Dhaka , Saturday, 6 December 2025
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রানাপাশা ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতির পদ স্থগিত ও বহিষ্কার চবি কেন্দ্রে ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন। রামু প্রেস ক্লাব এর জমকালো অভিষেক অনুষ্ঠান ও সংবর্ধনা প্রতিবেশীর ইঁদুর মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রবাসীর মৃত্যু নোবিপ্রবিতে  ৮শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘রান ফর ইউনিটি’ ম্যারাথন এপেক্স ক্লাব বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ঔষধ বিতরণ অনুষ্ঠিত ; ২২ ডাক্তারের সেবা পেলো ১০০০ রোগী  চৌমুহনীর গনিপুরের জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী সমাবেশ সম্পূর্ণ; যোগ্য প্রার্থীর নির্বাচিত করার অঙ্গীকার।  রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এমপি কিংবা মন্ত্রী হতে আসিনি সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে এসেছি: গোলাম আজম সৈকত সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে: গোলাম আজম সৈকত ‘সন্ত্রাস–নৈরাজ্য বরদাস্ত নয়’—বিএনপি প্রার্থী ঘোষণায় দৃঢ় প্রতিক্রিয়া ড. ফয়জুল হকের নিজ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া জানালেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক চসিকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলাচলের রাস্তায় ফের বর্জ্য ফেললো মহল্লা কমিটি স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নগরীর আগ্রাবাদে ওয়ান্ডারল্যান্ড এ্যামিউজমেন্ট পার্কের উদ্বোধন করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত খালেদা জিয়া কখনো কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করেননি- বাপ্পী পাইকগাছায় পাখি শিকার রোধে বনবিবি’র লিফলেট বিতরণ তিস্তার পাড়ে বিজয়োল্লাস: ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট মুক্ত—মুক্তাঞ্চল থেকে রণকৌশল ৬ নং সেক্টরের ফতুল্লায় ৯৯৯ কলের ভিত্তিতে অভিযান: পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ ৩ জন গ্রেফতার রামগঞ্জে আল-আসর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ন্যায় ও কল্যাণকর সমাজ গঠনে ইমামদের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কক্সবাজারে রুম টু রিডের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালন রূপগঞ্জে স্বাস্থ্য সহকারীদের ৬দফা দাবিতে কর্ম বিরতি মির্জাপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যবসায়ী আমিনুর নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহিত চরভদ্রাসন থানার ওসি রজিউল্লাহ খানের বদলি নিশ্চিত হয়েও রাতের টহল ও জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে অব্যাহত। চট্টগ্রামে পৌঁছলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সিরাজুল মামুনের গণমিছিল শ্রমিক সমাবেশে মাওলানা আবদুল জব্বারের আহ্বান “দেশের মানুষ এবার ইসলামি আন্দোলনকে ক্ষমতায় দেখতে চায়” ফতুল্লায় খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় বিএনপির গণ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সিদ্ধিরগঞ্জে সমাবেশ, গণমিছিল ও লিফলেট বিতরণ আজ ঘোড়াশাল ট্র্যাজেডি দিবস :নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে রূপগঞ্জে মোবাইল ও ফ্রি ফায়ার গেমস কেনার জন্য প্রবাসীর ছেলে ডাকাতির নাটক, ৩ কিশোর গ্রেপ্তার, মালামাল উদ্ধার রূপগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গণমিছিল অনুষ্ঠিত রামগঞ্জে বেগম জিয়ার মিলাদ মাহফিলে অঝোরে কাঁদলেন নেতাকর্মীরা

উন্নয়নের নামে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কোটি কোটি টাকা লুট ॥ জিম্মি দশায় ইউপি সদস্যরা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:10:04 pm, Monday, 3 November 2025
  • 50 বার পড়া হয়েছে

মাকসুদুল হোসেন তুষার,

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তাঘাট, কালবার্ট, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থানসহ বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে প্রকল্পের ৪০ থেকে ৫০ পার্সেন্ট টাকা লুট করেছে বলে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানে আব্দুর রাজ্জাক শিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে। মোটা অংকের পার্সেন্টিসের বিনিময়ে ওই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে শেল্টার দিচ্ছেন উপজেলার প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। মাসের পর মাস ইউনিয়ন পরিষদের টাকা লুটপাট চলতে থাকলে প্রতিবাদ আর ক্ষোভে ফুসে ওঠেছে ইউপি সদস্যরা। প্রতিবাদ করলে আওয়ামীলীগ ট্যাগ দিয়ে রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি দিয়ে জিম্মি করা হয় ইউপি সদস্যদের। এ বিষয়ে লুটপাটের বিরুদ্ধে তদন্তপুর্বক বিচার চেয়ে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক ও দুদকের বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য।

অভিযোগ থেকে জানাযায়, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী গাজীর মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। তাই ২০২০ সালে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে বিনা ভোটে আওয়ামীলীগ নেতা রাজ্জাক শিকদারকে ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান সিলেকশন করেন সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। তারপর থেকেই শুরু হয় রাজ্জাক শিকদারের স্বৈরাচারি কর্মকান্ড। গেল ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে আগষ্ট মাসে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন শুরু করেন রাজ্জাক শিকদার। তখন থেকেই শুরু করেন স্বেচ্ছাচারিতা, স্বৈরাচারিতা ও লুটপাট। একক সিদ্ধান্তে পরিচালনা শুরু করেন ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম। ইউপি সদস্যদের সাথে বৈরি আচরণ করা, চেয়ারম্যানের পালিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে ইউপি সদস্যদের উপর হামলা করা, পরবর্তীতে উল্টো মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা, প্রকল্পের অর্থ আত্বস্বাৎ করা যেন তার নিয়মিত রুটিন।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য হাসিবুর রহমান জানান, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নের জন্য উপজেলা থেকে পিআইসি (চওঈ) প্রজেক্ট থেকে প্রতি প্রকল্পে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। অথচ ২ লাখের মধ্যে ৫০% টাকা রেখে মেম্বারদের দেয়া হয় ১ লাখ টাকা। সেই ১ লাখ টাকার মধ্যেও কর্তন হয় ১০ হাজার টাকা সিকিউরিটি মানি। আর কাজের পুর্বে ইউএনও অফিসের কথা বলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজ্জাক শিকদার জমা নেন স্বাক্ষরিত ব্ল্যাঙ্ক চেক।

তিনি আরো জানান, গত বছরের নভেম্বরে (০৫-১১-২৪ইং) ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের মধ্যে প্রকল্প দেয়া হয়েছে মাত্র ২৫ লক্ষ টাকার এবং চলতি বছরের জুন মাসে (জুন ২০২৫ ইং) ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের মধ্যে প্রকল্প দেয়া হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা। বাকী ৫০ লক্ষ টাকার কোন তথ্য নেই। এছাড়াও চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারী ১% স্থাবর সম্পতির বরাদ্বকৃত ৪০ লক্ষ টাকার মধ্যে খরচ করা হয়েছে মাত্র ২৮ লক্ষ, গত জুন ২০২৫ইং তারিখে ৭০ লক্ষ টাকার প্রকল্পের মধ্যে কাজ করা হয়েছে ২৪ লক্ষ টাকার, বাকী ৪৮ লক্ষ টাকার কোন হিসাব নেই। এছাড়াও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), টিআর প্রকল্পের কাজেও ইউপি সদস্যদেও মতামতকে মুল্যায়ন করা হয় না।

উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৫০% বরাদ্দ দেয়া হয় কেবল ৮নং ওয়ার্ডে। পরিষদে ইউপি সদস্য, ইউপি সচিব থাকলেও চেয়ারম্যানই একক নিয়ন্ত্রনকর্তা। বিভিন্ন ভাতা কার্ড বিতরণে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বজনপ্রীতি ও অর্থনৈতিক লেনদেন রয়েছে। নেই মাসিক সভা, দেয়া হচ্ছে না ইউনিয়ন পরিষদের আয় ব্যায়ের হিসাব। বিজিএফ, ভিজিডি, টিসিপির তালিকা প্রদানের সময় ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে চেয়ারম্যানের ব্যাক্তি পছন্দে তালিকা প্রদান করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি সদস্য বলেন, পিআইসি প্রকল্পের ২ লাখ টাকার মধ্যে আমরা ১ লাখ টাকা পাই, তাও আবার কাজের আগে ব্ল্যাঙ্ক চেক দিতে হয়। বিগত সরকারের সময়ে ২ লাখ টাকার প্রকল্পে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পেতাম। বর্তমানে আগের চেয়েরও কম টাকা পাই। এই কম টাকায় রাস্তাঘাটের কাজ করতে গিয়ে জনগনের গালমন্দ খেতে হয়। পরিষদের কোন কাজে আমাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয় না।

দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা রমজান বলেন, প্রতিটি জন্ম নিবন্ধন ও মৃত্যু সনদের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে গড়িমসি করে হয়রানি করা হয়।

দুয়ারা এলাকার আনোয়ার বলেন টিসিবির একটা কার্ডের জন্য গিয়েছিলাম, আমরা গরিবরা পাইনা। অথচ যাদের দালান বাড়ি আছে এমন লোকেরে ঠিকই কার্ড দিছে।

দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পরিষদের কার্যক্রমে সেচ্ছাচারিতার বিষয়টি সঠিক নয়। এমনকি আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে প্রশাসক নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন পাঠিয়েছি ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রানাপাশা ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতির পদ স্থগিত ও বহিষ্কার

উন্নয়নের নামে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কোটি কোটি টাকা লুট ॥ জিম্মি দশায় ইউপি সদস্যরা

আপডেট সময় : 06:10:04 pm, Monday, 3 November 2025

মাকসুদুল হোসেন তুষার,

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তাঘাট, কালবার্ট, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থানসহ বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে প্রকল্পের ৪০ থেকে ৫০ পার্সেন্ট টাকা লুট করেছে বলে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানে আব্দুর রাজ্জাক শিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে। মোটা অংকের পার্সেন্টিসের বিনিময়ে ওই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে শেল্টার দিচ্ছেন উপজেলার প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। মাসের পর মাস ইউনিয়ন পরিষদের টাকা লুটপাট চলতে থাকলে প্রতিবাদ আর ক্ষোভে ফুসে ওঠেছে ইউপি সদস্যরা। প্রতিবাদ করলে আওয়ামীলীগ ট্যাগ দিয়ে রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি দিয়ে জিম্মি করা হয় ইউপি সদস্যদের। এ বিষয়ে লুটপাটের বিরুদ্ধে তদন্তপুর্বক বিচার চেয়ে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক ও দুদকের বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য।

অভিযোগ থেকে জানাযায়, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী গাজীর মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। তাই ২০২০ সালে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে বিনা ভোটে আওয়ামীলীগ নেতা রাজ্জাক শিকদারকে ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান সিলেকশন করেন সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। তারপর থেকেই শুরু হয় রাজ্জাক শিকদারের স্বৈরাচারি কর্মকান্ড। গেল ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে আগষ্ট মাসে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন শুরু করেন রাজ্জাক শিকদার। তখন থেকেই শুরু করেন স্বেচ্ছাচারিতা, স্বৈরাচারিতা ও লুটপাট। একক সিদ্ধান্তে পরিচালনা শুরু করেন ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম। ইউপি সদস্যদের সাথে বৈরি আচরণ করা, চেয়ারম্যানের পালিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে ইউপি সদস্যদের উপর হামলা করা, পরবর্তীতে উল্টো মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা, প্রকল্পের অর্থ আত্বস্বাৎ করা যেন তার নিয়মিত রুটিন।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য হাসিবুর রহমান জানান, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নের জন্য উপজেলা থেকে পিআইসি (চওঈ) প্রজেক্ট থেকে প্রতি প্রকল্পে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। অথচ ২ লাখের মধ্যে ৫০% টাকা রেখে মেম্বারদের দেয়া হয় ১ লাখ টাকা। সেই ১ লাখ টাকার মধ্যেও কর্তন হয় ১০ হাজার টাকা সিকিউরিটি মানি। আর কাজের পুর্বে ইউএনও অফিসের কথা বলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজ্জাক শিকদার জমা নেন স্বাক্ষরিত ব্ল্যাঙ্ক চেক।

তিনি আরো জানান, গত বছরের নভেম্বরে (০৫-১১-২৪ইং) ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের মধ্যে প্রকল্প দেয়া হয়েছে মাত্র ২৫ লক্ষ টাকার এবং চলতি বছরের জুন মাসে (জুন ২০২৫ ইং) ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের মধ্যে প্রকল্প দেয়া হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা। বাকী ৫০ লক্ষ টাকার কোন তথ্য নেই। এছাড়াও চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারী ১% স্থাবর সম্পতির বরাদ্বকৃত ৪০ লক্ষ টাকার মধ্যে খরচ করা হয়েছে মাত্র ২৮ লক্ষ, গত জুন ২০২৫ইং তারিখে ৭০ লক্ষ টাকার প্রকল্পের মধ্যে কাজ করা হয়েছে ২৪ লক্ষ টাকার, বাকী ৪৮ লক্ষ টাকার কোন হিসাব নেই। এছাড়াও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), টিআর প্রকল্পের কাজেও ইউপি সদস্যদেও মতামতকে মুল্যায়ন করা হয় না।

উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৫০% বরাদ্দ দেয়া হয় কেবল ৮নং ওয়ার্ডে। পরিষদে ইউপি সদস্য, ইউপি সচিব থাকলেও চেয়ারম্যানই একক নিয়ন্ত্রনকর্তা। বিভিন্ন ভাতা কার্ড বিতরণে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বজনপ্রীতি ও অর্থনৈতিক লেনদেন রয়েছে। নেই মাসিক সভা, দেয়া হচ্ছে না ইউনিয়ন পরিষদের আয় ব্যায়ের হিসাব। বিজিএফ, ভিজিডি, টিসিপির তালিকা প্রদানের সময় ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে চেয়ারম্যানের ব্যাক্তি পছন্দে তালিকা প্রদান করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি সদস্য বলেন, পিআইসি প্রকল্পের ২ লাখ টাকার মধ্যে আমরা ১ লাখ টাকা পাই, তাও আবার কাজের আগে ব্ল্যাঙ্ক চেক দিতে হয়। বিগত সরকারের সময়ে ২ লাখ টাকার প্রকল্পে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পেতাম। বর্তমানে আগের চেয়েরও কম টাকা পাই। এই কম টাকায় রাস্তাঘাটের কাজ করতে গিয়ে জনগনের গালমন্দ খেতে হয়। পরিষদের কোন কাজে আমাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয় না।

দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা রমজান বলেন, প্রতিটি জন্ম নিবন্ধন ও মৃত্যু সনদের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে গড়িমসি করে হয়রানি করা হয়।

দুয়ারা এলাকার আনোয়ার বলেন টিসিবির একটা কার্ডের জন্য গিয়েছিলাম, আমরা গরিবরা পাইনা। অথচ যাদের দালান বাড়ি আছে এমন লোকেরে ঠিকই কার্ড দিছে।

দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পরিষদের কার্যক্রমে সেচ্ছাচারিতার বিষয়টি সঠিক নয়। এমনকি আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে প্রশাসক নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন পাঠিয়েছি ।