Dhaka , Thursday, 12 February 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ঝালকাঠি-১ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের ওপর হামলা, রাজাপুরে ৫ কেন্দ্রে বিএনপির দখলের চেষ্টার অভিযোগ, আহত ৮, আটক ৪ হাতিয়াতে হামলায় সাংবাদিকসহ আহত ৩০ রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় স্বাধীনভাবে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার ৬১নং কেন্দ্রে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি। জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভোটার হিসেবে ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করলেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান নোয়াখেলেীতে নারী ভোটারদের উপছে পড়া ভিড় উখিয়ার বালুখালীতে সেনাবাহিনীর বিশেষ যৌথ অভিযান: অস্ত্র-গোলাবারুদসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য আটক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজারে প্রস্তুতি জোরদার: সদর ও রামু উপজেলা পরিষদ পরিদর্শনে ডিসি-এসপি স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কক্সবাজারে ব্রিফিং প্যারেড, বডি-ওর্ন ক্যামেরায় থাকবে নজরদারি নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীতে বিজিবির বিশেষ রোবাস্ট পেট্রোলিং, নিরাপত্তা জোরদার পাইকগাছায় নির্বাচনী ব্রিফিং অনুষ্ঠিত সাশ্রয়ী বাজার ব্যবস্থায় আরেক ধাপ এগিয়ে গেল আশ বাজার রামগঞ্জে হুমকির অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাত পাখা প্রার্থীর সাংবাদিক সম্মেলন র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম’র অধিনায়ক কর্তৃক নগরীর বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: সেনাবাহিনীর টহল-তল্লাশি জোরদার রাজধানীতে ভোটের স্বচ্ছ বাক্স বিতরণ, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি জোরদার বেতাগীতে ৪২ টি নির্বাচনী  কেন্দ্রের ১৩ টি ঝুঁকিপূর্ণ-উত্তেজনায় কাজীর হাট কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার, সাংবাদিককে ফাঁসানোর ভয়ংকর ষড়যন্ত্র নস্যাৎ নির্বাচন ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্ট নাশকতা রোধে যৌথবাহিনীর কঠোর অবস্থান রূপগঞ্জ পূর্বাচল উপশহরে অগ্নিকাণ্ডে ৫ দোকান পুড়ে ছাই পাইকগাছায় ৮৮ ভোট কেন্দ্র, ৪৮৮ বুথ; ৭৭ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন রামগঞ্জে এসএইচটিসি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সেলাই মেশিন বিতরণ রাজাপুরে বিএনপির বিরুদ্ধে জামায়াতের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন ভোটের ছুটিতে সাভার-আশুলিয়া ছাড়ছেন পোশাক শ্রমিকরা, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাস, কাবিখা টাকা ভাগ করে খাওয়ার জন্য নির্বাচনে আসি নাই: রফিকুল ইসলাম জামাল মধুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর  সংবাদ সম্মেলন নির্বাচনের নিরাপত্তা জোরদারে ঢাকায় যৌথবাহিনীর ফুট পেট্রোল মহড়া

আড়িয়াল খাঁ-নদের  ওপর সেতু না থাকায়  দুর্ভোগে দুই জেলার হাজারো মানুষ।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:07:24 pm, Monday, 6 January 2025
  • 383 বার পড়া হয়েছে

আড়িয়াল খাঁ-নদের  ওপর সেতু না থাকায়  দুর্ভোগে দুই জেলার হাজারো মানুষ।।

মামুন মিঞা

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি।

 

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর একটি সেতু না থাকায় চরাঞ্চলের চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলছে জীবন।

প্রতিদিন নৌকা কিংবা ট্রলারে করে ঝুঁকি নিয়ে খরস্রোতা নদ পাড়ি দিচ্ছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষসহ হাজারো মানুষ। সন্ধ্যার পর পারাপারের কোনো নৌকা-ট্রলার না থাকায়  সকাল পর্যন্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকেন বাসিন্দারা।

ফলে এ সময় জরুরি রোগীরা পড়েন মহাবিপাকে। অথচ নদের ওপর একটি সেতু হলে ঘুচে যাবে দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি। কিন্তু কবে হবে বহুল কাঙ্খিত স্বপ্নের সেতু,তা জানেন না এলাকাবাসী।

সদরপুর উপজেলার স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সদরপুর উপজেলা চরমানাইর ও চরনাসিরপুর ইউনিয়ন, ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়ন ও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার সন্যাসীর চর ইউনিয়ন থেকে দরগাবাজার ঘাট হয়ে ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলা সহ নানান জায়গায় যেতে পাড়ি দিতে হয় আড়িয়াল খাঁ নদ।

চরের হাজারো মানুষ ভোগান্তি থেকে রক্ষা  পেতে স্হানীয় প্রশাসনের কাছে  সেতু নির্মানের দাবি জানিয়েও কোনো কাজ হয় নি।

এখানে সেতু নির্মান হলে অতিরিক্ত ট্রলার ভাড়া না গুনেই সহজেই স্কুল-কলেজে যেতে পারবে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি এই অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপন্য বাজারজাত করতে ভোগান্তিতে পড়তে হবে না কৃষকদের।

এই অঞ্চলে সেতু না থাকার ফলে স্বাস্থ্য সেবা, আইনি সেবা, ফায়ার সার্ভিস সেবাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এখানকার মানুষ। এই ইউনিয়ন গুলো নদীর কারনে উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এখানে প্রতিঃনিয়ত বাড়ছে মাদক, জুয়া, চুরি ডাকাতিসহ অনেক অনৈতিক কর্মকান্ড।

দরগাবাজার ঘাটে সেতু হলেই সদরপুর ও ভাঙ্গা উপজেলার সাথে সরাসরি সড়ক পথে যুক্ত হতে পারবে এই চরাঞ্চলটি। শুধু তাই নয় এই অঞ্চলের সড়ক ব্যবহার করে সদরপুর ও ভাঙ্গার অনেক যাত্রী পদ্মাসেতু হয়ে কম সময়ে ঢাকা যাতায়াত করতে পারবে।

সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়নের ভ্যান চালক সালাউদ্দিন মুন্সি বলেন, এখানে সেতু হলে আমাদের রাস্তাঘাটও উন্নত হবে। আমরা চলাফেরা করে অনেক শান্তি পাবো। এলাকায় ফায়ারসার্ভিসের গাড়ি, পুলিশের গাড়ি, এম্বুলেন্সসহ যেকোন গাড়ি সহজে প্রবেশ করতে পারবে।

চর নাসিরপুর ইউনিয়নের কৃষক বারেক মৃধা বলেন, আমরা আমাদের উৎপাদিত কৃষি পন্য সময় মতো বাজারে নিতে পারিনা। অনেক টাকা ট্রলার ভাড়া ও ভ্যান ভাড়া দিয়ে বাজারে নিতে হয়। এতে করে আমরা আমাদের পন্যের যে দাম পাই তাতে আমাদের পোশায় না। একটা সেতু হলে কতো সহজে আমরা বাজারে যেতে পারতাম।

ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের আছিরন নেছা বলেন,”একবার গভীর রাতের আমার এক ভাবীর প্রসব বেদনা উঠেছিলো। সেই রাতে ঘাটে গিয়ে ট্রলার পাইনি। কতো কষ্ট করেছি সেই রাতে। পরে ভোরবেলা ট্রলার চালক কে খবর দিয়ে এনে তাকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে”। ভাগ্য ভালো সে ভাবি বা তার সন্তান মারা যায়নি।

মাদারীপুর শিবচর উপজেলার সন্যাসীর চর ইউনিয়নের বাসিন্দা আকিদুল হক বলেন, আমরা এই ঘাট দিয়ে ভাঙ্গা ও সদরপুরে নানান কাজে যাই। একটু রাত হলেই ট্রলার পাইনা। এমনও হয়েছে রাতে ট্রলার না পেয়ে আশেপাশের কোন বাড়িতে মিনতি করে রাত থাকতে হয়েছে। এই এলাকায় সেতু না থাকায় পুলিশ আসতে পারে না। তাই এই এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও মাদক অনেক বেড়ে গিয়েছে।

সেতু নিয়ে কথা বলেন দুই স্কুল শিক্ষার্থী হাসিবুল ও রুনা। তারা বলেন,”পরিক্ষার সময় ট্রলার মিস হয়ে যাওয়ায় আমরা সময় মতো পরিক্ষা দিতে পারি না। একটু বৃষ্টি হলেই ঘাটে ট্রলার না থাকায় স্কুলেও যেতে পারি না। এতে করে লেখাপড়ায় আমরা পিছিয়ে পড়ছি”।

ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর খান বলেন,”এখানে সেতুর অভাবে যারা অসুস্থ রোগী তারা ঠিক ভাবে তাদের চিকিৎসা সেবাটা পায় না। আমি মনে করে আমাদের এই সদরপুর থানার দুইটি ইউনিয়ন চর নাসিরপুর ও চর মানাইরসহ ভাঙ্গা থানায় আমার নির্বাচনীয় এলাকা নাসিরাবাদের কিছু অংশ মিলে সকলের প্রানের দাবি এই সেতুটা। দরগাবাজারে এই সেতুটা হলে জনগন কে দূর্ভোগ পোহাতে হবে না। আমার পক্ষ থেকে জোড়ালো দাবি যাতে কর্তৃপক্ষ এই দিকে একটু নজর দিয়ে জনগণের কষ্ট লাঘব করতে সক্ষম হয়।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রকৌলশী মো: আব্দুল মমিন বলেন,” আমাদের পরিকল্পনা আছে- যদি আমাদের কোন প্রকল্প বা ডিপিপির মাধ্যমে এটা অনুমোদিত হয় তবে আগামীতে এই সেতুটা আমরা এলজিইডির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার সদাসর্বদা চেষ্টা করবো। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে উর্ধ্বতনদের সাথে আলোচনা করেছি। আশা করছি শীঘ্রই ভালো কোন সংবাদ জনসাধারণ পাবে”।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠি-১ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের ওপর হামলা, রাজাপুরে ৫ কেন্দ্রে বিএনপির দখলের চেষ্টার অভিযোগ, আহত ৮, আটক ৪

আড়িয়াল খাঁ-নদের  ওপর সেতু না থাকায়  দুর্ভোগে দুই জেলার হাজারো মানুষ।।

আপডেট সময় : 05:07:24 pm, Monday, 6 January 2025

মামুন মিঞা

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি।

 

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর একটি সেতু না থাকায় চরাঞ্চলের চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলছে জীবন।

প্রতিদিন নৌকা কিংবা ট্রলারে করে ঝুঁকি নিয়ে খরস্রোতা নদ পাড়ি দিচ্ছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষসহ হাজারো মানুষ। সন্ধ্যার পর পারাপারের কোনো নৌকা-ট্রলার না থাকায়  সকাল পর্যন্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকেন বাসিন্দারা।

ফলে এ সময় জরুরি রোগীরা পড়েন মহাবিপাকে। অথচ নদের ওপর একটি সেতু হলে ঘুচে যাবে দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি। কিন্তু কবে হবে বহুল কাঙ্খিত স্বপ্নের সেতু,তা জানেন না এলাকাবাসী।

সদরপুর উপজেলার স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সদরপুর উপজেলা চরমানাইর ও চরনাসিরপুর ইউনিয়ন, ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়ন ও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার সন্যাসীর চর ইউনিয়ন থেকে দরগাবাজার ঘাট হয়ে ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলা সহ নানান জায়গায় যেতে পাড়ি দিতে হয় আড়িয়াল খাঁ নদ।

চরের হাজারো মানুষ ভোগান্তি থেকে রক্ষা  পেতে স্হানীয় প্রশাসনের কাছে  সেতু নির্মানের দাবি জানিয়েও কোনো কাজ হয় নি।

এখানে সেতু নির্মান হলে অতিরিক্ত ট্রলার ভাড়া না গুনেই সহজেই স্কুল-কলেজে যেতে পারবে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি এই অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপন্য বাজারজাত করতে ভোগান্তিতে পড়তে হবে না কৃষকদের।

এই অঞ্চলে সেতু না থাকার ফলে স্বাস্থ্য সেবা, আইনি সেবা, ফায়ার সার্ভিস সেবাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এখানকার মানুষ। এই ইউনিয়ন গুলো নদীর কারনে উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এখানে প্রতিঃনিয়ত বাড়ছে মাদক, জুয়া, চুরি ডাকাতিসহ অনেক অনৈতিক কর্মকান্ড।

দরগাবাজার ঘাটে সেতু হলেই সদরপুর ও ভাঙ্গা উপজেলার সাথে সরাসরি সড়ক পথে যুক্ত হতে পারবে এই চরাঞ্চলটি। শুধু তাই নয় এই অঞ্চলের সড়ক ব্যবহার করে সদরপুর ও ভাঙ্গার অনেক যাত্রী পদ্মাসেতু হয়ে কম সময়ে ঢাকা যাতায়াত করতে পারবে।

সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়নের ভ্যান চালক সালাউদ্দিন মুন্সি বলেন, এখানে সেতু হলে আমাদের রাস্তাঘাটও উন্নত হবে। আমরা চলাফেরা করে অনেক শান্তি পাবো। এলাকায় ফায়ারসার্ভিসের গাড়ি, পুলিশের গাড়ি, এম্বুলেন্সসহ যেকোন গাড়ি সহজে প্রবেশ করতে পারবে।

চর নাসিরপুর ইউনিয়নের কৃষক বারেক মৃধা বলেন, আমরা আমাদের উৎপাদিত কৃষি পন্য সময় মতো বাজারে নিতে পারিনা। অনেক টাকা ট্রলার ভাড়া ও ভ্যান ভাড়া দিয়ে বাজারে নিতে হয়। এতে করে আমরা আমাদের পন্যের যে দাম পাই তাতে আমাদের পোশায় না। একটা সেতু হলে কতো সহজে আমরা বাজারে যেতে পারতাম।

ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের আছিরন নেছা বলেন,”একবার গভীর রাতের আমার এক ভাবীর প্রসব বেদনা উঠেছিলো। সেই রাতে ঘাটে গিয়ে ট্রলার পাইনি। কতো কষ্ট করেছি সেই রাতে। পরে ভোরবেলা ট্রলার চালক কে খবর দিয়ে এনে তাকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে”। ভাগ্য ভালো সে ভাবি বা তার সন্তান মারা যায়নি।

মাদারীপুর শিবচর উপজেলার সন্যাসীর চর ইউনিয়নের বাসিন্দা আকিদুল হক বলেন, আমরা এই ঘাট দিয়ে ভাঙ্গা ও সদরপুরে নানান কাজে যাই। একটু রাত হলেই ট্রলার পাইনা। এমনও হয়েছে রাতে ট্রলার না পেয়ে আশেপাশের কোন বাড়িতে মিনতি করে রাত থাকতে হয়েছে। এই এলাকায় সেতু না থাকায় পুলিশ আসতে পারে না। তাই এই এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও মাদক অনেক বেড়ে গিয়েছে।

সেতু নিয়ে কথা বলেন দুই স্কুল শিক্ষার্থী হাসিবুল ও রুনা। তারা বলেন,”পরিক্ষার সময় ট্রলার মিস হয়ে যাওয়ায় আমরা সময় মতো পরিক্ষা দিতে পারি না। একটু বৃষ্টি হলেই ঘাটে ট্রলার না থাকায় স্কুলেও যেতে পারি না। এতে করে লেখাপড়ায় আমরা পিছিয়ে পড়ছি”।

ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর খান বলেন,”এখানে সেতুর অভাবে যারা অসুস্থ রোগী তারা ঠিক ভাবে তাদের চিকিৎসা সেবাটা পায় না। আমি মনে করে আমাদের এই সদরপুর থানার দুইটি ইউনিয়ন চর নাসিরপুর ও চর মানাইরসহ ভাঙ্গা থানায় আমার নির্বাচনীয় এলাকা নাসিরাবাদের কিছু অংশ মিলে সকলের প্রানের দাবি এই সেতুটা। দরগাবাজারে এই সেতুটা হলে জনগন কে দূর্ভোগ পোহাতে হবে না। আমার পক্ষ থেকে জোড়ালো দাবি যাতে কর্তৃপক্ষ এই দিকে একটু নজর দিয়ে জনগণের কষ্ট লাঘব করতে সক্ষম হয়।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রকৌলশী মো: আব্দুল মমিন বলেন,” আমাদের পরিকল্পনা আছে- যদি আমাদের কোন প্রকল্প বা ডিপিপির মাধ্যমে এটা অনুমোদিত হয় তবে আগামীতে এই সেতুটা আমরা এলজিইডির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার সদাসর্বদা চেষ্টা করবো। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে উর্ধ্বতনদের সাথে আলোচনা করেছি। আশা করছি শীঘ্রই ভালো কোন সংবাদ জনসাধারণ পাবে”।