
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের একটি পরিবার প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার প্রায় ৩০টি পরিবার। পথটি কেটে ফেলে সেখানে সুপারি গাছ লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার পরাজী বাড়ির দুই ভাই তসলিম পরাজী ও ইসমাইল পরাজীর বিরুদ্ধে। পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়িগুলোর বাসিন্দারা তাদের ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।
দীর্ঘদিনের পথে বাধা, অবরুদ্ধ জীবন
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন হাবিব, শাহাদাত মিজি, আমানত উল্যা, মেহেদী হাসান, জসিম মিজি, রুনা বেগমসহ প্রায় ৩০টি পরিবারের সদস্যরা।
তারা সকলে অভিযোগ করে জানান, তারা প্রায় ষাট বছর ধরে এই পথটি ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি নূর মোহাম্মদের দুই ছেলে তসলিম পরাজী ও ইসমাইল পরাজী সম্পূর্ণ পথটি কেটে সেখানে সুপারি গাছের চারা রোপণ করেছেন। এর ফলে জনসাধারণের যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি কোনো অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে, মরদেহ বের করা বা সৎকারের কাজেও বড় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি, স্কুলগামী ছোট ছোট শিশুরাও নিয়মিতভাবে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বাধার মুখে পড়ছে।
বাড়িটির বাসিন্দা হাবিব চৌকিদার নামে এক ভুক্তভোগী আরও গুরুতর অভিযোগ করে বলেন, রাস্তা বন্ধ করার প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তরা তাকে অহেতুক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়। সেই কারণে তাকে দীর্ঘ ষোলো দিন জেল হাজতেও থাকতে হয়েছে।
অভিযুক্তদের দাবি ও প্রস্তাব
চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত তসলিম পরাজী ও ইসমাইল পরাজী তাদের নিজস্ব দাবি তুলে ধরেন। তারা বলেন, “পথটি আমাদের ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে গেছে। যেহেতু এটি আমাদের নিজস্ব জমি, তাই আমরা সেটি কেটে ফেলেছি।”
তবে তারা পথ চাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তারা নিজেরাও চান যে চলাচলের জন্য একটি পথ থাকুক। তাই তারা পাশের জমির মালিকের সঙ্গে সমন্বয় করে, দু’পক্ষের জমি সমানভাবে ব্যবহার করে একটি নতুন পথ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তারা মনে করেন, অবিলম্বে জনগণের হাঁটার এই পথ পুনরায় খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও কঠিন ও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

























