত আমিরের

চট্টগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার নাগরিক শোক সভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আপডেট সময় : 08:44:26 pm, Saturday, 31 January 2026

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম ১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। মাত্র ১০-১১ বছর ক্ষমতায় থাকলেও প্রায় ৩০ বছর তিনি আপসহীনভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যখন অনেকেই আপস করেছেন কিংবা চাপ নিতে না পেরে সরে দাঁড়িয়েছেন, তখন বেগম খালেদা জিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও আপস করেননি। এই জায়গাতেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা।

তিনি শনিবার (৩১ জানুয়ারী) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউরী আলমাস সিনেমা সংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বেগম খালেদা জিয়ার কর্মময় রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি চারণ করে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, ড. সুকোমল বড়ুয়া, এস এম ফজলুল হক, একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, ইন্ডিয়ান সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজিব রন্জন।

বিশ্ব নেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা টেনে আমীর খসরু বলেন, মার্টিন লুথার কিং ও নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতারা যেভাবে জীবনের শেষ পর্যন্ত আপসহীন ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগও সেই উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা তাঁর জীবদ্দশায় সেই ত্যাগের গভীরতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে না পারলেও তাঁর মৃত্যুর পর বুঝতে পেরেছি—তিনি কতটা গভীরভাবে বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে জায়গা করে নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সারাজীবনের ত্যাগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যে মশাল জ্বালিয়ে গেছেন, সেই মশাল এখন তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন। এই মশাল অত্যন্ত মূল্যবান, যা আমাদের সবাইকে বহন করতে হবে।

আগামীর রাজনীতির পথ সহজ হবে না উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াই শেষ হয়নি। আমাদের শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে। সামনে ১২ তারিখ নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র চর্চার লড়াই আরও কঠিন হতে পারে। আমরা ভাবতে পারি—নির্বাচনের পর জীবন সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু জীবন সহজ হবে না, মোটেও সহজ হবে না। গণতন্ত্রের লড়াই এখানেই শেষ নয়। নির্বাচন পরবর্তী সময় আরও কঠিন হতে পারে। তাই গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে।

গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, প্রকৃত অর্থে তিনি দেশের জনগণের নেতা ছিলেন। বেগম জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেওয়া সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিই এটি প্রমাণ করে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে স্বৈরশাসকের মিথ্যা মামলায় জুলুম নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি ছিলেন আপোষহীন। গণতন্ত্র রক্ষায় তার সংগ্রামী মনোভাবের জন্যই তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

এস এম ফজলুল হক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মানবতার প্রতীক। তিনি দেশের মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করতেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দেশের বাইরে না গিয়ে এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি আজীবন অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন এবং দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল প্রশ্নাতীত।

ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কোনো নির্দিষ্ট দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সম্পদ। তিনি রাজনৈতিক জীবনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সবসময় মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ১৮ কোটি জনগণের নেত্রী।

আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এমন একজন নেত্রী, যাঁর জীবন ও আপসহীন সংগ্রাম কোটি মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে, অধিকার নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। ক্ষমতার মোহ, ভয় কিংবা চাপ কোনো কিছুর কাছেই তিনি নীতির প্রশ্নে আপস করেননি। বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী নন তিনি এদেশের নেতৃত্বের প্রতীক। প্রখ্যাত চিন্তাবিদ জন সি. ম্যাক্সওয়েল বলেছিলেন-নেতা বা নেত্রী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি পথ জানেন, নিজে সেই পথে চলেন এবং অন্যদেরও সেই পথ দেখান। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ঠিক এই কথারই যেন প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি শুধু গণতন্ত্রের কথা বলেননি গণতন্ত্রের পথেই নিজে হেঁটেছেন। তিনি শুধু সংগ্রামের ডাক দেননি -নিজেই সেই সংগ্রামের অগ্রভাগে দাঁড়িয়েছেন। বারবার নির্যাতন, কারাবরণ ও অসুস্থতার মধ্যেও তিনি মাথা নত করেননি। দেশ, দেশের মাটি, দেশের আপামর মানুষের মর্যাদার প্রশ্নে, স্বার্থের প্রশ্নে অটল, অবিচল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই চলতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ যে অপরিহার্য তিনি তা কর্ম ও উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন।

মেয়র বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। তিনি বাংলাদেশকে শুধু ভালোবাসেননি, বাংলাদেশকে নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছিলেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশ ত্যাগ না করে তিনি বলেছিলেন, ‘বাঁচতে হলে বাংলাদেশে বাঁচবো, মরতেও হলে বাংলাদেশেই। এই কথাটাই প্রমাণ করে তাঁর দেশপ্রেম কতটা গভীর ও আন্তরিক ছিল।

ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ় সংকল্প ও অটল বিশ্বাসের এক বিরল নেতৃত্বের প্রতীক। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিহাসে এক অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, প্রগতিশীল আদর্শ এবং জাতির সেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যদিও তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা অপূরণীয়, তবে তাঁর দর্শন চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি যে মূল্যবোধ ও কৌশলগত ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন, তা ভবিষ্যতেও ভারত ও বাংলাদেশের গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে যৌথ প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।

ডা. শাহনাজ মাবুদ শিলভীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন তুরুস্কের কনসাল জেনারেল সালাউদ্দীন কাশেম খান, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, ইস্ট ডেলটা ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দীন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম ৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও চট্টগ্রাম ৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম ৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম ১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাইদ আল নোমান, চট্টগ্রাম ক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক এস এম তারেক, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ড. জিন বোদি ভিক্ষু, চট্টগ্রাম নাগরিক ঐক্যের সভাপতি স্বপন মজুমদার, চমেক ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, বিএমএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, মহানগর পিপি এড. মফিজুল হক ভূইয়া, মা ও শিশু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. কামরুন্নাহার দস্তগীর, চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাজহারুল হক শাহ, থিয়েটার ইন্সটিটিউটের পরিচালক কবি অভীক ওসমান, সিজেকেএস সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মাওলানা এম এ কাশেম ইসলামাবাদী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, ডিসি সাউথ কবির আহমেদ, ইয়ুথ ভয়েস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার, এমইবি গ্রুপের পরিচালক শোয়েব রিয়াদ, উইমেন চেম্বারের পরিচালক বেবি হাসান, দক্ষিণ জেলা জন্মাষ্টমী পরিষদের সভাপতি দেবব্রত পাল দেবু, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার উছমান চৌধুরী, মহানগর এনসিপির সদস্য সাদিয়া আফরিন, কোরান তেলোয়াত করেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদর ইমাম মাওলানা আহমেদুল হক।